somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভন্ডের সত্য বয়ান!-১

০৪ ঠা জুন, ২০০৯ রাত ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তের কেজি ইলিশ
তের কেজি ওজনের ইলিশ!! অসম্ভব হতেই পারেনা-আমি দেখা-শোনাতো দুরের কথা কোন বইতেও পড়ি নাই।
-হ্যা-রে ভাই, আমি নিজের চোখে দেখছি।…হাটখোলায় এক জাইল্যা পাইছিল- পত্রিকাতে আসছিল আপনে দ্যাখেন নাই?
-নারে ভাই বিশ্বাস হয়না।
তার কথায় আমার এক আত্মীয়া সমর্থন করায় আমি মানতে বাধ্য হলাম। মনে মনে ভাবছিলাম-
তের কেজি ওজনের ইলিশ -এতো বড় সড় পাঙ্গাস মাছের সমান!কিভাবে সম্ভব?আমি পদ্মার পাড়ের ছেলে হয়ে বড়জোর আড়াই তিন কেজি ওজনের ইলিশ দেখেছি, ব্যাতিক্রম হলে হয়তো পাচ ছয় কেজি হতে পারে,তাই বলে তের কেজি!
-জানেন সেইদিন আব্বার এক মুরিদ আসছিল কুয়াকাটা থেইক্যা। একদম তাজা চকচকা আধামন ইলিশ আনছিল- একেকটা কমপক্ষে দুই আড়াই কেজি।
-কি কও মিয়া! তোমার বাড়ির পাশে আমি থাকি আর তুমি দুই একখান ইলিশ আমারে পাঠাইলা না। বাজারে যখন এই সাইজ ইলিশ দেখি ১৮০০-২০০০ টাকায় তখন ভাবি একদিন একখান কিনে সাজগোজ কইরা ছবি টবি তুইলা খাব!
-হাঃ হাঃ আমি ভাবছিলাম আপনার কথা। কিন্তু আপনে যে ব্যাস্ত মানুষ আপনারে পাব কি এই ভাইবা আর দেই নাই।ওই ইলিশ দেইখ্যা আব্বা আমার ভাবিরে কইল, আম্মা কাচা মিরচ পেয়াজ দিয়া ভাল কইরা ঝোল কর।
ভাবি কইল, আব্বা এত রাইতে ইলিশ মাছ রাধার দরকার নাই- সকালে রাধি?
আব্বা শুইনা কইল কি জানেন, -‘মারে,বুড়া হইয়া গেছি-মরন কখন আসে বলা যায়না-আইজ রাইতে এই ইলিশ না খাইয়া যদি মইরা যাই তাইলে বেহেশতে গিয়াও শান্তি পাবনা।
ইলিশের প্রসঙ্গ আসলেই আমার সৈ.মু. আলীর সেই বিখ্যাত উক্তিটির কথা মনে পড়ে,
-আবার ইলিশ। সুশীল পাঠক আমাকে ক্ষমা করো।ঐ বস্তুটির প্রতি আমার মারাত্মক দুর্বলতা আছে-বেহেশতের বর্ণনাতে ইলিশের উল্লেখ নেই বলে পাচ-বখৎ নামাজ পড়ে সেথায় যাবার বাসনা আমার নেই।‘
কিংবা বাদশা সালামৎ এর সেই মাছ খেয়ে শহিদ হওয়ার গল্প;
-‘আমার মনে প্রশ্ন জাগল বাদশা সালামৎ কি মাছ খেয়ে শহিদ হলেন?’
শান ই শাহ বাদশা সালামৎ মুহম্মদ তুঘলক শাহ ইলিশে চড়েই স্বর্গে গিয়েছেন। স্বর্গে যাবেননাতে কোথায় যাবেন?ইলিশ খেয়ে যে প্রান দেয় সে তো শহীদ!
সেদিন মুর্শিদাবাদ থেকে আসা আমার এক ভারতীয় বন্ধু বাসায় সর্ষে ইলিশ খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলল,
-তোমরা কি তাজা ইলিশ খাও?
-তাজা ইলিশ বলতে কি জ্যান্ত নড়াচড়া করছে এইরকম ইলিশের কথা বলছ?
সে বেকুবের মত তাকিয়ে বলল, আমি জানি ইলিশ ধরার পরেই মারা যায়। বলতে চাচ্ছিলাম বরফ ছাড়া ইলিশ খেয়েছ নাকি?
-ঢাকায়তো বরফ ছাড়া ইলিশ পাওয়া যায়না। ইলিশের সিজনে দেশে গেলে খাই।
-তাই নাকি?খেতে কেমন?
-সেইরকম-স্বাদ।তাজা ইলিশ জেলেরা যখন ডালাতে সাজিয়ে রাখে-রুপ দেখে প্রান জুড়ায়।চকচকে ইলিশের দেহ জুড়ে যেন রংধনুর সাতরং এর বাহার। বরফ দিলে মাছ সোজা হয়ে যায় কিন্তু তাজা ইলিশ বাকা থাকে ঠিক পানসি নৌকার মত।
বন্ধু আমার ইলিশ সন্মন্ধে আমার এই বিশাল গিয়ানি বক্তব্যে টাসকি খাইল!
আর আমি মনে মনে আমি ফিচিক ফিচিক করে হাসলাম। তাজা ইলিশ খাওয়া যে এতবড় সৌভাগ্যের ব্যাপার এই প্রথম জানলাম।
এইটুকুতেই ও টাসকি খাইছে! যদি আমি এই তের কেজি ইলিশের কথা বলতাম তাহলে নিঃসন্দেহে হার্টফেল করত। বাদশা সালামৎ তাও ইলিশ খেয়ে শহিদ হয়েছেন আর ও শুনেই শহিদ হত!
যাহোক ইলিশ নিয়ে বহুৎ প্যাচাল হইল-এইবার পূর্ব প্রসঙ্গে ফিরে যাই;

