somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের প্রতি সমবেদনা এবং আমার অরণ্যরোদনের গল্প।

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ যে বাংলাদেশ ক্রিকেটার জাগরণ, একটি টিকেটের জন্য ঘুমহীন, খাদ্যহীন, ক্লান্তিকর রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা ও আত্মত্যাগ। ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের প্রতি ভালবাসা সব কিছুর জন্য সবচে বড় অবদান অবশ্যই আমাদের সাবে ক্রিকেটারদের। তারাই যুগযুগ ধরে ধীরে ধীরে শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আমাদের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে গেছে অন্তর্জাতিক পর্যায়ে। ক্রিকেট আমাদের আন্তর্জাতিক ভাবে যত উঁচুতে নিয়ে গিয়েছে বোধ করি এর ধারের কাছেও আমরা আর কোন দিক দিয়ে পৌছাতে পারিনি। অথচ এই পথ চলা মোটেই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন হারে অনেক মন খারাপ হয়। অনেক সময় ক্রিকেটারদের গালি দিতেও দ্বিধা করি না। কিন্তু ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের প্রতি ভালবাসা সবসময় অটুট থাকে। সন্তান পরীক্ষায় ফেল করলে মা-বাবা যেমন বকাঝকা করে এটা তেমনই। বকাঝকা করি ঠিকই কিন্তু ভালবাসা থাকে অটুট।

কোন ম্যাচ হারার পর মনখারাপ করে যখন তাদের মনে মনে দুটো গালি দিয়ে ফেলি এরপর মুহুর্তে আবার নিজেদের অনেক গর্বিতও মনে হয়। মনে হয় এত অপ্রতুল ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের তো এতদূর আসারই কথা ছিল না। বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক বড় বড় দলগুলোর সাথে খেলছে এটাই তো অনেক বড় গর্বের বিষয়। হার জিত পরে, যদি খেলারই সুযোগ না পেত তখন কি হতো!

আবার মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের ক্রিকেটারেরা বিশ্বের সবচে সেরা ক্রিকেটার। কারণ তারা তাদের সীমিত সুযোগ সুবিধা নিয়ে যেভাবে অন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধীরে ধীরে নিজেদের ও বাংলাদেশের ক্রিকেটকে মেলে ধরছে এর কোন তুলনা হয় না। আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটারেরা তাদের নিজেদের গড়ে তোলার যে সুযোগ সুবিধা গুলো পায় অন্য দেশের ক্রিকেট ক্লাব গুলোও তার থেকে ঢের বেশী সুবিধা পেয়ে থাকে। আমাদের ক্রিকেটারেরা আন্তজার্তিক পর্যায়ে মেলে ধরার মতো প্র্যাকটিসের সুবিধা জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার আগে পায় না। কারণ আমাদের ক্লাব পর্যায়ের ক্রিকেট এখনো ডাইনোসর যুগে পড়ে আছে। তাদের না আছে কোন আর্ন্তজাতিক মানের জিম না আছে আন্তর্জাতিক মানের মাঠ। আমাদের ক্রিকেটাররা কখনোই ঘরোয়া পর্যায়ের খেলাগুলো খেলে নিজেকে আন্তজার্তিক পর্যায়ের জন্য গড়ে তুলতে পারে না। জাতীয় দলে এসে জাতীয় দলের জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। আমাদের মাশরাফি যখন আর্ন্তজাতিক ম্যাচ খেলেতে নামে তখন তার নামের পাশে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের সংখ্যা থাকে শূণ্য। অথচ অন্য দেশের ক্রিকেটারেরা আগে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে নিজেকে খেলার উপযুক্ত প্রমান করে আসতে হয়।

