সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশী শ্রমিকের শিরোচ্ছেদ করা হয়েছে। ব্যাপরাটা খুব কষ্টকর এবং দুঃখজনক। কিন্তু কথা হচ্ছে যাদের শিরোচ্ছেদ করা হয়েছে তারা নিজেরাও চোর এবং খুনি। যেটা সৌদি আরবের প্রচলিত আইনে দন্ডনীয় অপরাধ। সৌদি আরব তাদের প্রচলিত আইনে বিচারকার্য সম্পাদন করেছে। এটা কোন দেশ বা জাতীর প্রতি বিদ্ধেষ নয়। সৌদি আইনের কারনে প্রতিবছর ড্রাগ রাখার কারণে অনেক পাকিস্থানী। ইয়েমিনি নাগরিকের গর্দান কাটা হয়। খোদ সৌদি জনগনও এই আইনের বাহিরে নয়। যদি শুধু এটা বাংলাদেশীদের জন্য হত তাহলে ২৫ লাখ বাঙ্গালীর এখানে থাকার কোন পথ ছিলনা। এখনো ৬/৭ লাখ টাকা দিয়ে মানুষ সৌদি ভিসা কিনে আসতে এক পায়ে খাড়া। যে শ্রমিক বাংলাদেশে ৫ হাজার টাকা কামানোর কথা ভাবতে পারেনা সে এখানে এসে ৩০/৪০ হাজার টাকা কামাই করে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে আছে। মক্কা মদিনাতে বাংলাদেশীরা নির্বিগ্নে লাখ লাখ রিয়াল বিনোয়োগ করে ব্যাবসা বাণিজ্যে চালাচ্ছে। বাংলাদেশের মোট রেমিটেন্সের এক চথুর্তাংশ আসে সৌদি আরব থেকে।
সৌদি আরব অপরাধীর বিচার করেছে তার প্রচলিত আইনে। তার দেশের আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখা সৌদি সরকারের দায়িত্ব। সেই জন্য তার আইন সে প্রয়োগ করবেই। তদুপরি ৪ বছর সময় দিয়েছে বাংলাদেশি দুতাবাস কে আসামীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য। কিন্তু কূতনৈতিক ভাবে অদক্ষ রাস্ট্রদূত সেখানে চুপ থেকেছে।
যাই হোক কথা হল আমাদের এই বিশাল শ্রমবাজার দখল করার জন্য বহুদিন থেকে নানা মূখি চেষ্ঠা ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে ভারত সরকার। বিশেষভাবে এখানকার ইংরেজী দৈনিক সমুহে ভারতীয় সাংবাদিক কতৃক বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা এবং ছোট খাটো অপরাধ কে হাইলাইট করা উল্লেখযোগ্য। পান খেয়ে জনৈক বাঙ্গালী তার অভ্যাস বশত পিছকি ফেলেছে পাশের দেয়ালে আর সেটা ক্যামেরা বন্দী করে ইন্ডিয়ান সাংবাদিক ক্যাপসন দিয়েছে " Traditional habit of bangali" ভারতীয় দূতাবাস তাদের মিড়িয়া উইং -এর মাধ্যমে সৌদিদের সামনে তুলে ধরেছে যে বাঙ্গালী একটি দাঙ্গা ফ্যাসাদময় নোংরা জাতি। ফলশ্রুতিতে সৌদি আরব সরকার দিনে দিনে বাংলাদেশীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
এরি মধ্যে সংগঠিত হয় রিয়াদ হাউজ নামক কোম্পানীর তার চুরি এবং মিশরীয় নিরাপত্তা রক্ষীকে হত্যা। সবকটি ইংরেজী দৈনিক বিষয়টি নিয়ে ফালাও প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং সবকটির সাংবাদিক ছিল ভারতীয়।
এমতাবস্থায় সৌদি সরকার বাংলাদেশী ভিসা বন্ধ করে দেয়। এই সুযোগে আমাদের শ্রমবাজার চলে যায় ভারতীয়দের হাতে। জাম্বু জেট ভর্তি হয়ে আসতে থাকে ভারতীয় শ্রমিক।এভাবে কেটে যায় ৪ বছর। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মান, পাতাল রেল সহ নানামুখি উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সৌদি আরবে আগামি কয়েকবছর শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা সৃস্টি হয়েছে।
এরি মধ্যে সৌদি আরবের সাথে শীতল হয়ে যাওয়া সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয়ে উঠে। সৌদি সরকার নতুন করে কিছু কিছু কোম্পানী কে বাংলাদেশী ভিসা ইস্যু করার অনুমতি দেয়।
ঠিক সে সময়ে আইনের স্বভাবিক প্রক্রিয়ার একটা খুনের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ৪ বছর আগের সেই ৮ জন খুনি শ্রমিকের বিচর হয় সৌদি প্রচলিত আইনে।
নতুন করে বাংলাদেশী ভিসা ইস্যু হওয়ার খবরে আতংকিত ভারতীয় দূতাবাস এই সুযোগটাকে কাজে লাগায়। তাদের নিয়ন্ত্রনাধীন মিডিয়া সাথে সাথে দেশ বিদেশে ছড়িয়ে দেয় খবরটি। উদ্দ্যেশ্য নতুন করে বাঙ্গালী কেন্দ্রিক ক্যচাল সৃস্টি করা এবং সৌদিদের কে পুনরায় মনে করিয়ে দেওয়া যে বাঙ্গালী খুনি এবং তাদের খুনের দায়ে ফাঁসি হয়েছে। অথচ খুনি , ধর্ষক ও মাদক ব্যবসায়ির শিরোচ্ছেদ সৌদি আরবের অধিকাংশ শুক্রবারের সাধারণ ঘটনা। সেগুলো কোনদিন পত্রিকার ভেতরে নিউজ হয় তো কোনদিন হয়না।
