somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল-কুরআন এর সরল অনুবাদ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া সবার কাজ নয় । প্রতিটি মুসলমানেরই এটা জানা জরুরী ।

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুধু কোরআনের সহজ বাংলা অনুবাদ পাঠ যথেষ্ট নহে । যাহারা অনুবাদ সহ কুরআন তেলাওয়াত করিয়া থাকেন , তাহাদের মধ্যে এই ক্রটি পরিলক্ষিত হয় যে তাহারা কুরআনের বাংলা অনুবাধ পড়িয়া তাহার সঠিক ব্যাখ্যা খুজার চেষ্টা করেন না । এখন কুরআনের অর্থ অনুধাবন করার অর্থ এই নয় যে, কুরআন অর্থ সহ পড়িয়া তাহার ভাবার্থ অনুধাবন করার চেষ্টা করিতে হইবে । শুধুমাত্র অর্থসহ কুরআন পড়িয়া তাহার মূল অর্থ বোঝা সবার জন্য সম্ভব নহে । সত্য বলিতে গেলে বিজ্ঞ আলেম ছাড়া সাধারণ মানুষ এর কাজ তা নয় ।

অনেক স্হলে দেখা গিয়েছে , শুধুমাত্র অনুবাদ পাঠ করিয়া কোরআনের অনেক কিছুই বোঝা সম্ভবপর নহে । কেননা, কুরআনে এমন অনেক বিষয় বস্তু রহিয়াছে যাহা বুঝিতে হইলে ব্যাকরণশাস্ত্র, অলংকারশাস্ত্র ও মানসুখ অর্থাৎ রহিত ও রহিতকারী আয়াত সমূহ , ওছুল এবং ফেকাহ প্রভৃতি কতিপয় শাস্ত্রে বুৎপত্তি থাকা একান্ত প্রয়োজন । এই প্রাথমিক শাস্ত্রগুলিতে যতক্ষণ পর্যন্ত কেহ জ্ঞান লাভ না করিবে ততক্ষণ পর্যন্ত কাহারও কুরআনের সরল অনুবাদ পাঠ করিয়া তাহার ব্যাখ্যা করা কোনরূপেই উচিত নয় । করিলে তাহাতে ভূল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রহিয়া যায় । অথচ আজকাল কিছূ মানুষ তাহাই করিতেছে । হাদিসেও কঠোর নিষেধ আছে আলেম ছাড়া যে কারোর-ই কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান না করার বিষয়ে।

তদুপরি সবচেয়ে বড় সমস্যা এই যে, কোন কিছূ বুঝিতে অক্ষম হইলে অপরের নিকট জিজ্ঞাসা করিয়া অবগত হওয়ার অভ্যাস আজকাল মানুষের মধ্যে অতি বিরল । কোন বিষয়ে সন্দেহ জন্মিলে অধিকাংশ লোকই নিজের বিবেকানুযায়ী উহার কোন না কোন অর্থ আবিস্কার করিয়া লয় । ইহার ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল সিন্ধান্তে আসার ফলে ঈমান ও আকীদাও নষ্ট হয় । (যেমন এক ব্লগার লিখিয়াছেন কুরআন অনুসারে ইহুদী থেকে মুসলমান না হইলেও নাকি কোন সমস্যা নাই অথচ এ ব্যাপারে মহানবী (সাঃ) স্পষ্ট হাদিস আছে মহানবী (সাঃ) আসার পর ইসলাম গ্রহণ ছাড়া যেই মৃত্যু বরণ করবে তার দ্বীন গ্রহণ যোগ্য হইবে না)

এখন আমাদের মত সাধারণ মানুষের উপায় কি ? উপায় হইলো কোন বিজ্ঞ ও পরিচিত আলেম দ্বারা লিখিত কুরআনের তাফসীর ও ব্যাখ্যা পাঠ করা । এখন এজন্য বিজ্ঞ আলেম ও উনার লেখার অনুসন্ধান খুবই জরুরী ।

