ব্লগার অর্ফিয়াস এর অনুরোধে একটি শব্দ হেডলাইন থেকে সরিয়ে দিলাম। তবে লেখার মধ্যে রেখে দিলাম। বিচার আপনাদের হাতে।
সাধারণত আমাদের দেশের নির্বাচনগুলোতে পশ্চিমাদের, বিশেষ করে আমেরিকার একটি বড় ভূমিকা থাকে। আর নির্বাচনের আগেই হাসিনা-খালেদারা আমেরিকাকে নিজেদের পক্ষে রাখার জন্য কে কত বেশী ভাল ''ব্লো জব'' দিতে পারে তার প্রতিযোগীতায় নামে। তারা ক্ষমতায় এলে আমেরিকাকে কে কত বেশী সুযোগ সুবিধা দিবে সেই প্রতিযোগীতায় নামে। এরা যদি বলে আমরা ক্ষমতায় এলে তোমাদের এক লক্ষ ঘনফুট গ্যাস দেব তখন ওরা গিয়ে বলে আমাদের সুযোগ দিলে তবে আমরা দেয় লক্ষ ঘনফুট গ্যাস দেব। দেশের স্বার্থের গুষ্টি মারো, ক্ষমতা চাই।
আমেরিকাও ঠিক এভাবে সুবিধাটা কাজে লাগায়। একারণে একদল টানা দু-মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে পারে না। এখানেই গঠনতন্ত্রের মজা। একারণে সারা দুনিয়ায় তারা (আমেরিকানরা) গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ করছে। কারণ তারা জানে গনতন্ত্র মানে ক্ষমতার জন্য কয়েকটি দলের কাড়াকাড়ি। আর সেই ক্ষমতা পাওয়ার জন্য দলগুলো আমেরিকাকে ব্লো জব দিতে যাবে। তারা যে দলের থেকে বেশী আরামদায়ক ব্লো জব পাবে তাদের ক্ষমতায় বসাবে। প্রতি নির্বাচনের আগে তারা দলগুলোর থেকে সুবিধার পাওয়ার জন্য দরকষাকষি করার সুযোগ পায়। সুতরাং সারা দুনিয়ায় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করো। সাদ্দামকে সরাও, গাদ্দাফিকে সরাও, হোসনি মোবারককে সরাও..... এই দেশগুলোতে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করো। কয়েকটি দলের মধ্যে ক্ষমতার জন্য কাড়াকাড়ি লাগিয়ে দাও। তারপর দেখ তেল গ্যাস কি করে ফরফর করে আমেরিকায় ঢুকে পড়ে।
সম্প্রতি আমেরিকার সাথে ইউনুস ইস্যুতে হাসিনার সম্পর্ক তেমন ভাল না। ঠিক এই সুযোগে খালেদা বগল বাজাতে বাজাতে আমেরিকা গিয়ে ওবামাকে চমৎকার একটি ''ব্লো জব'' দিয়ে আসল। দারুন প্রশান্তিময়। খালেদা জানে যে, শুধু আমেরিকাকে ''ব্লো জব'' দিয়ে লাভ নেই। ভারতও এখন একটি বড় ফ্যাক্টর। সুতরাং কিছু কথা দিয়ে মনমোহনকেও হালকা ব্লো জব দিয়ে দিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে অচিরেই স্বশরীরে ব্লো জব দিতে তিনি ভারত যাবে।
অতীতের মতো হয়তো সামনের নির্বাচনেও আমরা নুতন সরকার ক্ষমতায় পাবো। আমেরিকাও গণতন্ত্রের মজা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

