somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মৃত বিজ্ঞাপন চিত্রের গল্প!

২২ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২.
সাল ২০০২, পহেলা ফেব্রুয়ারীর বিকেলে ;
আমার দুই চরমপ্রকৃতি প্রেমী ডাইলখোর বন্ধু জোর করে দক্ষিন পাইকপাড়া নিয়ে গেল।ওদের মধ্যেযে পালের গোঁদা তার বড় ভাই নাকি একখন্ড জমি কিনেছে সেটা দেখাতে।বলল চল-শহরের মাঝে ছোট্টএকটা গ্রাম দেখে আসি।
কাজকর্ম নাই-কি আর করার, এমন ভাবে বলল যে না করতে পারলামনা, গেলাম ওদের সাথে। দশ কাঠা জমির উপর ছোট্র একটা জীর্ন টিনের ঘর। প্রচুর গাছপালা ঘেরা নির্জন ঘরে ঢুকে আসলেই ভাল লাগছিল।ওরা এসেই ডাইলের ফিলিংস-এ ডুব দিয়েছে।।
হঠাৎ বাইরে শেরগোল কারা এসে যেন দরজা পেটাচ্ছে। বন্ধু দুজন বাইরে যেতেই শুরু হল উচ্চস্বরে চেঁচামেচি।ব্যাপার বুঝতে দেরি হল- কিছু উটকো ছেলে এসে বড় অংকের চাদা দাবি করেছিল নাকি।এই নিয়ে চরম অবস্থা- খুনোখুনির পর্যায়ে যায় প্রায়। আমি পড়লাম কোন ফ্যাসাদে!
ওই মাসে তিন তিনটে বিয়ে ছিল বন্ধু আর আত্মীয়ের। একটায় গেলাম বাধ্য হয়ে-অন্যগুলোয় বিরাট কর্মব্যাস্ততা দেখিয়ে সটকে গেলাম!
অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছি। টেনশনে ইদানিং মাথার চুল পরে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে হাই প্রেশারও হয়েছে।
আজ এমির(আমার তিনি) সাথে দেখা করার কথা ছিল। পকেটে টাকা নেই। ও ফোন করেছিল অসুখের অজুহাতে এড়িয়ে গেলাম।
সেদিন কাট দিলেই দুদিন বাদে ঠিকই তার সাথে দেখা করতে বের হলাম। যদিও খুব একটা ইচ্ছে করছিল না।প্রচন্ড মানসিক টেনশন।মাঝপথে ও ফোন করল। বলল বিশেষ কাজে আটকে গেছে জানাল কাল দেখা করবে।উফ বাচলাম!
মোবাইলের আউটগোয়িং বন্ধ। কিছু মানুষের টাকা দেবার কথা।টাকা দিতে ক’দিন দেরি হবে সামনাসামনি বলতে লজ্জা লাগে – টেলিফোনে একটু সহজ।দেনার ভার কখোনো আমাকে এতটা চেপে বসেনি। পথেই একজন ফোন করল। আমি খুব দুঃখ প্রকাশ করলাম। জানালাম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওর টাকা দিয়ে দিব।নিজের আত্ম মর্যাদায় ভীষন আঘাত লাগছিল।
মাসের দশম দিনে মোবাইলের ইনকামিংও গন। দুইদিন ঝিম মেরে থাকলাম। লাইন চালু করার কোন উদ্যোগ নিলাম না ।
১২ তারিখ সকালে বড় বোনের কাছে মোবাইল বিল দেয়ার জন্য টাকা ধার চাইলাম। খুব সহজেই দিয়ে দিল। গুলশানে গেলাম বিল দিতে।
এমি ঠিক দু-দিন ধরে চেস্টা করছে,স্বভাবতই আমাকে পাচ্ছে না! মজাই লাগছে! দুপুরের দিকে লাইন চালু হল। কিছুক্ষন পরেই ও ফোন করল। আমি বিনিত ভাবে স্যরি বললাম। সে জানাল মোবাইল বন্ধ দেখে খুব টেনশনে ছিল। সেটাই স্বাভাবিক- মনে মনে হাসলাম! বলল কাল দেখা করবে। আচমকা কিছু ধার দেয়া টাকা ফেরৎ পেলাম।যাক আগামী কয়েকদিনের জন্য নিশ্চিন্ত।
১৩ ফেব্রুয়ারী -পয়লা ফাল্গুন। এমির সাথে আজকে হয়ত দেখা করতেই হবে। সেজন্য একবারে প্রিপারেশন নিয়ে বের হওয়ার উদ্যোগ নিলাম। বের হওয়ার কিছুক্ষন আগে ও ফোন করল। জানাল জরুরি মিটিং-এর জন্য আজ বের হতে পারবে না।
প্রতিদিনই দেখা করার সময় কেন যে একটা সমস্যা হয়ে যাচ্ছে, বিষয়টা নিয়ে সে বেশ চিন্তিত মনে হল।আমি ফের হাঁফ ছেড়ে বাচলাম!
আজকের পোগ্রাম ক্যানসেল অগত্যা বাসা থেকে বের হলাম বই মেলার উদ্যেশ্যে। বাসে ওঠার মুখে বেশ ডাকসাইটে এ্যাড এজেন্সীতে কর্মরত আমার এক সাথে দেখা। তারও সপ্ন প্রোডাকসনে যাবার- কিন্তু ভীষন ঢিলা টাইপের মানুষ সে। একসাথে গল্প করতে করতে প্রেসক্লাব পর্যন্ত গেলাম।ওকে বললাম এখনই কোন প্রোগ্রাম প্রোডাকসন করার জন্য।সময়টা ভাল যাচ্ছে- অযথা কেন সময় ক্ষেপন করছে?

