শব্দ ছিটকে আসে। উঠোনে উঠোনে নাচে। পুষ্পবৃক্ষ নিছকই কাঠ হয়। অবশেষে অঙ্গার। মানুষেরা ঝরে যায়, নিজের নিলামদার হয়ে, বন্ধুট্রেনের তলায়। গাছেরাও প্রতি শীতে। ক্রমশ বিপদ আরো- সমুদ্র ক্ষুদেডোবা। জ্যোত্স্নার বালিকারা মাড়িয়ে শিশির অস্বচ্ছ ইস্কুলে যায়, স্তিমিত শীতরাত ল্যাম্পপোস্ট আলো, পুরুষ-কুয়াশায়। শোক-শাদা-নদী ছলাত্ছলাত এ সময় পোড়ানো গান। এখানে ওখানে পড়ে দলামোচা লাশ। ছেড়া-চট-ত্যানা মোড়া। আমি মর্গবারান্দা। আয়েশে ধরানো সুখ- ধোঁয়ায় অধরা, বারান্দার মেঘেরা বিরক্ত করে। দূরবর্তী বিলীনতা- আরো দূরে সোনার হরিণেরা। উন্মত্ত তাদের চারপেয়ে নাচ।
ভোরের আমেজ কাটে। অথচ সময় দোলা দেয়, মেয়েমানুষ। রিউমারগুলি। ভোর-ভোর জেগে উঠে প্রসন্ন প্রকৃতি, দ্রুত উড়ে চলে ঝিনুকস্বভাব শঙ্খের দিকে। কী আশ্চর্য! গানিরা দিনের অনিবার্য কোলাহলে, মৃতের পোষাক পড়ে। ধীরে খুব সবকিছু কোমল সারগাম। তানের ভেতরে ঢুকে, আমিই পৃথিবী, নগ্ন হাইওয়ে। ‘এসো মানুষ, পুড়ে যাচ্ছে নদী’ ডেকে ডেকে, পাখিকেই শিখি; একই তোতাকথা। শিখি উড়ানজীবন, দেখি আনত বিস্তৃতির জল। ভেতরে পর্বত-নদী, শ্যাওলা-অরণ্য, শত বিষ-গ্লানি, শীর্ষ মুহূর্তের মতো স্ফুট-আলোড়ন কম্পাঙ্কে, জাগে অগ্নিস্রাব। ফেটে চৌচির হয়। অজস্র ভাঙচুর। মৃন্ময় উঠোন। বিবিধ সঙ্গমস্থল। কোটিকলাব্রীড়া। অনুবিস্মরণ। ছায়াঘনত্বে দেখো, নিজের পিঠের দিকে রূপোলি নখের চির। ঠোঁটের নিজস্ব চাওয়া, তাপে-চাপে অদম্য স্প্রিঙনাচ। তাড়নায় বেজে ওঠা- ‘চুষে ফেলে দেয়া চোষ্য কেউ, মুখে নেয় নাকি!’
নিজের ভেতর থেকে আমিও নোড়ার ভার। শিশ্নেরগান। নত থাকা দুই হাঁটু মুড়ে। শরীরে শরীরে, শিরা-উপকূলে, হৃতপিণ্ড যকৃত আগ্নেয়গিরি, উদর-নাভীর হ্রদে, লোম-অরণ্যের গহীন পথহীন পথে। বিষাদ-আঁধারে বিষের ক্রিয়ারা। তীব্র স্বানুভব। খেলে যায়। পাক খায়, তেড়ে যায়, প্রতিহত হয়- তীব্র বিস্ফার। মাংসের অতল আবরণে শব্দরা বেড়ে ওঠে টলমল, টলমল। কেমন কোমল থেকে অন্ত্রের দিকে স্রোত তোলপাড়। বর্শার আঘাত হেনে রক্ত ঝরা গান। মুখ থমথমে। অথচ কি নৈমিত্তিক শরীর ঘনিষ্ঠতা। তাপসঞ্চালন। গন্ধ চলে এলে, চলে এলে ফুল নিজে, পড়ে থাকে শুধু যন্ত্রণাবিদ্ধ বুক, ক্রসফায়ার ইন্দ্রিয়ে কুঁকড়ে থাকা শীতে জলে নামা সেঁধিয়ে যাওয়া মোম। একটি জীবন পোড়ে, শুধুই পোড়ে, আকাশমেঘবৃষ্টি এবং ঝড়ে। কাজ শেষ। এবার নিয়তি, ভেঙে পড়া বৃক্ষরাজি, টুকরো টুকরো পর্বত। হৃদ-বাসভূমি, ভেসে যাবে বিষ-নদী জলে। ভেঙে পড়বে দেয়ালেরা, চুমুর কানুন।
আসন্ন বিলয়ে, শক্তি নেই কোন। প্রতিরোধের অমোঘ দেয়ালে ঠেকেছে কান্তপিঠ। ভাঙচুর হতে হতে, সকলই বিদুর লালার্ত মুদ্রার রঙ। আলো দেখি থির। ভেতরে নিষাদ সময় বিস্ফার। প্রার্থণাগীত- বেজে চলো। কম্পন থেকে কোন মুক্তি নেই। বিস্মরিত আগুনে পোড়ে নয়নের কোল।
রক্তবীজসম এই অন্ধকারে। হাতে আসে হাত। জানিনা কে তাকে করতলগত করেছে অকস্মাত্! কে সে? ও লো কে সে? এক মরে, আর এক বেঁচে ফিরে আসা? কথা বলো, কথা বলো। এক থেকে বহু? বহু বহু মরা! জ্বরের কম্বল থেকে খুঁটে খুঁটে তুলে ফেলি চোখ, আঁশ। ভেতরে চিত্কার তবু-
শব্দ নেই, শব্দ নেই কোনো।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



