ছিঃ কবি
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২০
মঞ্চের উপর অতিথিদের আসনে হাস্যজ্জল মুখে বনে আছেন কবি। নির্ধারিত সময়ে বক্তৃতা করতে উঠে এলেন মাইকের সামনে, মাত্রই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ করেছিন তিনি। হয়তো তাই গর্বের সহিতই বললেন- এ সম্মাননা গ্রহণকে নিজের জন্য ন্যায় সংগত ভেবেছি, কৃতঞ্জতা জানাচ্ছি আয়োজকদের, এ সংবর্ধনা ইতিহাসে অনিবার্য!!
হায়! একি বললেন কবি? কেন বললেন? কেনই বা করলেন? জামায়াতে ইসলামীর গড়া বির্তকিত সংগঠন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের দেয়া এই সংর্বধনা গ্রহণ কি সাজে আপনাকে? কাল কি জামার বোতাম দিয়ে হৃদয়কে ডেকে দিয়েছিলেন কবি? কাল কি ভুলে গিয়েছিলেন ৭১ কে? ভুলে গিয়েছিলেন আপনি মুক্তিযোদ্ধা? ভুলে গিয়েছিলেন এই সব রাজাকার আল বদরদের রাষ্ট্রদ্রোহীতার স্মৃতি?
পত্রিকায় পড়েছি অর্থ মূল্যে এই সম্মাননার দাম ৫০ হাজার টাকা ( সত্যি কত জানিনা)। সত্যি অনেক টাকা! আমাদের মতো বুভু, লোভীদের জন্য সে তো আরও অ-নে-ক টাকা! কিন্তু আপনি না কবি? আপনি না বাংলাদেশের অন্যতম কবি আল মাহমুদ? আপনি না বাঙলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা? একবার বলবেন- কাল কি সত্যি ভুলে গিয়েছিলেন এসব?
নজরুলের সেই বাণীটা মনে পড়ছে খুব- ...যেদিন আমি চলে যাব-সেদিন হয়তো বড় বড় সভা হবে। কত প্রশংসা, কত কবিতা বেরুব আমার নামে! দেশপ্রেমিক, ত্যাগী, বীর, বিদ্রোহী বিশেষণের পর বিশেষণ। টেবিল ভেঙ্গে ফেলবে াপ্পড় মেরে বক্তার পর বক্তা। এই অসুন্দরের শ্রদ্ধা নিবেদনের শ্রাদ্ধ দিনে বন্ধু তুমি যেওনা। যদি পার চুপটি করে বসে আমার অলিখিত জীবনের কোন একটা কথা স্মরণ করো। তোমার ঘরের আঙিনায় বা আশে পাশে যদি একটি ঝরা পায়ে পেষা ফুল পাও সেইটিকে বুকে চেপে বলো- বন্ধু আমি তোমায় পেয়েছি।
আপনিও না কবি? তবে কেন পারলেন না আপনি? দেশের মানুষ আপনাকে কবি বলে, যোদ্ধা বলে হৃদয়ের উষ্ণতায় যে সম্মানের আসনে বসিয়েছেন তা চেয়ে কতগুলো কাগুজে নোট, ভোল পাল্টানো ঘাতকদের কটা মিথ্যা প্রশংসার বুলিই বড়ো হয়ে গেল?
ছিঃ কবি, ছিঃ
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ও.জামান বলেছেন:
সচলায়তনে পড়লাম, "আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা রাজনীতিবিদদের বিচার করি পরিবারের ইতিহাস দিয়ে আর কবিদের বিচার করি তার রাজনীতি দিয়ে"- অসাধারণ বলেছেন মাহবুব লীলেন। ১। তাইতো রাজাকার মোশারফ আজ মন্ত্রী (শেখ পরিবারে যোগ দেয়ার উপহার);
২। কবি আল মাহমুদ আজ রাজাকার (আওয়ামী বিরোধীতা করার কারণে)।
এদেশে হবে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার!!!! প্রহসন.......
লেখক বলেছেন: জামান এর সংগে আওয়ামী লীগের সাথে বিরোধীতার কি দেখলেন? জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা নেয়াটাকে কি আপনি সমর্থন করছেন?
হেমায়েতপুরী বলেছেন:
ছিঃ কবি ছিঃ
আমি মদন বলেছেন:
shame
ও.জামান বলেছেন:
সচলায়তনের মাহবুব লীলেনর মন্তব্যটি এই পোস্টে সাথে দেয়া যায়, আশা করি এখানে শেয়ার (কপি/পেস্ট) করলে তিনি বা আপনারা কেউ মাইন্ড করবেন না।মাহবুব লীলেন | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ১৪:৫৫
একটা জায়গায় আমার বেশ খটকা লাগে তা হলো বর্তমানের বাস্তবতার আলোকে আমরা অনেকেই অতীতকে ইরেজার দিয়ে মুছে এডিট করতে চাই। অতীতের অনেক পাতায় নতুন করে লাইন যোগ করতে চাই...
