প্রবাল চৌধুরীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে ১৯৭৭ সালে। নতুন নায়ক হয়েছি, রেডিও টিভিতে তালিকাভুক্ত গীতিকার। আমার ছবির পরিচালক বজলুর রহমান বললেন, যেহেতু তুমি গীতিকার তুমিই গান লেখ। ছবিতে পাঁচটি গান ছিল, এক এক করে পাঁচটি গানই লিখলাম, শুধু পরিচালক নন্, সবাই গানগুলি পছন্দ করলেন।
নায়ককে কেন্দ্র করেই গানটির স্যুটিং হবে। আমার চেহারাটার মধ্যে একটু উত্তম কুমার উত্তম কুমার ভাব ছিল, পরিচালক বজলুর রহমান মিউজিক ডিরেক্টর জালাল আহমেদকে বললেন, গলায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের টোন আসে এমন একজন গায়ককে দিয়ে গানটি গাওয়ালে জমবে ভাল। প্রবাল চৌধুরীর নাম এলো। বজলুর রহমান সাহেব তো বেঙ্গল ষ্টুডিওর মালিক, তিনি সবাইকে চেনেন, সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে চিটাগং থেকে প্রবাল চৌধুরীকে ডাকলেন, প্রবাল চৌধুরী পরদিনই হাজির।
আর এক অনন্য প্রতিভা টেলিভিশনের সঙ্গীত পরিচালক জালাল আহমেদ বড় মিষ্টি সুর করেছেন গানটির। আর প্রবাল চৌধুরীর কণ্ঠটিও বড় মিষ্টি এবং দরদভরা। যেন হেমন্ত কুমার। গানের রিহার্শালেই প্রবাল চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয় হলো, তিনি বুকে জড়িয়ে ধরে আমাকে দোয়া করলেন। পরেরদিন গানটি রের্কডিং হলো। জীবনের প্রথম ছবিতে গান লিখেছি, প্রথম নায়ক, সে এক অব্যক্ত অনুভূতি। যাই হোক সৃস্টি হলো একটা অবিষ্মরণীয় গান। ছবিটি মুক্তির পর প্রচন্ড জনপ্রিয়তা পেয়েছিল গানটি। প্রবাল চৌধুরী আজ নেই, কিন্তু তাঁর মায়াভরা দরদী কণ্ঠ এবং শিল্পিপ্রতিভার মধ্যে প্রবাল চৌধুরী অনন্তকাল ধরে বেঁচে থাকবেন। গানটি হলো:
"লোকে যদি মন্দ কয়
সে তো নহে পরাজয়
প্রেমের সাগর তলে
কলন্ক মুক্ত হয়ে রয়।
লোকে যদি মন্দ কয়...
কলন্ক তোর গলার মালা
হোকনা তাতে যত জ্বালা
কাঁটার মাঝে ফুলের বুকে
মধু জমে রয়।
লোকে যদি মন্দ কয়...
ভালবাসার তুলি যদি
এমন করে আঁকলো ছবি
অপবাদের ভয়ে সে যে
কেনো দূরে রয়।
লোকে যদি মন্দ কয়...
-০-
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



