ডাকাতি ও খুনের অপরাধে ৮ জনের কল্লা কাটা গেল আর এই নিয়ে কিছু মানবতাবাদীর বকর বকর শুনতে শুনতে কান পঁচে গেল। তাদের যুক্তিগুলো কিন্তু খুব জোরালো নয়। তারা যেটা বলতে চায় তা মূলত এমন-
১. সৌদি আরবের বর্বর আইনে এদের কল্লা কাটা গেছে।
আমি বলি সেটা যদি বর্বর আইন হয় তবে বর্বর আইনই সই। সেদেশে গেলে সেদেশের আইনকে অবশ্যই মানতে হবে, সেটা বর্বর হলেও। প্রত্যেক দেশের একটি নিজস্ব আইন আছে আর প্রত্যেক লোককে সে দেশের আইন মানতে হয়। যেমন সিঙ্গাপুরে চুইংগাম খাওয়া নিষিদ্ধ। এখন আপনি সে দেখে গিয়ে বুক ফুলিয়ে বললে হবে না যে '' সারা দুনিয়ায় চুইংগাম চিবিয়ে এলাম তোমরা বাঁধা দিচ্ছ কেন? চুইংগাম খাব নাকি পান চিবাবো এটা আমার ইচ্ছা, চুইংগাম খাওয়ায় বাধা দিলে তোমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করাবা।'' সুতরাং যে দেশের যে আইন ও বিচার তা মানতে হবে।
২. আবার অনেকেই বলছেন একটি অপরাধে ৮ জনের কল্লা যায় কি করে?
আমি বলি একটি অপরাধে ২২ জনের জান যাওয়ার হুকুম এই দেশেও হয়েছে। কয়েক মাস আগে গামা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপতি তাদের সবাইকে দলীয় বিবেচনায় মাপ করে দিয়েছেন। সৌদিতে হলে এর কোন মাপ ছিলনা, কারণ মাপ করার অধিকার রাখেন শুধুমাত্র যে খুন হইছে তার পরিবার। রাষ্ট্রপতি বা বাদশার কোন ক্ষমতা নাই মাপ করার। সুতরাং একজনকে হত্যার অভিযোগে অনেকের মৃত্যুদন্ড এটা নতুন কিছু নয়। প্রত্যেকটি দেশের ইতিহাস ঘাটলেই তা পাওয়া যাবে।
৩. অনেকেই বলেন অমুক দেশের তমুকের বিচার না করে তবে শুধু আমাদের দেশের লোকদের বিচার করল কেন?
আমি বলি এ্যাডভোকেট নূরুল ইসলামের হত্যাকারীদের মাপ করে দিয়ে এখনো বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি দেয়ার জন্য খোঁজা হচ্ছে কেন? যুদ্ধপরাধীদের বিচারের জন্য হাউকাউ করছেন কেন? তাদের মাপ করে দিলেই তো হয়, তাই না। সৌদি কাউকে যদি মাপ করে দেয় সেটা তো খুব ভাল উদাহরণ নয়, সেই খারাপ উদাহরণটা আমাদের উপর প্রয়োগের কথা বলাটাই তো আরেকটা অপরাধ।
৪. সরকার চাইলে এদের আর্থিক জরিমানা দিয়ে ফিরিয়ে আনতে পারত।
আপনি নিজ দেশের অপরাধীদের বিচার চাইছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইছেন, আবার অন্যদেশে ডাকাতি করে ও খুন করে যাদের কল্লা যেতে বসেছে তাদের সরকার গাঁটের পয়সা খরচ করে ফিরিয়ে আনতে বলছেন? কেন সরকার টাকা খরচ করে তাদের ফিরিয়ে আনবে? সরকারের এমন কি দায় পড়েছে খুনী ও ডাকাতকে এই দেশে ফিরিয়ে আনার? তারা কি এমন আমূল্য কর্মটি করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে যে সরকার তাদের ফিরিয়ে আনতে বাধ্য?
