
৬. ভোরে উঠার অভ্যাস করবে, নিদ্রায় মধ্যম পন্হা অবলম্বন করবে , যাতে করে শরীরের আরাম ও শান্তিতে ব্যঘাত না ঘটে এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ক্লান্তি ও অশান্তি অনুভূত না হয় ।
ভোরে উঠে আল্লাহর ইবাদত করবে । বলা হয়েছে যে, ফজরের নামাযের পর কুরআন তেলাওয়াতের অনেক ফজিলত । ইবাদতের পর কিছুক্ষণ পায়চারী করবে । ভোরের টাটকা বাতাস স্বাস্থের জন্য খুব উপকারী । হাদীসে আছে যে, ভোরের বাতাস বেহেশ্ত থেকে প্রবাহিত হয় । দৈনিক নিজের শারীরিক শক্তি অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম করার চেষ্টা করবে ।
মহানবী (সা.) বাগানে ভ্রমণ করাকে পছন্দ করতেন । এশার পর জাগ্রত থাকা ও কথা বলতে নিষেধ করতেন ।
৭. নিজের নফস বা অহং বোধকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবে এবং অভ্যাস গড়ে তুলবে । উতসাহ-উদ্দীপনা, চিন্তা-ভাবনা ও কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে । নিজের অন্তরকে বিপথে পরিচালিত হওয়া, চিন্তাধারা বিক্ষিপ্ত হওয়া এবং দৃষ্টিকে খারাপ থেকে রক্ষা করে চলবে ।
কামনা-বাসনার কু-ভাব ও কু-দৃষ্টি দ্বারা মন মস্তিস্ক শান্তি ও নিরাপত্তা থেকে বন্চিত হয়ে পড়ে । এ ধরনের লোক চেহারা, সোন্দর্য ও সুপুরুষসুলভ গুণ থেকে বন্চিত হয়ে পড়ে । অত:পর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভীরু ও কাপুরুষ হিসাবে প্রমাণিত হয় ।
রাসূল (সা.) বলেছেন: "চোখের জেনা হলো কু-দৃষ্টি আর মুখের জেনা হলো অশ্লীল আলোচনা, অত:পর মন উহার আকাংখা করে এবং গুপ্তাংঙ্গ উহাকে সত্যে পরিণত করে অথবা মিথ্যায় প্রতিফলিত করে ।"
৮. নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকবে । নেশী জাতীয় দ্রব্য মস্তিস্ক ও পাকস্থলীকে ক্রমশ: ধ্বংস করে দেয় ।
আল্লাহতায়ালা সূরা আল-মায়েদায় বলেন," হে মুমিনগণ ! মদ, জুয়া ও ভাগ্য গণনা শয়তানের নোংরা কাজ । এগুলোকে পরিহার করে চল । তাহলে তোমরা সফলতা লাভ করতে পারবে ।"
মহানবী (সা.) বলেছেন, " তোমরা মদ পরিত্যাগ কর । কারণ ওটা সকল ঘৃণ্য কাজের জননী ।"
সহীহ মুসলিম বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেন: প্রত্যেক মাদক ও নেশাকর দ্রব্যই মদ এবং প্রত্যেক মদই হারাম ।
সহীহ মুসলিম ও নাসায়ীতে বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যাক্তি কোন মাদক দ্রব্য সেবন করে, আল্লাহতায়ালা তাকে জাহান্নামীদের ঘর্ম ও মূলমূত্র পান করাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ।
মুসনাদে আহমাদে হযরত আবু হুরাইরা বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেন, " মদ্যপায়ী ব্যাক্তি মূর্তি পূজারীর সমান ।"

সহীহ নাসায়ীতে বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেন, " দুই ব্যাক্তি জান্নাতে যাবে না - পিতা-মাতার অবাধ্য ও মদ্যপায়ী "
রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যাক্তি মদ পান, কিন্ত মাতাল হলো না , আল্লাহ তায়ালা ৪০ রাত পর্যন্ত তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবেন । আর যে মদ পান করে মাতাল হয় , আল্লাহ তার কোন সদকাহ ও সদকাজ ৪০ রাত পর্যন্ত গ্রহণ করবেন না । এই সময়ের মধ্যে সে মারা গেলে সে পৌত্তলিকের মতো মরবে ।আল্লাহ তাকে জাহান্নামের মলমূত্র ও ঘাম পান করাবেন ।
মহানবী (সা.) আরো বলেছেন, " যে ব্যাক্তি যিনা করে কিংবা মদ পান করে, আল্লাহ তায়ালা তার কাছ থেকে ঈমান ছিনিয়ে নেন, যে ভাবে কোন ব্যাক্তি তার জামা মাথার উপর দিয়ে খুলে ফেলে ।" (হাকেম )
মহানবী (সা.) বলেছেন, 'মদের উপর, মদ পানকারীর উপর, যারা মদ পান করায় তাদের উপর, মদের ক্রেতা, বিক্রেতা, উতপাদনকারী, বহন-পরিবহনকারী, সংগ্রহকারী, সরবরাহকারী ও মদের বিক্রয়লব্ব অর্থ ভোগকারী সকলের উপর অভিশাপ বর্ষণ করা হয়েছে । (আবু দাউদ, আহমাদ)

রাসূল (সা.) বলেছেন, " মদখোরদের সাথে ওঠাবসা করো না । রোগাক্রান্ত হলে তাদেরকে দেখতে যেওনা, তাদের জানাযায় হাজির হয়ো না । মদখোর যখন কিয়ামতের ময়দানে হাজির হবে, তখন তার জিহ্ববা তার বুকের উপর ঝুলতে থাকবে, তা থেকে লালা ঝরতে থাকবে, তাকে যে দেখবে ঘৃণা করতে ও ধিক্কার দিতে থাকবে এবং সকলেই তাকে মদখোর হিসেবে চিনবে ।
রাসূল (সা.) আরো বলেন, " যে ব্যাক্তি মদ পান করবে , জাহান্নামে আল্লাহ তাকে এমন মারাত্নক বিষপান করাবেন যে, সেই বিষের পেয়ালা মুখের কাছে নেয়া মাত্রই এবং পান করার আগেই ঐ পেয়ালার ভেতরে তার মুখের গোশত খসে পড়বে । আর বিষ পান করার পর তার দেহের সমস্ত গোশত ও চামড়া খসে পড়ে যাবে । তার দুর্গন্ধে সমগ্র জাহান্নামবাসী যন্ত্রণা ভোগ করবে । মনে রেখ, মদ পানকারী , মদ উদপাদনকারী, পরিবহন ও সরবরাহকারী , ক্রয়-বিক্রয়কারী এবং এর বিক্রয়মূল্য ভোগকারী - সকলেই এর পাপের অংশীদার । তাদের নামায, রোযা, হজ্ব কিছুই আল্লাহ কবূল করবেন না যতক্ষণ তারা তওবা না করে । তওবা না করে মারা গেলে আল্লাত তাকে প্রতি ঢোক মদ পানের বিনিময়ে জাহান্নামের অধিবাসীদের রক্ত পূজ পান করাবেন । মনে রেখ, নেশকর ও মাদক দ্রব্য মদ হিসেবে গণ্য এবং মদ মাত্রই হারাম ।"

সূত্র: আদাবে জিন্দেগী, মাওলানা ইউসুফ ইসলাহী এবং পরিচিতি- বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার আব নিউ সাউথ ওয়েলস ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

