সেদিন বিকেলে সাহেদ তার কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিল। বাসে উঠবে তাই পান্থপথ থেকে হেটে ফার্মগেট যাচ্ছিল। রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম। ফুতপাতে হাটাও বেশ কস্টকর। মানুষ আর মানুষ। অফিস ছুটি তাই সবাই যার যার বাসায় ফিরছে।হঠাৎ দেখে ফুটপাতের পাশে একটা ল্যম্প পোস্টের নিচে নীল রঙের ভাঁজ করা পলিথিন এর উপর একটা বাচ্চা শুয়ে আছে। বেশ ফুটফুটে দেখতে। বয়স হয়তো ৮-১০ মাস - তবে এসব শিশুর বয়স বোঝা যায় না, এর বয়স দেড়- দুই বছরও হতে পারে। বাচ্চাটাকে দেখে সাহেদ দাঁড়িয়ে যায়। ওর কেন যেন ভয় হয় যে, যে কোনো সময় বাচ্চাটার উপর কারো পায়ের পারা লাগতে পারে। শিশুটি নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।ওর মাথার পাশে একটা ময়লা মাখা পুতুল।এর মাকেও দেখা যাচ্ছে না- নিশ্চই ভিক্ষা করছে। কিন্তু এভাবে বাচ্চাটাকে রাখা উচিৎ হয় নি - ফুটপাতে প্রচুর মানুষ।ফুটপাতের মধ্যে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় সাহেদ অনেকের ধাক্কা খাচ্ছে তবুও ও তার কাছ থেকে নড়ছে না।ওর খুব মায়া হচ্ছে। হঠাৎ কোত্থেকে এক মহিলা সামনে এসে হাজির- সাহেদের দিকে সন্দেহের দৃস্টিতে তাকাচ্ছে। সাহেদ যা ভেবেছিল তাই- এটাই শিশুটির মা, মহিলা ভিক্ষা করে। তার এক হাত নাই, অন্য হাতে একটা থালা।
"এটা তোমার বাচ্চা? এভাবে এখানে শোয়ায় রাখছো কেন? দেখোনা মানুষের কত ভীড়?" সাহেদ জিগ্যেস করে।মহিলা জানায় যে, এট তার সন্তান, স্বামী নিরুদ্দেশ, এক হাতে বাচ্চা কোলে নিলে থালা ধরবে কোন হাতে?তাই বাচ্চাকে ফুটপাতে শুইয়ে রাখে আর জ্যাম হলেই তাকে রেখে গাড়িতে গাড়িতে ভিক্ষা করে- জ্যাম ছুটে গেলেই আবার বাচ্চার কাছে ফিরে আসে।.......সাহেদের বুকের ভিতর চিন চিন করে ওঠে- এক অব্যক্ত মায়ায় ওর হৃদয় পুর্ণ হয়ে ওঠে।এমন তো ঢাকা শহরে কতই আছে। তবুও কেন যেন আজ সাহেদের খুব কষ্ট হচ্ছে। মানিব্যাগ খুলে একটা দশ টাকার নোট মহিলার থালায় রেখে হাটতে থাকে সাহেদ......ও আর কীইবা করতে পারে?! যা করলো তারই বা কি প্রয়োজন ছিল?!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১২ দুপুর ১:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