৫. অনেকেরই সমস্যা বিচার নিয়ে নয়, তাদের চুলকানীটা দেশটি সৌদি আরব বলে। তারা কল্লাকাটা বিচারটাকে খুব ভয়ঙ্কর বলে বুঝাতে চায়।
আমি বলি ফাঁসি, ইলেকট্রিক চেয়ার, বিষাক্ত ইনজেকশান দিয়ে মৃত্যু কি খুব আরামদায়ক, এভাবে মারা গেলে কি মানুষ খুব আরাম করে মারা যায়? ফাঁসি, ইলেকট্রিক চেয়ার, বিষাক্ত ইনজেকশান ও কল্লা কাটার মাধ্যমে মৃত্যুদন্ডের মধ্যে সবচে আরামদায়ক কোন মৃত্যু যদি খুজতে চান তবে এর মধ্যে অবশ্যই কল্লাকাটা মৃত্যু বেশী আরামদায়ক। শুনতে খুব ভয়ঙ্কর হতে পারে কিন্তু কল্লাকাটায় মানুষ কম কষ্ট পায় এটা বিজ্ঞান সীকৃত। এই ব্যাপারে এই পোষ্টের ৪৪ নং কমেন্টে বিস্তারিত বলেছি, দেখতে পারেন। Click This Link
৬. অনেকেই বলেন সৌদি শুধু বিদেশীদের বিচার করেন, নিজ দেশীদের জন্য কোন বিচার নাই।
এটা একটি মুখস্ত করা কথা। তথাকথিত মানবতাবাদীরা বিভ্রান্তি ছাড়ানোর জন্য এ কথা বলে থাকেন। যারা এমন কথা বলে থাকেন তাদের জন্য একটি উদাহরণ-
ব্লগার Abdullah Arif Muslim এর একটি কমেন্ট থেকে---
নগর বাউল @ অবশ্যই সমান হওয়া উচিত। সৌদিরা দুধে ধোয়া তুলসী পাতা। আবার শুধু যে বিদেশীদের উপর শরিয়া আইন এপ্লাই করে তাও না।
২০০৭ সালে সৌদি আরবে কমপক্ষে ৭৬ বিদেশিসহ মোট ১৫৮ জনের শিরশ্ছেদ করা হয় (৭৬জন ছাড়া বাকী সব সৌদিয়ান)।
২০০৮ সালে শিরশ্ছেদের শিকার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১০২। এর মধ্যে প্রায় ৪০ জন বিদেশি (বিদেশী ছাড়া বাকী ৬২জন সৌদিয়ান )।
২০০৯ সালে ১৯ জন বিদেশিসহ মোট ৬৯ জন (বিদেশী ছাড়া বাকী ৫০জন সৌদিয়ান )
এবং গত বছর কমপক্ষে ৬ বিদেশিসহ মোট ২৭ জনের শিরশ্ছেদ করা হয় (বিদেশী ৬জন ছাড়া বাকী ২১জন সৌদিয়ান )।
বাদশা ফয়সাল (১৯৭৫) এর খুনি প্রিন্স মুসাইদকেও বিচারের পর শিরচ্ছেদ করা হয়।
২০১০ সালে এক বাংলাদেশী টেক্সি ড্রাইভারকে হত্যার জন্য এক সৌদি নাগরিকের শিরচ্ছেদ করা হয়েছিল।
শরিয়া আইন অবশ্যই প্রয়োগ হতেই হবে। তবে যদি তারা কোন পাওয়ারফুল ব্যাক্তির উপর শরিয়া আইন প্রয়োগ না করে আমরা তার প্রতিবাদ জানাবো। তার মানে এই না যে সেই পাওয়ারফুল ব্যক্তিকে শাস্তি না দেওয়ার জন্য বাকী সবাই কে মুক্তি দিতে হবে।
সব শেষে আমি বলতে চাই, যারা খুনী ও ডাকাতদের মৃত্যুদন্ড দেয়াতে ন্যাকি কান্না কাঁদছেন তারা কি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চান? বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী অন্য খুনীদের ফাঁসি চান? শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড মেরে ২১ জনকে যারা হত্যা করল তাদের ফাঁসি চান? আহসান উল্লাহ, কিবরীয়া হত্যাকারীর ফাঁসি চান? নুরুল ইসলাম হত্যাকারীদের ফাঁসি চান? শহীদ বুদ্ধিজীবিদের হত্যাকারীদের ফাঁসি চান?
যদি ফাঁসি চান তবে কিভাবে চাইবেন? হার্ট এত দূর্বল হলে কি করে সঠিক বিচার দেখবেন? তার থেকে তাদের মাপ করে দেয়াই যুক্তিযুক্ত, তাই না? তাহলে নুতন আন্দোলন শুরু করুন না, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে সকল খুনীকে মাপ করে দেয়া হোক, তাদের বিচার করা হবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি ইসলামী আইন বুঝি না, শরীয়া আইন বুঝিনা মৃত্যুদন্ড পাওয়ার মতো অপরাধ যারা করবে তাদের কল্লাকাটাই সঠিক বিচার। এই নিয়মটা কোন ইহুদি রাষ্ট্রও যদি পালন করে আমি তাদের পক্ষে থাকব, এটাকে কেউ যদি কুফরী আইন বলতে যান তাও আমি এর পক্ষে থাকব।
আমি মনেকরি যুদ্ধাপরাধের মামলায় যারা জেলে আছে তাদের যদি অপরাধ প্রমানিত হয় তবে তাদেরও কল্লাকেটে শাস্তি দিলে খুশী হব। কারণ তাদরে জন্য এর থেকে উত্তম আর কোন বিচার হতে পারে না।
সৌদির ঘটনায় একজন বাংলাদেশী হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে খুবই কষ্ট পেয়েছি, লজ্জিতবোধ করেছি কিন্তু বিচার সঠিক হয়নি এটা কখনোই মনে হয়নি।
View this link
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


