শেফালীর তেরো বছর জীবনে সব থেকে আশ্চর্য বিষয় হলো তার বুকের মাংস গুলো অকারনেই বেড়ে চলেছে। আরো কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে যা সে কাউকে বলেনি। শেফালী জানতনা যে, তার জীবনে আরো একটি আশ্চর্য বাঁকী আছে। কিছু দিন যেতে না যেতেই সে নতুন আশ্চর্যটির মুখমুখি হলো।
একদিন সে প্রকান্ড গেটওয়ালা একটি বাড়ি ভিক্ষে চাইতে গেল। সে বাড়ির দারোয়ান তাকে আদর করে জিজ্ঞেস করলো, “তুমি ভিক্ষা করো কেন খুকু মনি”? শেফালী বলেছিল, “ভিক্ষা না করলে খামু কি?” “আহারে বেচারী” বলে লোকটা তাকে আদর করতে করতে ভেতরে নিয়ে গেলে। শেফালী ভয়ে ভয়ে তার সাথে ভেতরে গেলো। ঘরের ভেতর নিয়ে লোকটি তাকে অনেক কিছু খেতে দিলো। এতো মজার খাবার সে জীবনেও খায় নি। শেফালী তাকে প্রশ্ন করেঃ এতো বড় বাড়িতে আপনে একা থাকেন? লোকটা বলেঃ না তারা সবাই গ্রামের বাড়ি বেড়াইতে গেছে।
শেফালী বুঝতে পারেনা অচেনা এ লোকটি কেন তাকে এতো আদর করছে। আদরের মাত্রা বাড়তে বাড়তে লোকটি এক সময় তাকে জড়িয়ে ধরে একটি ধবধবে বিছনায় নিয়ে যায়। শেফালী কোন রকমে বলেঃ আফনে কি করেন? লোকটি বলেঃ সুন্দর আরাম পাইবা। এরপর যে কি হলো শেফালীর সারা শরীর ঝিমঝিম করতে লাগলো। একসময় মনে হলো, একটা গরম কি যেন তার শরীরের ভেতর ঢুকে গেলো। সে চিৎকার করতে যায় কিন্তু লোকটা শক্ত হাতে তার মুখ চেপে ধরে। ব্যাথায় শেফালীর কান্না পায় কিন্তু কাঁদতে পারেনা। লোকটা একসময় ক্লান্ত হয়ে শেফালীকে ছেড়ে দেয়।
এরপর দিন যায় মাস যায়, শেফালীর উদর ফুলে ফেঁপে মোটা হতে থাকে। শেফালীর উদর মোটা হতে হতে একসময় তরমুজের মতো হয়ে যায়। এটা কেমন কথা; পেটতো তার প্রতিদিনই মোটা হচ্ছে; তাহলে ক্ষিদে কেন কোমেনা? তার পেটের দিকে সবাই কেন চিকন চোখে চায়? তাকে কেন সবাই কলংকিনী কয়?
একদিন শেফালীকে কোন সুযোগ না দিয়েই তার উদরের ভেতর থেকে বের হয়ে আসে আর একটি উদর আর একটা ক্ষুধা। আর এক শেফালী জন্ম নেয় আজন্ম অন্ধকার গুহায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



