আমি জেনারেলি বিষয়টাকে এভাবে দেখি... একটু কড়া ডোজের মনে হতে পারে....
আস্তিকেরা সাধারনত আস্তিকে পরিনত হয় ট্রেনিঙের মাধ্যমে। শিশুকাল থেকে তাকে এই ট্রেনিঙ দেবার পেছনে একটা বিশাল, অত্যান্ত শক্তিশালী মেশিনারী কাজ করে নিরন্তর। এর নাম ঠাকুরতন্ত্র। প্রশ্ন উঠতে পারে ঠাকুরতন্ত্রের শক্তির উৎস না হয় বোঝা গেলো আস্তিকেরা, কিন্তু আস্তিকেরা এমন কি পায়, যে তারা ঠাকুরতন্ত্রে/মূর্তিপূজার এডিক্টেড হয়ে পড়ে?
এর উত্তর বোঝাটা সহজ, যদি কেউ বুঝতে চায়।
ঠাকুরতন্ত্র বিশ্বাসীর অজ্ঞতা, অজানার প্রতি অকারন ভীতি আর নিয়ন্ত্রিত হবার বাসনা জাতীয় মানসিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে থাকে। ছোটকালে বয়ান ইত্যাদি ও পিতামাতার জোর জবরদস্তির ফল হিসেবে বিশ্বাসীর মাঝে যে ধারনাগুলি (ভুল হলেও বুঝতে অক্ষম) গেঁড়ে বসে, তারই পরম্পরায় বড় হয়ে সে ঠাকুরতন্ত্রের এক ধরনের ধারক ও বাহক হয়ে বসে।
ঠাকুরতন্ত্রে/মূর্তিপূজায় বিশ্বাসীর অজ্ঞতা, অজানার প্রতি অকারন ভীতি আর নিয়ন্ত্রিত হবার বাসনা জাতীয় মানসিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে থাকে। ছোট কাল থেকে দেখে এসেছে পিতামাতা-পাড়া-প্রতিবেশী সবাই মাটির তৈরী মূর্তির মাঝে সিজদা দিচ্ছে। শিয়ালের মতো হুক্কা-হুয়া বলে গ্রামের তাবৎ দিদি-বৌদি-মাসিরা জোগাড় দিচ্ছে।
আসলে ঠাকুরতন্ত্রে বিশ্বাসী নামের এক ধরনের চিন্তাহীন প্রাণী সৃষ্টি করে, যারা বড় হয়ে সেই একমূখী, প্রশ্নহীন ও অন্ধতার উৎসকে রক্ষা ও বিস্তারে নিজের অজান্তেই সৈনিক বেশে সহায়তা করে।
ঠাকুরতন্ত্রের কাজ তাই বিশ্বাসী সৃষ্টি করা যারা পরে আরো বিশ্বাসী সৃষ্টি করে, আর ঠাকুরতন্ত্রেতন্ত্রের ওপর আঘাত আসলে, নিজের বুক পেতে দেয়, নাঙ্গা দা নিয়ে ঝাপিয়ে নরবলি দেওয়ার জন্য।
অনেক দুরে চলে গেলাম বোধ হয়।
ব্লগে বা সামাজিক পরিমন্ডলেও, ইদানীং আস্তিক নাস্তিক দন্দ্বটা বাড়ছে ইদানীং।
একদিকে শিক্ষিত মুক্তমনার সংখ্যা বাড়ছে ক্রমাগত, তারা ভাগ্যবান/বতী, কারন, শিশুকালের মগজধোলাই থেকে তারা মুক্ত হয়ে 'মানুষ' হয়ে উঠার পথে যাত্রা শুরু করতে পেরেছেন।
অন্যদিকে, অভাগার দল, এঁরা এখনো বিশ্বাসের খাতিরেই বিশ্বাসকে ডিফেন্ড করে যাচ্ছেন। এদের অস্তিত্ব এতোটাই ইশ্বর নির্ভর, যে ইশ্বরের অস্তিত্ব নেই, এ কথা তারা ভাবতেও পারেন না। ভাবনাটা আসা মাত্রই, রাম রাম বলে চিৎকার করে উঠে, কারো মুখে শোনা মাত্রই প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভাবনার উৎসটাকেই গলা চিপে ধরতে চান। এজন্যেই ধর্মে বিশ্বাস এক প্রকার মানসিক দুরাবস্থা নাম দেয়া যেতে পারে। এরাই নাস্তিক/অজ্ঞেয়বাদীদের প্রশ্নের মুখে নানা রকম আক্রমন করে বসেন।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, আস্তিকেরা আক্রমন করে বসেন কেন? কেন বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে? কেন ট্রেনের ভিতর আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে? কেন গুজরাটে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়?
উত্তরটা সোজা.... তাদের ধর্ম তাকে 'জিরো টলারেন্স' শিখিয়েছে। ধর্মের সুপার-স্ট্রাকচারে এটা একটা মারাত্ম দুর্বলতা, যে, সে প্রশ্নকে উৎসমূখেই চাপা দিতে চায়। কেন চায়? কারন বেশিরভাগ প্রশ্নেরই উত্তর তার বয়ানে, 'তেনার ইচ্ছা, অতএব...অফ যাও'।
উত্তর হিসেবে আর বাকি যেসকল কথা আমরা শুনতে পাই, কিছু ইউটিউব ভিডিও যেখানে দেখানো গণেশ দুধ খাচ্ছে। শিবের লিঙ্গের পূজা হচ্ছে।
আমাদের আস্তিকগন বুঁদ হয়ে সেসব সিডি ডিভিডি হয়তো শোনেন/পড়েন, কিন্তু নাস্তিকের সুচালো ও শক্ত যুক্তির মুখে পরে গলাধকৃত সিডিগুলি বেমালুম ভুলে যান। মনে থাকলেও যে খুব বেশি লাভ হতো তা নয়, কারন ওই সিডি ডিভডি গুলি প্রকৃতই ধর্মপন্থী, অর্থ্যাৎ, যু্ক্তি ও তথ্যের বদলে অপযু্ক্তি আর গোঁজামিলের খিচুড়ি মাত্র।
সুতরাং যে দন্দ্ব আমরা দেখছি, তা আসলে আস্তিক নামের এক প্রকার ড্রোন এবং ধর্মজীবিদের কিছু প্রেরিত এজেন্টের ফাইট দেবার হাস্যকর ও অযোগ্য প্রচেষ্টামাত্র।
শেষ পর্যন্ত ধর্ম পরাজিত হবে, কারন, এটা কাজ করে না। বিজ্ঞান, যুক্তি ও দর্শন জয়ী হচ্ছে, কারন এরা বাস্তব পৃথিবীতে কাজ করে। অবাস্তবতার শেষ কান্ডারী বিদায় নিয়েছেন চৌদ্দশ বছর পুর্বে। এখন আমাদের তাই দায়িত্ব এই বিদায়ী আবর্জনা থেকে পৃথিবীকে পরিচ্ছন্ন করা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