অথচ এত অপ্রতুল সুযোগ সুবিধাকে জয় করে যারা আমাদের আর্ন্তজাতিক পর্যয়ে তুলে ধরেছে, নিয়ে গেছে উচ্চতার শিখরে তাদের বিসিবি যে ভাবে অপমান করল তা অকল্পনীয়, অবিশ্বাস! মানি, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে সকল সাবেক ক্রিকেটারকে মাঠে বসে খেলা দেখার ব্যবস্থা করে দেয়া বিসিবির জন্য সহজ ছিল না, কিন্তু তাই বলে মাত্র কয়েকজন সাবেক অধিনায়ককে তারা অন্তত একটি ম্যাচের টিকেট দিতে পারল না!! বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তারা এই পর্যায়ে নিয়ে গেল যে নায়কেরা তাদের বিসিবি এতবড় অপমান করতে পারল? হাবিবুল বাসার, খালেদ মাসুদ, খালেদ মাহমুদদের মাঠে বসে খেলা দেখার কোন অধিকার নাই অথচ জেলা পর্যায়ের নামসর্বস্ব ক্রিকেট সংগঠকেরা স্ত্রী সন্তান নিয়ে পা ছড়ি মাঠে বসে খেলা দেখছে এটা আমাদের সাবেক ক্রিকেটারদের দেখতে হবে, আমাদের দেখতে হবে?? অবিশ্বাস্য!!

এটিএন বাংলায় যখন খালেদ মাহমুদ ও হাবিবুল বাসারকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলো তখন তাদের দুচোখে টলটলে পানি আমি কোনদিন ভুলতে পারব না। খালেদ মাহমুদ বলল তাঁকে তার পরিচিত অনেকেই টিকেটের জন্য ফোন করেছে। কিন্তু তিনি কাউকে কিছুতেই বুঝাতে পারেননি যে তিনি নিজেই কোন টিকেট পাননি। একজন সাবেক অধিনায়ক খেলা দেখার টিকেট পাননি এটা আসলেই বিশ্বাস করার মতো কথা নয়।

আমাদের মহানায়কদের এভাবে অপমান করা মানে আমাদের ক্রিকেটকে অপমান করা, চৌদ্দ কোটি মানুষকে অপমান করা। এ অপমান আমাদের সকলের। আমাদের মহানায়কদের কাছে আমরা লজ্জিত। সমবেদনা জানানোর ভাষাও আমাদের নাই। হে মহানায়কেরা, তোমরা আমাদের এই সংকীর্ণতাকে ক্ষমা করো। আমাদের মাথামোটা ক্রিকেট কর্তারা তোমাদের মনে না রাখুক, আমাদের মনের মনি কোঠায় তোমরা চিরকাল থাকবে। আমাদের ১৪ কোটি মানুষের ভালবাসা তোমাদের সাথে সব সময় আছে, থাকবে।

যেখানে আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার হাবিবুল বাসারেরা মাঠে বসে খেলা দেখতে পারে না তখন আমাদের নিজেদের মাঠে বসে খেলা দেখতে না পারার গল্প বলা অবান্তর। ২০০৪ সালে একটি মাটির ব্যাংক কিনেছিলাম। উদ্দেশ্য এই টাকা দিয়ে বিশ্বকাপের খেলা দেখবো। এটা ছিল শুধুই একটি প্রতীকি ব্যপার। বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলাম বিশ্বকাপ খেলা মাঠে বসে দেখব বলে। আশায় গুড়েবালি। প্রথমদিন লাইনে দাঁড়াতে পারিনি শারিরিক অসুস্থতার কারণে। পরের দিন দীর্ঘ প্রায় ৩০ ঘন্টা নির্ঘুম, খাদ্যহীন দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে থেকে ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসার গল্প নাহয় নাই বললাম। অথচ চোখের সামনে দেখতে পেয়েছি কোন কষ্ট ছাড়া টিকেট পাওয়া কিছু মানুষের উল্লাস। শুনেছি অনেক হোমরাচোমরার বাসায় টিকেট পৌছে গেছে। টিকেটের পা গজিয়েছে!
শেষ মুর্হূতের ধস্তাধস্তি খেয়ে বাসায় আশার পর কেন জানি খুব শ্বাস কষ্টে ভুগছি। মনে হচ্ছে ফুসফুস ঠিক মতো বাতাস পাচ্ছে না। অনেক কষ্ট। কিন্তু মনকে কে তো বুঝাতে পারবো যে, আমি চেষ্টা করেছি, পারিনি। হয়তো এ জীবনে দেশের মাটিতে আর বিশ্বকাপ দেখা হবে না। মানুষ কদিন বাঁচে?

নাই পারলাম মাঠে বসে আমাদের সোনার ছেলেদের উৎসাহ যোগাতে। তাদের জন্য দূর থেকে আশির্বাদ। তোমরাই পারো আমাদের গৌরবান্বিত করতে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১২:১৭
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×