ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মনোরোম চিত্রের সঙ্গে সুমধুর বাংলা যুক্ত হলে কী হয়, তা নিয়ে নতুন করে বলার নেই; খোদ চ্যানেলটির ব্যাপারে জানা যাক। কে না জানে যে যদিও প্রতিনিয়ত মানব জাতির ২৫টা ভাষায় ডাবিং হয়ে বিশ্বের ১৪৩টি দেশের ১৬ কোটির বেশি গৃহকোণে পৌছে যাচ্ছে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বয়স বেশি নয়। মাত্র ১৩ বছর। নন-ফিকশন ধারার অন্য চ্যানেলগুলো- ডিসকভারি, হিস্ট্রি কিংবা অ্যানিমেল প্লানেট সে তুলনায় ঢের সেয়ানা। তারপরও প্রকৃতি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিষয়ক নবীন চ্যানেলটির- কেউ কেউ যাকে আদর করে 'ন্যাট জিও' ডাকে, এগিয়ে থাকার একটি কারণ বোধহয় তার প্রবীণ মাতৃ-সংস্থার সমৃদ্ধি ও পরিপক্কতা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং বিজ্ঞানি আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের মতো নেতৃত্ব বিজরিত বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ক বনেদি সংস্থা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি যখন গবেষণা, প্রকাশনা ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি একটি টেলিভিশন চ্যানেলও চালু করে, তখন তার বয়স ১১০ বছর পেরিয়ে গেছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ যে তার চমৎকার সব তথ্যচিত্র তা বোধহয় না বললেও চলে। কিন্তু সাফল্যের পেছনে তাদের ব্যবসাবুদ্ধির কথা বলতেই হবে।
ইংরেজিতেই কিন্তু উপমহাদেশে খারাপ করছিল না ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। কিন্তু আরও জনপ্রিয় করে তুলতে বেশ কয়েক বছর আগেই ভারতীয় দর্শকের জন্য হিন্দি ভাষায় যাত্রা শুরু করে। তাদের হিসেব ভুল ছিল না। পরের বছর হুহু করে বেড়ে যায় দর্শক। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমে তেলেগু এবং এ বছর শুরু হল বাংলায় ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচার। তবে সে বাংলা যে রাবিন্দ্রীক নয়, বলাই বাহুল্য। যেমন বৃহস্পতিবার দেখানো হচ্ছিল ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের তথ্যচিত্র। 'বাংলায়' ধারা বর্ণনার একটি অংশ- 'নাইনটিন নাইনটি ফোরে কাশ্মির ভ্যালি থেকে মওলানা মাসুদ আজহারকে এরেস্ট করা হয়'!
অবশ্য তাতে কী এমন ক্ষতি? এমন বাংলা না হলে উপমহাদেশ 'কাভার' করবে কীভাবে? ঘরে-বাইরেও কি আমরা হামেশা এমন বাংলাই শুনছি না? বরং ইতিবাচক দিক ভাবা যাক। বাঘ, সুন্দরবন, নদী কিংবা হেরোইন নিয়ে তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আটক মার্কিন তরুণী এলিয়েদার সূত্রে চ্যানেলটিতে ইংরেজি ধারাবর্ণনায় বাংলাদেশ দেখা বাকি ছিল না। এখন গোটা বিশ্বই বরং বাংলা মোড়কে হাজির হচ্ছে, ভাবতে ভালোই লাগে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

