somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাপানের জন্য আট ডলার, আপনিও দিতে পারেন সহজে

২৮ শে মার্চ, ২০১১ দুপুর ১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভূমিকম্প, সুনামি ও পরমাণু তেজস্ক্রিয়ায় জেরবার জাপানের জন্য আট ডলার সহায়তা দিতে মাত্র একটি ক্লিকই যথেষ্ট ছিল। ১০ ডলারের মতো জমা ছিল- মানিব্যাগে বা ব্যাংকে নয়, ইন্টারনেটে। দিয়ে দিলাম। ব্যক্তিগতভাবে! হ্যাঁ, আপনিও সহায়তা দিতে পারেন। পকেট বা ব্যাংক একাউন্টের শ্রীহানি না করেই। আট ডলার সহায়তা দেয়ার জন্য আরো কয়েক গুন অর্থ ব্যয় করে নয়; নির্বিঘ্নে, ব্যক্তিগতভাবে।
সন্দেহ নেই, রাষ্ট্রীয়ভাবেও বাংলাদেশ জাপানে চিকিৎসক দল পাঠিয়ে সহায়তা দিচ্ছে। নিজেই যদিও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ঋণ ও অনুদানগ্রহীতা, দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন দেশে সহায়তার নজির নতুন নয়। কিছু দিন আগে ভূমিকম্পকবলিত হাইতি ও বন্যাদুর্গত পাকিস্তানেও বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক দল ও চা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের একজন নাগরিকের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা পাঠানো কীভাবে সম্ভব?
আমরা জানি, বাংলাদেশে যেসব আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থা তৎপর, তাদের তহবিলের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে উন্নত বিশ্বের নাগরিকদের ব্যক্তিগত অনুদান থেকে। তাতে এক ডলার সহায়তাও থাকে অনেক সময়। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশে এমন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। যে দেশে অর্ধেকের মতো নাগরিক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, সেখানেও বিদেশি দুর্গতদের ডলারে সহায়তা দেওয়ার মতো কিছু মানুষ হয়তো আছে। কিন্তু ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিনা ক্লেশে তা প্রদানের ব্যবস্থা? নৈব নৈব চ।
সেদিক থেকে ফেসবুক ভরসা হতে পারে। ইন্টারনেটের এই নতুন প্রপঞ্চকে যারা এতদিন 'ছেলেমানুষি' বলে নাক সিঁটকেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ফেসবুক প্রযোজিত সাম্প্রতিক গণজাগরণ তাদের খামোশ করে দিয়েছে। যারা খোঁজখবর রাখেন, তারা এও জানেন যে বিদেশে কেবল নয়, দেশের অভ্যন্তরেও ফেসবুক ব্যবহার করে নানা ইতিবাচক তৎপরতা চলছে। এ প্রসঙ্গে আমি আমাদের নদী বিষয়ক উদ্যোগ রিভারাইন পিপল-এর কথাও বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই। স্বেচ্ছাসেবী এ উদ্যোগটি এখন নানামাত্রায় বিস্তৃত হলেও এর সূচনা কিন্তু ফেসবুকেই হয়েছিল। এমন তৎপরতা আরও কতটা উদ্ভাবনী ও কার্যকর হতে পারে, ফেসবুকের মাধ্যমে জাপানের দুর্গতদের সহায়তার সুযোগ তার অন্যতম প্রমাণ।
ফেসবুকের পোকারা জানেন, সেখানে সিটিভিল বলে একটি দারুণ গেম আছে। অনলাইন গেম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জিঙ্গা এটি উদ্ভাবন করে ফেসবুকের সঙ্গে যৌথভাবে চালু করেছে। প্রথমদিনই এটাতে এক লাখের বেশি খেলোয়াড় যোগ দেয়। আর এখন, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে, সিটিভিল পরিণত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় ফেসবুক গেম।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, সিটিভিল গেমের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারী একটি ভার্চুয়াল শহরের মেয়র হতে এবং নিজের মতো করে সেটাকে গড়ে তুলতে পারেন। শহরটিতে তিনি রাস্তাঘাট, ভবন নির্মাণ, বসতি স্থাপনের পাশাপাশি চাষাবাদ ও কর আদায় করতে পারেন। তিনি তার বন্ধুর শহরে গিয়ে কাজ করে অর্থ আয় করতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে নাগরিক উপকরণ ও উপহার বিনিময় করতে পারেন। সব অর্জন কয়েন ও ডলার আকারে তার ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ওই অর্থ দিয়ে ভার্চুয়াল কেনাবেচাও চলে।
ভার্চুয়াল কেনাবেচার এই সুযোগটিই এখন জাপানি দুর্গতদের বাস্তব জীবনে কাজে দিচ্ছে। জিঙ্গা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই আয়োজনে যোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন।
সিটিভিলের কোনো খেলোয়াড় যদি তার জমানো অর্থ থেকে কোনো প্রডাক্ট যেমন আলু বা লেটুস পাতা, কেনে (ভার্চুয়ালি) বা জাপানি দুর্গতদের জন্য অনুদান দেয়, জিঙ্গা কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবিক অর্থ হিসেবে সেভ দ্য চিলড্রেনের কাছে পরিশোধ করবে। সেভ দ্য চিলড্রেন তা ব্যয় করবে সুনামি ও পরমাণু তেজস্ক্রিয়তা দুর্গতদের সহায়তায়। শুরুতে অনুদানের অর্থের পরিমাণ ছিল পাঁচ ডলার। ব্যাপক সাড়া পেয়ে পরে জিঙ্গা কর্তৃপক্ষ তা আট ডলারে উন্নীত করে।
বাংলাদেশেও এমন অনেককে পাওয়া যাচ্ছে, যারা সিটিভিল গেমে সময় দিয়ে উপার্জন করছেন এবং আট ডলার জমলেই নির্দিষ্ট বাটনে ক্লিক করছেন। ওই অর্থ দুর্গতদের জন্য সহায়তা হিসেবে চলে যাচ্ছে জাপানে!
আপনিও জাপানি দুর্গতদের জন্য আট ডলার সহায়তা দিতে পারেন, সহজেই।
(এই লেখাটি ইষৎ সংক্ষেপে ও আমার পেননেমে ছাপা হয়েছে ২৮ তারিখের সমকালে)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১১ দুপুর ১:৪৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×