সেদিনের একটা টুকরো গল্পো : রশিদ। আমার সেই পার্টনারশীপ ব্যাবসার অফিস বয়। দারুন বিশ্বস্ত।কালো বেটে মত গোলগাল টাইপ। একটু ধীর। কথা খুব কম বলে,মুখ বুজে কাজ করে কোন কিছুতেই না করে না।সেই সঙ্গে খুব মিতব্যায়িও।
প্রচন্ড কর্মঠ হলেও বাইরে কোন কিছু আনতে পাঠালে প্রায়শই উধাও হয়ে যায়। এক আধ ঘন্টা থেকে কয়েক ঘন্টা এমনকি কয়েকদিনও উধাও থাকার নজির আছে। তবে যেটা আনতে দিয়েছি সেটা ঠিকই পৌছে যেত। যখন সে ফিরে আসত তখন দেরীর কারন জানতে চাইলে লাজুক হেসে মাথা নিচু করে বলে(বেশীর ভাগ সময়),ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিলাম।
ব্যাস ওইটুকুই,যতই রাগারাগী করা হোক মুখ বুজে থাকে টু শব্দটি করে না।
মাঝে মাঝে অবশ্য খুব মজার মজার কথা বলে।যেমন আজ :
দুপুরে আমি একা ছিলাম। বন্ধু কাম পার্টনার অসুস্থ!
টেলিফোনে এক বন্ধুর সাথে কথা শেষে ক্যাডেলে রিসিভার নামিয়ে রাখতেই হঠাৎ ও প্রশ্ন করল, আচ্ছা ... ভাই বইমেলা কই হয়?
আমি বললাম বাংলা একাডেমিতে, এত কাছে থাক জাননা ? বলেই একটু বিব্রত বোধ করলাম। ভাবলাম ওরতো জানার কথা নয়। আমরা তথাকথিত শিক্ষিতরাই কজন এর খবর রাখি।
ও দ্বীতিয় প্রশ্ন করল, বাংলা একাডেমি কই?
আমি তার কাছে জানতে চাইলাম টি এস সি চেনে কিনা?
ও সঙ্গে সঙ্গে বলল, ও বুচ্ছি আর কইতে হবে না। চিনতে পারছি।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি ওখানে বই কিনতে যাবা।
সে একটু লাজুক হেসে(তার চিরাচরিত ভঙ্গী) বলল, না,সোহাগরে চিংড়ি খাওয়াইতে নিয়া যাব।
আমি বিস্ময়ের দৃস্টিতে তার দিকে চেয়ে বললাম, কি চিংড়ি খাইতে মেলায় যাবা?
সে আবার হেসে বলল, হ্যা, শুনছি বইমেলার সামনে চিংড়ি(মানে চিংড়ির মাথা বেসন দিয়ে ভাজে)ভাজা বিক্রি হয়। সোহাগ মানে আমার সেই বন্ধুর( তার সে বন্ধু আমাদের এখানে প্রায়ই আসে। বয়সে রশিদের অর্ধেক হবে। সাইজে বার তেরোর বেশী মনে হয় না। রশিদের কথায় সে খুব শিক্ষিত। এই বয়সে ক্লাস সেভেনে পড়ে ! বন্ধুর প্রতি তার দারুন শ্রদ্ধাবোধ। ছেলেটি আসলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে সে বইপত্র পত্রিকা এনে দেয়। যতক্ষন এখানে থাকে ততক্ষন জ্ঞানী জ্ঞানী মুখখ ভঙ্গী করে সে পত্রিকা বা বইয়ের পাতায় দৃস্টি নিবদ্ধ রাখে।) চিংড়ি ভাজা খাওয়ার খুব শখ। আমি তারে কইছি বইমেলায় নিয়া খাওয়াব।
১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস।
সকালে একটু তাড়া তাড়ি অফিসে গেলাম।আমার পার্টনার বন্ধুর অনুরোধে তৎকালীন ডি এম পির ডিসি সাহেবের কম্পিউটারের সাথে চেয়ার টেবিল কিনতে গেলাম। প্রায় বেকার মানুষরে নিকটজন সুযোগ পেলেই তাদের ভাষায় ‘চরম গুরুত্বপূর্ন’ কিছু কাজ দেয়।
পুলিশের পিক আপে দুইজন রক্ষী সহ পান্থপথ চষে ফিরলাম কিন্তু কোনটাই পছন্দ হচ্ছিল না। এই প্রথম পুলিশভ্যানে চড়ার অভিজ্ঞতা! লোকজন যেভাবে তাকাচ্ছিল তাতে নিজেদেরকে অপরাধী বলে মনে হচ্ছিল।হায়রে কপাল ! কই আমি এমন দিনে প্রেমিকার সাথে রিক্সায় ঘুরে বাদাম চিবাবো-না তার বদলে পুলিশ ভ্যানে অপরাধীর মত ঘুরে বেড়াচ্ছি।
সেই পরিবারে এমনিতেই আমার ভয়াবহ সুনাম! তাদের কেউ যদি দেখে ফেলে আমাকে এই অবস্থায় তাহলে পুরা ফাইনাল!
ক্রমশ...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১৯
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×