আকাশ সংস্কৃতির যুগে গান-বাজনা ও বিনোদনের মাঝে ডুবে থেকে দিনের পর দিন ওয়াক্তের পর ওয়াক্ত নামাজ কাযা করে না পড়ে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে হাজার বছরের জন্য নিজের ঠাই করে নিচ্ছি সে হিসাব কি আমাদের কারো আছে ? রাত জেগে খেলা দেখা কিংবা উপন্যাস পড়া আমাদের পক্ষে খুবই সম্ভব, শুধুমাত্র দশ মিনিট সময় ব্যয় করে এশার নামায আদায় করিনা । প্রেমিকার জন্য বিষপান করা আমাদের জন্য কিছুই না কিন্তু ফজরের নামাযের জন্য বিছানা ত্যাগ করাটা অসম্ভব । পাচ ওয়াক্ত নামায পড়তে হয়তো সর্বসাকূল্যে ৩০-৪০ মিনিট প্রয়োজন। ফেসবুক কিংবা টুইটার থেকে অথবা সামওহোয়্যার এর ব্লগিং থেকে খানিকটা সময় বাচিয়ে আমরা অনায়াসে নিজেকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করতে পারি ।
যে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের দয়ায় আমাদের হায়াত-রিজিক, ধন-সম্পদ সবকিছুই আমরা ভোগ করি অথচ সে মহান সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া আদায় করতে আমরা কার্পণ্য করি ।
প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান নারীর উপর নামাজ ফরজ । নামাযের গুরুত্ব এত বেশী যে, নবী করিম (সা.) সিজদারত অবস্হায় দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন । কারবালার মরু প্রান্তরে ঝাকে ঝাকে তীর, শত্রুদের প্রচন্ড অবরোধের মধ্যেও ইমাম হোসাইন (রা.) নামাজ আদায় করেছেন ।
পবিত্র কুরআনে বিরাশি বার নামাযের কথা বলা হয়েছে । নামাজ ছাড়া আর কোন ইবাদতের কথা কুরআনে এতবার উল্লেখ নাই । কাফের ও মুসলমানের পার্থক্য হল নামায ।
হাদীস শরীফে আছে নামাজ হলো দ্বীন ইসলামের খুটি । ঘরের খুটি ঠিক না থাকলে যেমন দুর্যোগ হতে ঘর রক্ষা করা কঠিন, তেমনি নামাজ বিহীন লোকের ঈমান রক্ষা করা কঠিন ।
পাচঁ ওয়াক্ত নামাযের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে একদা নবী করিম (সা.) উপস্হিত সাহাবাদের বললেন, যদি তোমাদের কারে ঘরের কাছে একটি নদী থাকে এবং যদি তোমরা প্রতিদিন পাচবার গোসল কর , তবে কি তোমাদের শরীরে কোন ময়লা থাকবে ? উত্তরে সাহাবীগণ বললেন , না কোন ময়লা থাকবেনা । তখন নবী করিম (সা.) বললেন, পাচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ তেমনি । এর দ্বারা আল্লাহপাক নামাজীর যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেন ।
সূত্র: দেশ-বিদেশ, ডিসেম্বর ২০১০.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