এদিকে নিজের দেশের কিছু নাগরিকের এভাবে শিরোচ্ছেদ হতে দেখে বাংলাদেশের অনেক মানুষের হৃদয় ব্যাথিত হয়েছে। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। আমি নিজেও ব্যাথিত। আর তাই তারা নিজেদের মত করে মতামত ব্যাক্ত করেছে। কেউ বাস্তবতার নিরিখে কেউ আবেগে।কিন্তু মনে রাখতে হবে অপরাধীর পরিচয় শুধু অপরাধী। দেশ কাল পাত্র ধর্ম ভেদে অপরাধী কে ক্ষমা করা যায়না। বাঙ্গালীর চেতনা ও মননের কবি লিখেছিলেন " ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দূর্বলতা নিষ্ঠুর নির্দয় যেন হতে পারি তথা"
এই অবস্থায় বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাস বসে নেই। তারা এদেশে মানুষের আবেগ কে পুঁজি করে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আর এই কাজে তারা নিয়োগ দিয়েছে তাদের নিয়মিত বেতনভোগী সাংবাদিক নামধারী কিছু এজেন্ট কে। যার ফলশ্রুতিতে ডাক দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট এজেন্ডা বা বক্তব্য হীন আন্দোলন বা মানববন্ধনের। কিছু ভারতীয় এজেন্টের নেতৃত্বে কতগুলো আবেগী মানুষ কালকে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াবে। তারপর পরদিন সেটা ভারতীয় সাংবাদিকদের কল্যানে ছাপা হবে প্রতিটি আরব পত্রিকায় আর নিচে লিখা থাকবে খুনিদের জন্য রাস্তায় নেমে পড়েছে উশৃঙ্খল বাঙ্গালী। তারা সৌদিদের ঘৃণা করে। এরপর মূল খবরে থাকবে সৌদি নিয়োগকর্তাদের প্রতি হুশিয়ারী যাতে নতুন করে বাঙ্গালী শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে তারা সজাগ হয়। তারপর থাকবে সম্পাদকীয়। যেখানে বাংলাদেশীদের কে প্রতিশোধ পরায়ণ জাতী হিসেবে তুলে ধরা হবে এবং সৌদি সরকার ও নিয়োগকর্তাদের প্রতি থাকবে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনার ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ ।
আর এতে আবার শীতল হবে নতুন করে উষ্ণ হতে শুরু করা সম্পর্ক। সৌদি সরকার আবার বন্ধ করে দিবে বাংলাদেশী ভিসা। আর সেই সুযোগে আবার এয়ার ইন্ডিয়ার পেট ভর্তি হয়ে আসবে ভারতীয় শ্রমিক। বাংলাদেশ হারাবে তার সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। জনসংখ্যা ও বেকারত্বের ভারে নুয্য বাংলাদেশের জন্য যে শ্রম বাজারটি বড় প্রয়োজন।
কাজেই আসুন দেশ প্রেমিক ভাইয়েরা কোন আবেগ নই। বাস্তবতা মেনে চলি। সৌদি আইন বা সরকার যদি কোন অন্যায় করে সেটার জন্য প্রতিবাদ করবে আমাদের সরকার। কূটনৈতিকভাবে তার দফা রফা হবে। আমরা একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র রাষ্ট্র। আমাদের সরকার আছে। কূতনৈতিক ব্যাবস্থা আছে। সরকারই সৌদি সরকারকে এর জন্য জবাবদিহি করবে।
কাজেই কোন মানববন্ধন বা হঠকারী আন্দোলন করে কারো ষড়যন্ত্র কে সফল করে বিশ্বের কাছে নিজেদের ইমেজ নষ্ট না করি এবং নিজেদের শ্রমবাজার ভারতীয়দের হাতে তুলে না দেই ।
মনে রাখবেন আজকে যেসব ড্রয়িংরুম সর্বস্ব পাপেট দেশপ্রেমীরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কালকে তারা ভারতীয় দূতাবাসের পেমেন্ট টা ফেলেই ভুলে যাবে শ্রমজীবি প্রবাসীদের জন্য মায়াকান্নার কথা। কোন সৌদি ফেরত শ্রমিকের সন্তানের পড়া লিখা বন্ধ হয়ে গেলে এরা ৫ টাকা দিয়ে সাহায্য করবেনা।
( জানিনা আমার এই পোষ্টের জন্য আমার লিখালিখির হাত কেটে নেওয়া হয় কিনা। তবু সত্য উচ্চারণে এতটুকু কুন্ঠিত নয়। পাপেট দেশ প্রেমিকের অশ্লীল মন্তব্য গ্রহন করা হবেনা)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৩:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



