হিরোকি'র সাথে আমাদের দলটার সখ্য হয়ে গেলো অল্প দিনেই। আমি তো এক ধাপ এগিয়ে। প্রতিদিন ওকে কঠিন কঠিন একটা করে বাংলা শব্দ শেখাই। লোকজন হিরোকিকে প্রশ্ন করে..''কেমন আছ'...ও আমার শিখিয়ে দেয়া বুলিতে বলে..'কিংকর্তব্যবিমুঢ় অবস্থায় আছি'...আর সবাই খুব অবাক হতো ওর কথা শুনে...হবারই কথা
হিরোকী টঙ্গীতে থাকতো...৩ মাস পর উঠে গেলো ইন্টারন্যাশনাল হলে...১০৮ নাম্বার রুম হলো আমাদের আরেক ঠিকানা। আমরা বন্ধু হলাম।
হিরোকীর সাথে পরিচয় হবার আগে থেকেই আমরা (আমি, শুভ, নিলয়, কিশোর, সুমী, শিমু, মাহবুব, পারভেজ, শোয়েব, মেরী, নীতু, মোবারক, রাজু, সবুজ, নিবিড়, তৌহিদ, মনি, আজমল, আতিক, মনজুর ভাই, হান্নান ভাই...আরো অনেকে...সবার নাম মনে পড়ছে না) লাইব্রেরী'র সামনের আড্ডাবাজরা সবাই মিলে একটা কিছু করবার স্বপ্ন দেখতাম। কত যে খসড়া প্লান করেছি ! আমাদের সেই স্বপ্ন বেগবান হলো হিরোকীকে পেয়ে।
কারন সেও বাংলাদেশে এসেছে এদেশে'র অসহায় মানুষদের জন্য 'কিছু একটা করবার' স্বপ্ন নিয়ে।
আমরা বন্ধুরা মিলে একটা মিটিং ডাকলাম। নতুন একটা উদযোগের ব্যাপারে অনেক আলোচনা হলো। আমরা খেয়াল করলাম...সার্কেলটা দিনে দিনে ছোট হয়ে আসছে...। সিনিয়ররা অনেক জ্ঞান দিলেন। বললেন এসব বাদ দিয়ে 'বি সি এস' এ মনোযোগী হতে ! মনে আছে এক বড় ভাই (তিনি এখন ঢা.বি.'র শিক্ষক) বলেছিলেন 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার রেজাল্ট একদিন পাইবা' । জ্বী ভাইয়া একটা রেজাল্ট আমরা পেয়েছি...তবে সে রেজাল্টে আমরা খুশী...
লাইব্রেরীর সামনে, কলাভবনে, হলের ছাদে, মধুর কেন্টিনে, মল চত্বরে, ফুলার রোডে....অসংখ সিটিং মীটিং এর পর অবশেষে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিলাম...
(চলবে)
একমাত্রা'র গল্প (১) পড়ুন:
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