কেন?
ইতিহাস মানে তার সকল খানাখন্দ নিয়েই ইতিহাস
আর বর্তমান মানে ইতিহাসের অনেক উত্তরাধিকারের পবির্তন নিয়েই বর্তমান
ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় রেখেই বর্তমানটাবে বিচার করা উচিত
০২
ষাটের দশকের শেষ পর্যন্ত শামসুর রাহমানের বদনাম ছিল সাম্রাজ্যবাদের চিহ্নিত চাড়াল হিসেবে আর আর সত্তর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত আল মাহমুদকে চিহ্নিত করা হতো প্রগতিশীলদের অগ্রণী হিসেবে
এগুলো ইতিহাসের সত্য
এখানে এখন আর কিছুই করার নেই
ওই ইতিহাসের উপর ইরেজার টেনে নতুন লাইন যোগ করার দরকারও নেই
০৩
সাহিত্য কীর্তির উপরে শামসুর রাহমান এবং আল মাহমুদের দুইটা কমন বৈশিষ্ট্য আছে যা সম্ভবত আর কোনো বাংলা লেখকের নেই
ক) দুইজনই চূড়ান্ত ভদ্রলোক এবং বিনয়ী। কোনো অবস্থাতেই নিজেদের ভদ্রতা এবং বিনয় বর্জন করেন না কেউ
খ) এই দুইজন কবি নিজের সম্পর্কে মিথ্যে বলেন না
০৪
শামসুর রাহমান এবং আল মাহমুদ সম্পর্কে আমরা এতো বেশি জানি যে এখন আর তাদের সম্পর্কে জানতে হলে তাদরে আত্মজীবনী যেমন পড়তে হয় না তেমনি তাদরেকে কিছু জিজ্ঞেসও করতে হয় না তেমনি অন্য কোনো সাক্ষীকেও ডাকতে হয় না
০৫
অন্যরা কে কী ভাবে করেছেন জানি না কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে শামসুর রাহমান এবং আল মাহমুদকে রীতিমতো ২/৩বার আক্রমণ করেছিলাম সরাসরি এই বিষয়গুলো নিয়ে
দুজনেরই অসাধারণ বিনয় ভদ্রতা এবং মিথ্যেবিহীন উত্তগুলো তাদেরকে শ্রদ্ধা করতেই আমাকে বাধ্য করেছে
তাদের অবস্থান হয়তো আমি সমর্থন করতে পারিনি কিন্তু অস্বীকার করতে পারিনি তাদের অস্তিত্ব
যখন তাদরে অবস্থানগুলো মানতে না পারা নিয়ে তাদরেকে বারবার আক্রমণ করেছিলাম তখন দুজনেরই উত্তর ছিল এরকম- তুমি আমাকে রাজনীতিবিদ ধরে রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো করছ না বরং তুমি আমাকে কবি হিসেবে অলরেডি গ্রহণ করে ফেলেছ অথবা কবি হিসেবে অস্বীকার করতে পারছ না বলেই তোমার রাজনৈতিক মানদন্ডে আমাকে তোমার কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য এই প্রশ্নগুলো করছ
কিন্তু তোমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কবিকে পাশ করিয়ে নেয়ার আদৌ কি কোনো প্রয়োজন আছে?
নাকি আছে কবিতার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কোনো রাজনীতিবিদকে পাশ করিয়ে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা?
০৬
শামসুর রাহমানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আল মাহমুদ সম্পর্কে আল মাহমুদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম শামসুর রাহমান সম্পর্কে
দুজনেরই উত্তর ছিল অনেকটা এরকম: তিনি কি কোথাও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধতা করেছেন?
- করেননি কেউ
না আল মাহমুদ না শামসুর রাহমান
০৭
অনেকেই আল মাহমুদকে মুক্তিযোদ্ধা সাজানোর জন্য বেশ কষ্ট করেন আবার অন্য পক্ষে অনেকেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলেন শামসুর রাহমানকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাজাতে
দরকার কী
তাদের লেখাই তো তাদের প্রমাণ দেয় তারা কে কী করেছেন আর কে কোন জায়গায় ছিলেন
০৮
যে দেশে ৩৭ বছর পরে এখনও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নেই। নেই রাজাকারদের তালিকা সেই দেশে দুজন প্রকাশিত লেখককে তালিকাভুক্তির এই তোড়জোড় আমার কাছে বেশ হাস্যকর মনে হয়
কী আসে যায় যদি প্রমাণিত হয় আল মাহমুদ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন
কী আসে যায় যদি প্রমাণিত হয় আল মাহমুদ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না?
