মাসুদ রানা।
বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের
এক দুর্দান্ত, দুঃসাহসী স্পাই
গোপন মিশন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশ-দেশান্তরে।
বিচিত্র তার জীবন, অদ্ভুত রহস্যময় তার গতিবিধি।
কোমলে কঠোরে মেশানো নিষ্ঠুর সুন্দর এক অন্তর।
একা।
টানে সবাইকে, কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না।
কোথাও অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার দেখলে রুখে দাঁড়ায়।
পদে পদে তার বিপদ-শিহরন-ভয় আর মৃত্যুর হাতছানি।
আসুন, এই দুর্ধর্ষ, চিরনবীন যুবকটির সঙ্গে পরিচিত হই।
সীমিত গণ্ডিবদ্ধ জীবনের একঘেয়েমি থেকে
একটানে তুলে নিয়ে যাবে ও আমাদের
স্বপ্নের এক আশ্চর্য মায়াবী জগতে।
আপনি আমন্ত্রিত
ধন্যবাদ।
যখন আমার ঠাকুর মার ঝুলি পড়ার বয়স অথবা বড়জোর তিন গোয়েন্দা ঠিক তখনই আমি ''বড়দের বই'' মাসুদ রানা পড়ে ফেলেছিলাম। এ আমার এক বিরাট ''সৌভাগ্য''। তখন আমি ক্লাস ফোরে পড়ি। আমার মেঝো ভাই একদিন বাড়ি আসার সময় হাতে করে মাসুদ রানার ''শান্তি দূত'' বইটির একটি খন্ড নিয়ে আসে। এ এক বিরাট ও বিরল ঘটনা! কারণ আমার বাড়িতে পাঠ্য বইয়ের বাইরে পত্রিকা, ম্যাগাজিন ছাড়া অন্য কিছু পড়ার চল ছিল না। চল ছিলনা মানে পড়তে পছন্দ করত না। আমার ভাই বোনেরা জীবনে কখনও কোন উপন্যাস পড়ে শেষ করেছিল কিনা এটা ব্যাপক গবেষণার বিষয়। যদিও তাদের না পড়াটা আমি পরে সুদে আসলে পুষিয়ে দিয়েছি।
যা বলছিলাম, আমার আবার পাঠ্যবই ছিল দু'চোখের বিষ। কিন্তু ছোট থেকেই ''আউট'' বইয়ের প্রতি ছিল প্রচন্ড ঝোঁক। মাসুদ রানা বইটি হাতে পেয়ে প্রথমে অবাক দৃষ্টিতে নেয়ে ছেড়ে দেখলাম। দেখে মনে হলো এটা আবার কেমনতর বই? তখন পর্যন্ত ঐরকম সাইজ, ঐরকম প্রচ্ছদের বই আমার কাছে অপরিচিত ছিল। এরপর বইটি উল্টো মাসুদ রানার পরিচিত পড়ে বেশ রোমাঞ্চিত বোধ করলাম। যদিও কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, স্পাই ইত্যাদি শব্দগুলো তখনও আমার কাছে অপরিচিত ছিল। এরপর বইটি পড়া শুরু করলাম। পড়তে বেশ ভালই লাগছিল যদিও ৯০ ভাগ কিছুই বুঝিনি। পড়ার পর মাসুদ রানার একটি ভুত মাথায় ঢুকে গেল। যদিও এরপর অনেক বছর আর মাসুদ রানা পড়া হয়নি। হবে কি করে? আমি যে গ্রামের ছেলে। আমি কি ছাই জানি নাকি বইগুলো কোথায় পায়? জানলেও আমার কি টাকা আছে যে কিনে পড়ব?
