মহানবী (সাঃ) জান্নাতী ও জাহান্নামী লোকদের কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা দিয়ে গেছেন । সাধারণতঃ এসব বৈশিষ্ট্য দেখে চিনতে পারা যায় কোন সব লোক জান্নাতী হবে এবং কোন সব লোক জাহান্নামী হবে ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) বর্ণনা করেন, দোযখ সম্পর্কে আলোচনার সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলিলেন, দোযখী হইতেছে সেই সব লোক যাহারা রুঢ় মেজাজের পরিচয় দেয়, যাহারা মোটা-সোটা (অহংকারী), দর্পিত ভঙ্গিতে হাটাচলা করে , অহংকার করে, অধিক অর্থ সম্পদ সন্চয় করে , তারপর সেই সব অর্থ সম্পদ কুক্ষিগত করে (জমা করিয়া রাখিয়া দেয়) । পক্ষান্তরে তাহারা জান্নাতী লোক যাহারা দুর্বল অর্থাৎ যাহারা মানুষের সহিত বিনয় এবং নম্রতার পরিচয় দেয় । অন্যরা তাহাদেরকে চাপের মধ্যে রাখে । (মোসনাদে আহমদ, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ)
হযরত হারেছা ইবনে ওয়াহাব (রাঃ) বলেন, রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন , কাহারা জান্নাতী সে কথা আমি কি তোমাদের বলিব না ? জান্নাতী হইতেছে দুর্বল ব্যাক্তি । আচার ব্যবহারে যে ব্যাক্তি বিনয়ী, নম্র বা দুর্বল । সে কঠিন ব্যবহার করে না । অন্য লোকেরা তাহাকে মনে করে দুর্বল । সেই ব্যাক্তি যদি আল্লাহ তায়ালার নামে কোন কসম করে তবে আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তাহার কসম পূর্ণ করেন । জাহান্নামী কারা সে কথা কি আমি তোমাদের বলিব না ? সেই সব লোক জাহান্নামী যাহারা অর্থ সম্পদ সন্চয় করে , কৃপণতা করে , কঠোর মেজাজের অধিকারী এবং অহংকার প্রকাশ করে । (বোখারী )
সুতরাং আমার প্রিয় ভাইয়েরা, আমরা অনেক সময় আমাদের চেয়ে নিচের মর্যাদার লোকের সহিত খারাপ ব্যবহার করি, বিশেষ করে কাজের লোক এবং রিকশাওয়ালাদের সাথে । মহানবী (সাঃ) এর উপরোক্ত হাদীস জানার পর আমরা নিজেদেরকে সংশোধন করি এবং নিজেকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করি ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