আসুন একটা উদাহরণ দিয়ে আলোচনা কারা যাক । ধরা যাক একটি শহরে দুই জন চিকিৎসক রহিয়াছেন । একজন চিকিৎসাশাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী । উনার রোগ নির্ণয় এবং ওষুধ নির্বাচনে কোন ভূল সাধারণত হয় না । কিন্তু ভাষাগত দিক দিয়ে তিনি অত্যন্তু দুর্বল এবং চুপ চাপ স্বভাবের ব্যাক্তি । অপরদিকে অন্য চিকিৎসক ভাষা গত দিকে দিয়ে অনেক পটু । কথা দিয়ে মানুষের মন জয় করে ফেলেন । কিন্তু চিকিৎসা শাস্ত্রে অতটা দক্ষ ও বিচক্ষণ নহেন । এখন আপনারা ভাবিয়া বলূন, আপনাদের রোগ হইলে আপনারা কার নিকট ওষুধের জন্য যাইবেন ? নিশ্চয়ই যে চিকিৎসা ভালো জানে তার নিকট । কেননা রোগ মুক্তি-ই উদ্দেশ্য , কথা শুনে খুশী হওয়ার জন্য নয় ।

বন্ধুগণ ! আমরা যদি কুরআন শরীফকে আমাদের 'রূহানী' রোগের চিকিৎসা গ্রন্হ মনে করি তাহলে উহার তরজমা ও তাফসীর গ্রন্হ নির্বাচনের বেলায়ও একজন নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞ আলোমের তাফসীর ও ব্যাখ্যা নির্বাচন করাও জরুরী । কোন তরজমা ভাষার দিক দিয়া চাকচিক্যময় হইলেও তাহা যদি একজন বিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য আলেমের না হয় তবে তাহা অবশ্যই পরিত্যাজ্য ।

বন্ধুগণ ! দুনিয়াবী কাজ কর্মের প্রতি লক্ষ্য করুন । সামান্য সামান্য কাজগুলিও উস্তাদের নিকট না শিখিলে কেহ নিজে নিজে আয়ত্ব করিতে পারেনা । এমনকি কাঠ মিস্ত্রির কাজ যদি কেহ উস্তাদ ব্যতীত নিজে নিজে শিখিতে আরম্ভ করে তবে সে নিশ্চয়-ই নিজের হাত-পা কাটিয়া ফেলিতে আরম্ভ করিবে । অথচ প্রত্যেক মানুষ জীবনে বহু কাঠ মিস্ত্রিকে স্বচক্ষে আসবাব পত্র বানাইতে দেখিয়াছে । কিন্তু এক্ষেত্রে কেহ এরূপ বলে না যে, আমি কাঠ মিস্ত্রিকে চেয়ার বানাইতে দেখিয়াছি , সুতরাং আমিও তাহা তৈরী করিতে পারিব । দুনিয়াবী সমস্ত কাজে আমরা জানি যে, শিক্ষকের নিকট শিক্ষা ব্যতীত আমরা তাহা শিখিতে পারিবনা , করিতে পারিব না ।

কিন্তু নিতান্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, পবিত্র কুরআন শরীফকে আমরা খুবই সাধারণ গ্রন্হের পর্যায়ে নিয়া গিয়াছি । কোন শিক্ষকের নিকট ইহা শিক্ষা করা ব্যতীত-ই আমরা ইহার অনুবাদ পড়িয়া ব্যখ্যা করা শুরু করিয়া দিয়াছি । যার ফলে আমরা নিজেরাও ধ্বংস হইতেছি এবং অন্যকেও যাদেরকে এই ব্যাখ্যা শুনাইতেছি ও পড়াইতেছি , তাদেরকেও ধ্বংস করিতেছি ।

অনুগ্রহ করে আমরা এরূপ বিপদজনক কাজ হইতে বিরত হই এবং অন্যদেরকেও সাধবান করিয়া দেই যাহারা এরূপ কাজ করিতেছে ।

আল্লাহ আমাদের সকলকে কুরানের সঠিক অনুবাদ ও তাহার ব্যাখ্যা জানার তৈাফিক দান করুন । আমিন ।

সূত্রঃ মাওয়া-ই-আশরাফিয়া । মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ) । এমদাদিয়া লাইব্রেরী । চক বাজার, ঢাকা ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:২১
১৫টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×