ওর কথা বলার ধরন দেখে আমরা হাসতে হাসতে ঢলে পড়ি। কোনটা চাপা আর কোনটা সত্যি বোঝা দায়- তবুও এই মুখ ভর্তি চাপ দাড়ি জোব্বা পড়া অনেকের প্রিয় তাফসির বিদ আমার ছোট ভাইয়ের মত এক কালের দুর্দান্ত ফাজিল আর দুরন্ত সুদর্শন আলমের কথা অবিশ্বাস করতে মন চায়না।
গল্প যেটাই হোক ওর বলার ভঙ্গী দেখে হাসতে বাধ্য। সেও উৎসাহ পেয়ে সমান তালে বলে যাচ্ছে।
দক্ষিন বঙ্গের বিখ্যাত তাফসিরবিদের ছেলে সে। ছোটবেলায় ওর আব্বার ওয়াজ শুনে বিমোহিত হয়ে যেতাম। দারুন সুললিত কন্ঠের অধিকারি আমার আব্বার বন্ধু স্থানীয় সেই ভদ্রলোকের ওয়াজ শুনে মোহিত হয়ে শত শত মুসুল্লীরা কখনো জোর গলায় হেসে উঠত কখনো হাউ মাউ করে কাদত। আলেম ফাজেল পাশ করে ঢাকা ভার্সিটি থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করা বাগ্মী এই ছোট ছেলে বাবার পেশাটাকেই বেছে নিয়েছে।তার বৃদ্ধ বাবার মুরিদরাই এখন তাকে যথেষ্ট মান্য-গন্য করে ছোট হুজুর বলে ডাকে।
ওর বড় ভাই আমার ক্লাস মেট ছিল। ক্লাসের ফাজিল গ্রুপের অন্যতম প্রতিনিধি ছিল সে। আমরা আড়ালে তাকে বলতাম আলেমের ঘরের জালেম।বাপকে ভীষন হতাশ করে মেট্রিকের গন্ডি পার হতে না পেরে সে এখন এক মসজিদের ইমামতি করে তবে মুল পেশা তার বিয়ে পড়ানো(যাকে বলে কাজি)। চাপা বেচে যুৎ করতে না পেরে সাথে ঝাড় ফুক দিয়ে ভালই কামায়।

ঝাড় ফুকের আধুনিকি করন :)
আমার সেই স্কুল ফ্রেন্ডের কথা কথা জিজ্ঞেস করতেই আলম হেসে ফেলল।
-আরে ও এখনো সেই আদ্যি কালের ঝাড় ফুক নিয়ে আছে। আমি কইলাম, ভাইজান, লোকজন আর এই সবে বিশ্বাস করে না-তোমারে আরেকটু মর্ডান হইতে হবে।
ক্যামনে?
ওরে কইলাম,-পায়জামা ছাইড়া সেলাই ছাড়া সাদা লুঙ্গি পর। মাথায় একখান পাগড়ি পইরা চোখে কড়া কইরা সুরমা লাগাও। মুরিদ বা রোগী আইলে কথা কইবা কম-খালি মুখের দিকে তাকাইয়া মিটি মিটি হাসবা। ভাবখানা এমন যে তুমি তার মনের কথা পুরাডা পইড়া ফ্যালাইতেছ। শক্তি আর হামদর্দ থেইক্যা কিছু সালসা আইনা লেবেল উঠাইয়া তাক ভইরা সাজায় রাখ। রোগী আইলে রোগ বুইঝা এক বোতল সালসায় ভাল মত ঝাড় ফুক দিয়া ধরায় দিবা, বলবা অজু কইরা আইসা ডান হাতে নেন। অপবিত্র শরিরে এই বোতল ধরবেন না তাইলে অসুখ সরবে না। দেখবা রোগও সারবে তোমার দামও বাড়বে।
-আর কি কইলা?
-আরো কইলাম কিছু কিছু শিকড় বাকড় দিয়া বয়াম ভর্তি কইরা রাখ। তাবিজ পার্টি আইলে(যদি মহিলা হয় আরো ভাল) এই যেইরকম ধর বাজা, স্বামীর সাথে গন্ডগোল, সতিনের সাথে ঝামেলা এই গুলারে তাবিজ দিবা।পুরা বয়াম অনেক কইরা খুইজা একদম নীচ থেইক্যা একখান শিকড় বাইর কইরা মিটিমিটি হাসবা কিছুক্ষন। ভাবখান যে আসল জিনিস পাইয়া গেছ-এইটা ভীষন জটিল গাছের শিকড়। তার থেইকা একটু খানি কাইট্যা তাবিজে ভইরা ফু দিয়া বলবা ফজরের আজানের আগে সাফ সুরত হইয়া কোমড়ে ধারন করতে।
আমি হাসতে হাসতে জিজ্ঞস করি,-শুনে তোমার ভাই কি কইল?
কথা মনে হয় ওর মনে ধরছিল। হাসতে হাসতে আমারে কিছুক্ষন গালিগালাজ করল।
...ক্রমশ
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০০৯ রাত ১০:৩৬
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×