এরপর কিছু সাধারণ ছোটদের গল্পের বই পড়া হয়েছে। যখন ক্লাস সিক্সে তখন থেকে ধীরে ধীরে তিন গোয়েন্দা ও সেবার অন্য বইয়ের সাথে পরিচিত হতে থাকি। পাশের গ্রামের (যে গ্রামে আমার হাইস্কুল ছিল) বন্ধুদের একটি পারিবারিক পাঠাগার ছিল। সেই পাঠাগার থেকে বন্ধু জাফরের মাধ্যমে সাধারণত বইগুলো আমার কাছে আসত। এই ভাবেই বই পড়ার হাতে খাড়ি।
তারপর অনেক সময় চলে গেল। অনেক বই পড়া হলো। নিজের টাকায় বই কেনাও শিখলাম। এর মধ্যে অনেক মাসুদ রানার বইও ছিল। কিন্তু মাসুদ রানার প্রেমে পুরোই হাবুডুবু খাওয়া শরু করলাম ইন্টার পড়া অবস্থায় ''আই লাভ ইউ, ম্যান" বইটি পড়ে। এই বইটির কথা কি আর বলব। আমার মনোজগতকে একদম উল্টে পাল্টে দিল। এই বইয়ের প্রত্যেকটি চরিত্র, প্রত্যেকটি দৃশ্য যেন আমার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা। এই বইটির প্রায় কিছুই আমি আজ এত বছর পরেও ভুলে যাইনি, সেই সেন্টমেরী দ্বীপ, সেই রডরিক, ল্যাম্পনি, ডেঙ্গা রামাদিন, সিডনি সেরিডান, রাফেলা, হুমায়ুন নানা..... অথবা মাসুদ রানার প্রিয় বোট 'জলকুমারি'। সেন্টমেরী দ্বীপ আমার হৃদয়ে এমন ভাবেই ঢুকেছিল য়ে আমার ইচ্ছে হলো সেখানে আমাকে যে করেই হোক যেতে হবে। অনেক পরে সেন্ট মেরী দ্বীপটির অনেক খোজ করেছি ইন্টারনেটে কিন্তু পাইনি। সেটা মনে হয় আসলেই একটি কাল্পনিক দ্বীপ।
যাইহোক, আই লাভ ইউ ম্যান নিয়ে আর কিছু লিখতে চাইনা। তাহলে এটা রিভিউ হয়ে যাবে। আর রিভিউটা বইয়ের থেকে কম ছোট হবে না। সুতরাং সেই অপচেষ্টা বাদ।
এরপর থেকে মাসুদ রানাকে গোগ্রাসে গিলেছি। কত কত বই সব কি আর এই মূহুর্তে মনে থাকে? অগ্নিপুরুষ, কালপুরুষ, সংকেত, সাউদিয়া ১০৭............. আরো কত কত।
কিন্তু ১৯৯৫ এর পরের বইগুলো আমাকে তেমন করে টানেনি। এর কারণ হয়তো এই বইগুলোতে কাজীদার হাতের ছোয়া ছিল না বলে। আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন কাজীদা এথন আর মাসুদ রানা লেখেন না। অন্যরা লেখে কাজীদা বড় জোর চোখ বুলিয়ে দেয়। আমার কাছে মনে হয় মাসুদ রানার সেরা বই গুলো ৯০ এর আগে লেখা। আমি এখনই মাসুদ রানা বই পড়তে গেলে সেটা ৯০ এর আগে লেখা কিনা দেখে নিই। ৯০ এর আগে লেখা মানেই বইটির কিছু দেখার নেই, সেটি একটি অসাধারণ বই।
ই-বুক পড়তে আমি একদম পছন্দ করি না। কাগজের বইয়ের উপর কিছুই হতে পারে না হবেও না। হেঁটে হেঁটে, শুয়ে শুয়ে, বসে বসে যেখানে যখন খুশী পড়া যায়। ইচ্ছে হলেই পাতা ভাজ করে মাথার পাশে রেখে দাও।
আপনাদের যদি ই-বুক পড়ার অভ্যাস থাকে ও পড়তে ভালবাসেন তবে আপনাদের জন্য মাসুদ রান বইয়ের কিছু লিংক দিলাম। আশা করি পড়বেন। Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