আর কে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন আর কে রাজাকার ছিল তা কেন এখনও তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে
মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারদের তালিকা দেখলেই তো হয়
এই দুইটা তালিকা এখনও দেশে নাই কেন?
০৯
আল মাহমুদকে রাজনৈতিক চাপে ফেলে মৃত প্রায় করে রাজনৈতিকভাবে নষ্ট করার ১০০% দায়িত্ব শেখ মুজিব আর তার বাকশালের
শেখ মুজিব বাংলাদেশ বুঝতেন কিন্তু গণতন্ত্র কিংবা মত প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা বুঝতেন শূন্যের নিচে
এটাও মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক কিন্তু শেখ মুজিব নিজে
শেখ মুজিব বাংলাদেশ বানিয়ে বাংলাদেশের অনেক কিছুই নষ্ট করে দিয়েছেন। তার মধ্যে আল মাহমুদও একজন
শেখ মুজিব বাংলাদেশের জন্য রাজনীতি করে বাংলাদেশ হবার পরে সবচে বেশি ক্ষতি করেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির
মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার উৎসব কিন্তু শেখ মুজিবই শুরু করেছিলেন
ক্রস ফায়ার শুরুর কৃতিত্ব মুজিবের
১০
আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা রাজনীতিবিদদের বিচার করি পরিবারের ইতিহাস দিয়ে আর কবিদের বিচার করি তার রাজনীতি দিয়ে
এবং এটা শুধু করি আমাদের হতভাগা বাংলাদেশের জন্যই
অথচ আমরা এজরা পাউন্ডকে বর্জন করি না ফ্যাস্স্টি হিসেবে
শেক্সপিয়রকে বর্জন করি না সাম্প্রদায়িক এবং মানবতা বিরোধী হিসেবে
ড়্যাবোকে বর্জন করি না দাস ব্যবসায়ী হিসেবে
১১
আওয়ামিলীগ যখন জামাতের সাথে একসাথে আন্দোলন করে তখন আমরা মেনে নেই
৭১র চার খলিফার এক খলিফা শাহজাহান সিরাজ যখন নিজামীর সাথে পাশাপাশি মন্ত্রীত্ব করে তখন আমরা মেনে নেই
মুজিব হত্যাকারী মুশতাক সরকারের মন্ত্রীরা যখন আবার আওয়ামীলিগে আসে তখন আমরা মেনে নেই
আমরা শুধু বিচারের লাঠি হাতে দৌড়াই নিরীহ এক কবি আল মাহমুদের পেছনে
সম্পূর্ণ একজন শেখ মুজিব- তার বাকশাল- তার লাল বাহিনী যাকে তাড়াতে তাড়াতে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যায় তখন আমরা কিছু বলি না
আমরা বলি আল মাহমুদ তুমি ওইদিকে কেন গেলে
(অথচ আমরা শাহজান সিরাজকে ভোট দিয়ে মন্ত্রী বানাই)
১২
আল মাহমুদ রাজনীতিবিদ নন
কবি
তার বর্তমান সময়ের লেখাগুলো আমি পড়ি না স্রেফ নিচু মানের বলে
কিন্তু যেই লেখাগুলোর জন্য আমি তাকে কবি হিসেবে জানি সেই লেখার মূল্যায়ন করে আমি সব সময়ই বলি
এখনও বলছি
জীবনানন্দের পরে বাংলা ভাষায় সবচে বড়ো এবং সবচে শক্তিশালী কবি আল মাহমুদ
১৩
জামাত তাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠার জন্য এখন মুজিবের জন্মদিনেও মিলাদ পড়ে
স্বাধীনতা দিবস পালন করে
এবং মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশও করে
সেগুলো তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি
সেই কর্মসূচির আওতায় তারা শিবিরে হিন্দু এবং নন মুসলিম ছেলেদেরকেও মেম্বার করে
এবং সেই কর্মসুচির আওতাতেই তারা কবি এবং বুদ্ধিজীবিদের অন্তভূর্ক্ত করে তাদের সমর্থক হিসেবে
আমরা কতটুকু বিরোধীতা করি তার?
১৪
এই সচলায়তনেই একজন কমরেড আছেন
নব্বইর ডিগবাজিতে বিএনপির নেতা এবং একটা পিস্তলের মালিক হয়ে যিনি সেই পিস্তলের নলটা ঠেসে ধরেছিলেন আমার মাথায়
তারপর তিনি রাজনীতি-ফিতি ছেড়ে দিয়ে আবার কমরেড বনে গিয়ে প্রচুর বিপ্লব এবং প্রগতিশীলতা উৎপাদন করেন এখন
তিনি একদিন মেইল করে জানালেন- পেছনের ওইসব একসিডেন্ট যেন আমি ভুলে যাই
আমি বললাম- হ
আমি তার লেখালেখিগুলো দেখি আর বিচার করি সে এখন কোথায় আছে। কারণ তাকে আমি তার কাজ দিয়েই বিচার করতে চাই
পিস্তলের মালিক হয়ে সে শুধু নলটা ঠেসে ধরেছিল
আমাকে কিংবা কাউকে গুলি করনি
তার নিজেরই উপলব্ধিতে সে পিস্তল আর রাজনীতি দুটোই ছেড়ে ছুড়ে চলে এসেছে
আমার কী দরকার সেই পিস্তলটাকেই প্রধান করে তোলা?
