একদা হযরত ঈসা (আঃ) একজন যুবকের পার্শ্ব দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলেন । যুবকটি বাগানে পানি-সিন্চন কার্যে রত ছিলো । হযরত ঈসা (আঃ) দেখে সে আরয করলোঃ 'হে আল্লাহ নবী ! আপনি দো'আ করুন, যেন আল্লাহ তা'য়ালা আমাকে তার মহব্বতের অণু পরিমাণ অংশ দান করেন ।'
হযরত ঈসা (আঃ) বললেনঃ 'তোমার মধ্যে তা সহ্য করার ক্ষমতা নাই ।' যুবক বললোঃ 'তা হলে অর্ধাণু পরিমাণ মহব্বতের জন্য দো'আ করুন ।' অতঃপর হযরত ঈসা (আঃ) দোয়া করলেনঃ 'হে মহান প্রভু ! এই যুবককে আপনার মহব্বতের অর্ধাণু পরিমাণ দান করুন ।' দো'আর পর হযরত ঈসা (আঃ) আপন পথে চলে গেলেন ।
দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি সেই যুবকের বাড়ীর পার্শ্ব দিয়ে যাওয়ার সময় তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন । লোকেরা বললো, বহুদিন যাবত যুবকটি পাগল অবস্হায় কালাতিপাত করছে এবং বর্তমানে সে পর্বতের চূড়ায় চূড়ায় ঘুরে বেড়ায় । এ খবর শুনে হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহর দরবারে দো'আ করলেনঃ 'হে আল্লাহ ! সেই নওজোয়ানের সাথে আমাকে সাক্ষাৎ করিয়ে দিন ।'
দো'আর হযরত ঈসা(আঃ) দেখতে পেলেন - সেই যুবক অসংখ্য পর্বতমালার মাঝখানে একটি উচু শিখরে আসমানের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আছে । হযরত ঈসা (আঃ) তাকে সালাম দিলেন ; কিন্তু সে কোন উত্তর দিল না । পুনরায় হযরত ঈসা (আঃ) নিজের পরিচয় দিয়ে বললেনঃ 'আমি ঈসা' । তবু তার মধ্যে কোন পরিবর্তন নেই ।
এ সময় আল্লাহর পক্ষ হতে হযরত ঈসা (আঃ) এর প্রতি ওহী আসলোঃ 'হে ঈসা ! যার অন্তরে আমার মহব্বতের অর্ধাণূ পরিমাণও প্রবেশ করেছে, সে কখনও মানুষের আওয়ায শুনতে পারে না । শুনে রাখ, - আমার মহত্ব ও পরাক্রমশীলতার কসম, তুমি যদি করাত দিয়ে তাকে চৌচিরও করে দাও, তবু সে বিন্দুমাত্র অনুভব করবে না ।'
সূত্রঃ মুকাশাফাতুল-ক্বুলুব । ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


