somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কারাগারের দিন-রাত

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক সময়ের প্রচণ্ড ক্ষমতাধর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা তিন মন্ত্রীর এখন আর সেই দিন নেই। গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর কেউ আর তাদের কথায় ওঠে না, এমনকি বসেও না। কারাগারের ছকে বাঁধা নিয়মেই চলতে হয় তাদের। তার ওপর জেল কোড ভঙ্গ করায় শাস্তিও পেতে হয়েছে। নানা ধরনের দুশ্চিন্তা ও অসুস্থতা তাদের গ্রাস করেছে। কথা বলার মতো এখন লোকও খুঁজে পান না। অফুরন্ত অলস সময় কাটাতে তাই কখনো কখনো অন্য বন্দিদের ডেকে কথা বলতে হয়। কেউ ‘পাপ মুক্তি’র জন্য ব্যস্ত থাকছেন ধর্মীয় কাজে।
কারাবন্দি অবস্থায় শারীরিকভাবে পুরোপুরি ‘ফিট’ আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। বন্দি জীবনে কয়েকদিন মাত্র দাঁতের ব্যথায় ভুগলেও অন্য কোনো শারীরিক সমস্যায় পড়েননি তিনি। তবে খুব অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় ‘জাউ ভাত’ ছাড়া অন্য খাবার খেতে পারছেন না। আর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়ার পর আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে রাখা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ১৬ নম্বর সেলে। কারাগারে যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ওই সেলের অন্য বন্দিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সবার সঙ্গে মিলেমিশে দিন কাটাতেন। প্রাণ খুলে গল্প করতেন। ব্যক্তি ও চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতার গল্প করতেন। পড়তেন বিভিন্ন ধরনের বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন। কিন্তু কারাগারের ভেতরে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার হওয়ার পর তাকে পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। সেখানেও তিনি বইপত্র পড়ে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন। নিয়মিত নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন। সন্ধ্যায় বন্দিদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করেন। সপ্তাহে একদিন বাসা থেকে পাঠানো ইফতার খান। তাছাড়া কারাবন্দিদের জন্য জেল কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা ইফতার খেয়েই রোজা ভাঙতে হয়। ভিআইপি বন্দি হলেও ইফতারের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না তিনি।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বন্দি জীবনে তিনি অন্য ভিআইপি বন্দিদের মতো জটিল কোনো অসুখে ভোগেননি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার সময় মাত্র কয়েকদিন দাঁতের ব্যথায় ভুগেছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ তখন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কারাগারের এক কর্মকর্তার ভাষায়, বিমান বাহিনীর এক সময়ের দক্ষ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন চৌধুরী শারীরিকভাবে ছিলেন অসম্ভব রকমের ‘ফিট’। কখনো তাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। এমনকি তিনি একবারের জন্য বাতের ব্যথায়ও ভোগেননি। প্রতিদিনের কাজকর্মে তার কোনো হেরফের হতো না। কারাগারের নিয়ম মেনে চলতেন। কারারক্ষী বা কারাগারের অন্য কারো সঙ্গে কখনো খারাপ ব্যবহারও করেননি। করেননি কোনো অন্যায় আবদার।
কারাবিধি অনুযায়ী পরিবারের লোকজন মাঝে মধ্যেই তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। তবে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট উদ্ধারের পর শাস্তি হিসেবে তার সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার সময় দলীয় বা এলাকার লোকজন কখনো দেখা করতে আসেননি।
আর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরপরই বিভিন্ন রোগে ভুগতে শুরু করেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যেতে থাকে। ফলে তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। পরবর্তী সময়ে অবস্থার আরো অবনতি হলে কারা চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে স্থানান্তর করা হয়। প্রথমে রাখা হয় ওয়ার্ডে। এখন চিকিৎসাধীন আছেন বি ব্লকের কেবিনে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এখন একাধিক রোগে আক্রান্ত তিনি। আর সবই পুরনো রোগ। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে ওষুধ খেতেন। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় অনিয়ম হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বাভাবীক খাবার খেতে পারেন না, এমনকি ভাতও না। খেতে হয় ‘জাউ ভাত’ ও নরম খাবার।
বাবর এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া খাবার খান। এতে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো হাত নেই। দিনের বেশিরভাগ সময় তসবি জপেন, নামাজ পড়েন। ধর্মীয় কাজকর্মের দিকে এখন তার বেশি মনোযোগ। সময় কাটাতে পড়েন বই ও পত্রিকা। এক সময়ের প্রবল ক্ষমতাধর বাবরকে এখন কারাবিধি মেনেই স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে হয়।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রভাবশালী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এখন চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। চিকিৎসা নিচ্ছেন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। কারাবন্দি অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মোহাম্মদ নাসিম। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভর্তি করা হয় ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে। পরবর্তী সময়ে সরকার তাকে চিকিৎসার জন্য পেরোলে মুক্তি দেয়। বর্তমানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার পর তার অবশ হয়ে যাওয়া হাত ও পা এখন নড়াতে পারছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র: যায়যায়দিন

১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×