ভারতে বাঘ বেড়েছে, আমাদের?
আমরা জানি, বাংলাদেশ ও বাকি বিশ্বের মতো ভারতেও গত কয়েক দশক ধরে বাঘের সংখ্যা কমে যাচ্ছিল। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে, চীন, তাইওয়ান, কোরিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি ও গৃহসজ্জায় বাঘের চামড়া ও অস্থির চাহিদা। অন্যদের কথা আপাতত বাদ, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যে গত কয়েক বছর ধরে অনেকটা আন্তরিকতা নিয়েই বাঘ রায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল, তার প্রমাণ নানাভাবে পাওয়া গেছে। কিন্তু বাঘ পাচার তাতে খুব একটা বন্ধ হয়েছে বলে জানা যায় না। কারণ মিলিয়ন ডলারের এ ব্যবসার সঙ্গে যারা যুক্ত তারা কেবল ভয়ঙ্করই নয়, কৌশলীও। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাঘ-কসাইরা প্রায় প্রতিটি অপারেশনেই নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ করে থাকে। তাদের রয়েছে স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশ্বজোড়া নেটওয়ার্ক। ফলে আন্তরিকতা সত্ত্বেও বাঘ পাচার বন্ধ করতে পারেনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তারপরও বাঘের সংখ্যা বাড়ল কীভাবে?
২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে বছরভর কয়েক দফায় পরিচালিত বাঘশুমারির আশাব্যঞ্জক ওই ফল এ বছর মার্চের শেষ সপ্তাহে প্রকাশের পর থেকেই এ ভাবনা অনেকের মনে নিশ্চয়ই ঘুরপাক খাচ্ছিল। দেখা যাচ্ছে, কেবল শিকারিদের ঘাড়ে সব দায় চাপিয়ে সেখানকার কর্তৃপক্ষ বসে থাকেনি। পাচারকারীদের ধাওয়া করার পাশাপাশি বাঘ রক্ষার অন্যান্য দাওয়াই নিয়েও তৎপর থেকেছে। এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আবাস ও বিচরণস্থল সংকোচন, খাদ্য সংকট কিংবা বাঘের প্রতি বনজীবী মানুষের দৃষ্টভঙ্গিও প্রাণীটির সংখ্যা হ্রাসের জন্য কোনো অংশে কম দায়ী নয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেদিকেও গুরুত্ব সহকারে নজর দিয়েছে।
ভারতে যে ৩৯টি ব্যাঘ্র অভয়ারণ্য রয়েছে, তা যাতে কোনোভাবে আর ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে ছিল কঠোর নজরদারি। অভয়ারণ্যের চারপাশে ‘ছায়া বনাঞ্চল’ তৈরি ছিল নতুন ও কার্যকর কৌশল। ওই বন এমনভাবে তৈরি করা যাতে বাঘ বাস করবে না, আবার জনবসতির সঙ্গে বাঘের মূ আবাসস্থলের উল্লেখযোগ্য দূরত্ব তৈরি করেছে। আরও জোর দেওয়া হয়েছে অভয়ারণ্য অঞ্চলে জনবসতি ও সংখ্যা কঠোরভবে নিয়ন্ত্রণের দিকে। চাইলেই যেন সেখানে বসতি স্থাপন বা পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো না যায়। পাশাপাশি ছিল বনজীবী জনগোষ্ঠী ও অভয়ারণ্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দাদের বিশেষ প্রশিণের ব্যবস্থা। ভারতীয় বিচার বিভাগ, সংবাদমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে বলে নতুন শুমারিতে বলা হয়েছে। অবশ্য নতুন শুমারি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি ভারতীয় পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ স্বীকার করেন, টাইগার করিডোরের সংখ্যা হ্রাস এখনও ‘আশঙ্কাজনক’। এসব করিডোর হচ্ছে, অভয়ারণ্যগুলোর মধ্যে বাঘের চলাচল পথ যা নানা ‘উন্নয়ন’ কর্মকাণ্ড ও মানবীয় তৎপরতায় হারিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হচ্ছে, বাঘের আবাস্থল মোটাদাগে একটিই- সুন্দরবন। সেটিকে সুরক্ষিত রাখলেই যথেষ্ট, করিডোর নিয়ে চিন্তা-ভাবনার দরকার নেই। গরান বনাঞ্চলটি দেশের এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় সুরতি রাখাও কঠিন নয়। এখানেও শিকারির থাবা আছে; কিন্তু তা ভারতের মতো প্রকট নয়। উপকূলীয় সুন্দরবন থেকে বাঘ মেরে পাচার করা অপেক্ষাকৃত কঠিনও বটে। আর ভারতে অন্য যেসব প্রক্রিয়া অবলম্বন করে বাঘের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশেও তা অবশ্যসম্ভব। বাঘের সংখ্যা বাড়ানো আমাদের এখানে অবশ্য কথায় ও কাগজে তৎপরতার অভাব নেই। ২০০৯ সালে যে আট বছর মেয়াদী ‘টাইগার একশন প্লান’ হয়েছে, তাতে ভালো ভালো কথার অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবে ভারতের উল্টোচিত্র, বাঘ কমেই চলেছে।
কেউ কেউ অবশ্য সমালোচনা করে বলছেন, পাগমার্কের বদলে কৌশলগত স্থানে ক্যামেরা বসিয়ে ও ডিএনএ টেস্টের মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলেই ভারতে বাঘের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে বাড়েনি। এমন সমালোচনা একেবারে উড়িয়ে দেবার দরকার নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে, আমাদের দেশে তেমন একটি বাঘ শুমারি করার গরজও তো দেখা যাচ্ছে না!
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]
আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।