যেসব মুসলিম ভাইয়েরা ইসলামী রাজনীতি করতেছেন এটা মনে করে যে জামাতে ইসলামী করে ইসলামের সেবা করতেছেন তাদের নিকট অনুরোধ হয় জামাতে ইসলামী ত্যাগ করে অন্য কোন ইসলামী দল করেন, না হয় রাজনীতি করা ছেড়ে দেন ।
জামায়াতে ইসলামী করে ইসলাম ও দেশের কোন উপকার হবেনা । এটা ঠিক বর্তমানে জামায়াত বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম দল । কিন্তু আপামর দেশের মানুষের তথা নতুন প্রজন্মের সমর্থন এই দল কখনও পাবে না এটা নিশ্চিত । সমর্থন যা আছে তা মনে হয় শুধু মাত্র তাদেরই নিজস্ব সমর্থক ও সামান্য কিছু সহজ সরল মানুষ যারা আপনাদের দ্বারা কোনভাবে বেনিফেশীয়ারী তারাই ।
তবে মূল কথা হলো যে কোন কাজ করতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য । কোন দল বা মানুষের খূশী করার জন্য নয় । জামাতে ইসলামী কি রাজনীতি করছে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ? না ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ? বিষয়টা ভালো ভাবে খেয়াল করেন । আপনাদের বক্তব্য হতে পারে ক্ষমতায় না গেলে ইসলাম কায়েম করব কিভাবে ? আপনাদের আমল ও নিয়ত সহীহ অর্থাৎ শুদ্ধ না হলে আপনারা ক্ষমতায় গেলেও ইসলাম কায়েম করতে পারবেন না । বি.এন.পির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় গিয়ে ইসলামের জন্য জামায়াত ইসলামী দৃশ্যত কোন কাজ করেছে কি ?
আর জামায়াতের নিয়ত যখন ঠিক হয়ে যাবে , সত্যিকারের ইসলামের জন্য কাজ করবে তখন ক্ষমতার জন্য রাজনীতি না করলেও তখন আল্লাহর সহযোগিতা পাওয়া যাবে এবং মানুষ এমনিতেই তখন ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে । যেমন দেখুন তুরস্কের দিকে, তিউনিসিয়া ও মিশরের দিকে ।
যে দলের মূল নেতৃস্হানীয় লোকজন ৭১ এ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছে পাকিস্তান রক্ষার নামে তাদের নিয়ত সহীহ হয় কিভাবে ? আর যেখানে গোড়ায় গলদ সেখানে শাখা প্রশাখা ভালো হয় কিভাবে ? নিজের দেশের মানুষকে তখন অন্যায়ভাবে পাখির মতো গুলি মারা হয়েছে , মা-বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছে, একজন মুমিন মুসলমান কিভাবে এগুলো সহ্য করে ? ইসলাম কি পাকিস্তানের অংশ ? না পাকিস্তানের আর্মিরা ইসলামের সেবক ছিলো ? ৭১ সালে যারাই যুদ্ধ করে নাই , প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলে নাই তারাই তো অপরাধী ।
আজকে মাওলানা গোলাম আযমের ইন্টারভিউ দেখলাম । তিনি জামায়াতের সাবেক আমীর । উনার বক্তব্য হলো উনি কোন দোষ করেন নি । উনার কোন অপরাধ প্রমাণ করা যাবেনা । যে ব্যাক্তি দেশের এরকম ক্রান্তিকালে যুদ্ধ না করে চুপচাপ বসে থাকে সে কিভাবে নির্দোষ ? তার কি আর কোন দোষ প্রমাণের প্রয়োজন আছে ? আর তিনি যদি কোন দোষ না করেন তাহলে ভালো কথা , উনার পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে তখন যুদ্ধ করতে মন সায় দেইনি বা সাহসে কুলায় নি । কিন্তু যদি উনার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা যায় এবং উনার ফাসি হয় তাহলে কি ছাত্র শিবিরের উচিত হবে গাড়ি ভংচুড় করা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করা ? মহানবী (সা.) কি বলেন নি যে, আমার মেয়ে ফাতেমাও যদি চুরি করে তবু আমি তার হাত কাটার আদেশ দিব ।
আজ বাংলাদেশের মুসলমান কেউ মুজিবের আদর্শ বাস্তবায়ন করার কথা বলে মুজিবের পূজা করে, জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের কথা বলে জিয়ার পূজা করে আর জামায়াত ইসলামী মওদুদীর আদর্শ এর কথা বলে মওদুদীর পূজা করে । অথচ সাহাবীরা কিন্তু মহানবী (সা.) এর পূজা করেন নি । করেছেন আল্লাহর বন্দেগী ও মহানবী (সা.) অনুসরণ । হযরত আবুবকর (রা.) খলিফা হওয়ার পর বলে ছিলেন, আমি যদি কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোন কথা বলি তাহলে তোমরা আমার কথা মানবেনা । আর জামায়াত নেতারা ছাত্র শিবিরকে ছাত্রলীগের পিছনে লেলিয়ে দেয় । দুই পক্ষের মারামারিতে শিবির মারা গেলে বলে শহীদ । এইটা কোন ধরনের শহীদ আমার বুঝে আসে না ।
সবশেষে আপনাদের ভাই সম্বোধন করে বলছি, আপনারা যদি সত্যিকার ভাবেই ইসলামের জন্য তথা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করতে চান তবে জামায়াত এর আছর থেকে মুক্ত হয়ে, তওবা করে ও পিছনের কাজের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ নিয়ত সহীহ করে অন্য কোন ইসলামী দলে যোগদান করুন । আপনাদের দ্বারা অন্য দল শক্তিশালী হবে । আপনাদের দ্বারা আর যাই হোক দুর্নিতি হবে না এটা আমি জানি , তেমনি ভাবে আজ যদি দেশ বহিঃশত্রু দ্বারা দেশ আক্রান্ত হয় আপনারা অন্য দেশে পালিয়েও যাবেন না । তাদেরই আজ বাংলাদেশের বড় দরকার যার মধ্যে সত্যিকারের ঈমান আছে ও দেশ প্রেম আছে । বর্তমানে যুব সমাজের মধ্যে এই দুটি এক সাথে নেই বললেই চলে ।
কাউকে ব্যাক্তিগতভাবে আক্রমণ করার জন্য আমি কিছূ লিখিনি । তারপরও কেউ মনে আঘাত পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমা প্রার্থী । ধন্যবাদ ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



