somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুনঃপুন

০৫ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেফালীর একটি উদর ছিল। দেহের এ অংশটা তাকে জন্মের পর থেকে নানা ভাবে যন্ত্রনা দিয়ে চলেছে। এ উদর তাকে দিয়েছে ভিক্ষার ঝুলি, দিয়েছে লাঞ্চনার বোঝা। তার উদরের নিচে আর একটি অঙ্গ আছে। জন্মের পর থেকে ওটি নিয়ে সে খুব একটা চিন্তা করেনি। সে কখনো বোঝেনি যে ওটি দিয়ে জল বিয়োগ ছাড়া অন্য কোন কাজ হয়। এভাবে কেটেছে তেরোটি বছর। উদর ছাড়া তার আর কোন চিন্তা নেই। এটিকে ভরে রাখতে পালেই সব যন্ত্রনার অবসান।

শেফালীর তেরো বছর জীবনে সব থেকে আশ্চর্য বিষয় হলো তার বুকের মাংস গুলো অকারনেই বেড়ে চলেছে। আরো কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে যা সে কাউকে বলেনি। শেফালী জানতনা যে, তার জীবনে আরো একটি আশ্চর্য বাঁকী আছে। কিছু দিন যেতে না যেতেই সে নতুন আশ্চর্যটির মুখমুখি হলো।

একদিন সে প্রকান্ড গেটওয়ালা একটি বাড়ি ভিক্ষে চাইতে গেল। সে বাড়ির দারোয়ান তাকে আদর করে জিজ্ঞেস করলো, “তুমি ভিক্ষা করো কেন খুকু মনি”? শেফালী বলেছিল, “ভিক্ষা না করলে খামু কি?” “আহারে বেচারী” বলে লোকটা তাকে আদর করতে করতে ভেতরে নিয়ে গেলে। শেফালী ভয়ে ভয়ে তার সাথে ভেতরে গেলো। ঘরের ভেতর নিয়ে লোকটি তাকে অনেক কিছু খেতে দিলো। এতো মজার খাবার সে জীবনেও খায় নি। শেফালী তাকে প্রশ্ন করেঃ এতো বড় বাড়িতে আপনে একা থাকেন? লোকটা বলেঃ না তারা সবাই গ্রামের বাড়ি বেড়াইতে গেছে।

শেফালী বুঝতে পারেনা অচেনা এ লোকটি কেন তাকে এতো আদর করছে। আদরের মাত্রা বাড়তে বাড়তে লোকটি এক সময় তাকে জড়িয়ে ধরে একটি ধবধবে বিছনায় নিয়ে যায়। শেফালী কোন রকমে বলেঃ আফনে কি করেন? লোকটি বলেঃ সুন্দর আরাম পাইবা। এরপর যে কি হলো শেফালীর সারা শরীর ঝিমঝিম করতে লাগলো। একসময় মনে হলো, একটা গরম কি যেন তার শরীরের ভেতর ঢুকে গেলো। সে চিৎকার করতে যায় কিন্তু লোকটা শক্ত হাতে তার মুখ চেপে ধরে। ব্যাথায় শেফালীর কান্না পায় কিন্তু কাঁদতে পারেনা। লোকটা একসময় ক্লান্ত হয়ে শেফালীকে ছেড়ে দেয়।

এরপর দিন যায় মাস যায়, শেফালীর উদর ফুলে ফেঁপে মোটা হতে থাকে। শেফালীর উদর মোটা হতে হতে একসময় তরমুজের মতো হয়ে যায়। এটা কেমন কথা; পেটতো তার প্রতিদিনই মোটা হচ্ছে; তাহলে ক্ষিদে কেন কোমেনা? তার পেটের দিকে সবাই কেন চিকন চোখে চায়? তাকে কেন সবাই কলংকিনী কয়?

একদিন শেফালীকে কোন সুযোগ না দিয়েই তার উদরের ভেতর থেকে বের হয়ে আসে আর একটি উদর আর একটা ক্ষুধা। আর এক শেফালী জন্ম নেয় আজন্ম অন্ধকার গুহায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×