১৫
আল মাহমুদকে আমি তার সাহিত্য দিয়েই বিচার করতে চাই
না জামাতের রাজনীতি দিয়ে
না আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসা দিয়ে
লেখক বলেছেন: পড়লাম। আমার মনে হয়েছে অতিমাত্রায় কবি প্রীতি থেকেই এমন লেখা। এবং সেই প্রীতি এতোটাই মাত্রাতিরিক্ত যে মূল বিষয় থেকেই সরে গেছেন তিনি এবং অনেত ইতিহাসই আজ প্রথম শুনলাম। যেমন
এটাও মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক কিন্তু শেখ মুজিব নিজে
শেখ মুজিব বাংলাদেশ বানিয়ে বাংলাদেশের অনেক কিছুই নষ্ট করে দিয়েছেন। তার মধ্যে আল মাহমুদও একজন
শেখ মুজিব বাংলাদেশের জন্য রাজনীতি করে বাংলাদেশ হবার পরে সবচে বেশি ক্ষতি করেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির
মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার উৎসব কিন্তু শেখ মুজিবই শুরু করেছিলেন
ক্রস ফায়ার শুরুর কৃতিত্ব মুজিবের !!!
এতো ইতিহাস উল্লেখপূর্বক মাহবুব লীলেন যদি আল মাহমুদের এই রাজাকার আল বদর প্রীতিকে সমর্থন করেন, তবে আর কি বলা যায়-দৃভাগ্য ছাড়া!!
সায়েমুজজ্জামান বলেছেন:
এই কবি লিখেছিলেন, আম্মু বলেন পড়তে বসো আম্মু বলেন মন দে, পড়তে আমার মন বসেনা কাঠাল চাঁপার গন্ধে। আসলে এখানে এখন বসাতে হবে--- হাজার টাকারর গন্ধে। কবি আল মাহমুদ বাম ধারা থেক মুসলমান হয়েছেন। নাস্তিক থেকে আস্তিক হয়েছেন। অনেক খৃষ্টান যেভাবে কাদিয়ানী হয়। অনেক জরাথ্রুস্ট যেভাবে সিয়া হয়েছিলেন। উনিও ইসলাম ধরতে গিয়ে জামাতকে ধরে ফেলেছেন। এর আগে জামাতের মালিকানাধীন চট্টগ্রামের ৈদনিক কর্ণফুলীর সম্পাদক হয়েছিলেন। এর নামই টাকা। অনেক বামই এর কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। আতাউস সামাদ ফালুর টাকা পেয়ে ডান হয়ে গেছেন। অনেক বাম এখন বিএনপির বড় বড় পদ নিচ্ছেন। অনেক বাম যারা বঙ্গবন্ধুকে মারতে কোমরে পিস্তল নিয়ে ঘুরতেন তারা এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার দেখে তারা চোখে পানি ফেলেন।
বাম রাজনীতি যারা করেন তাদের যে কোন চরিত্র নেই তা কবি আল মাহমুদ আবারও দেখালেন। এজন্যই বর্তমানের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আগামী দিনে অন্য কোন দলের বড় নেতা এমপি। আর আল মাহমুদ নিয়েছেন সম্বর্ধনা।
রিপন জি আর বলেছেন:
কেন ছি! উনি ইসলামপন্থি হয়েছেন বলে?
লেখক বলেছেন: আবার ধর্ম নিয়ে টানাটানি কেন ভাই? কেন ছিঃ বোঝেন না! রাজাকার আল বদরদের কাছ থেকে আমাদের প্রিয় কবির এই সংবর্ধনা গ্রহণ।
লাইলী আরজুমান খানম লায়লা বলেছেন:
অর্থের কাছে আদর্শের জলাঞ্জলী। ধিক এসব মানুষকে। আমি তাদের শ্রদ্ধা করতাম, এখন শ্রদ্ধা ফিরিয়ে নিচ্ছি। +++++++++++++লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: কবির চারিত্রিক বিষয়াবলী নয়, আমার লেখাটা কবির এই সমর্থনের বিরুদ্ধে। সমাজের এমন সৃজনশীল মানুষেরা যদি বিকিয়ে যান তো কি হবে সাধারণের ভবিষ্যত?
এতে কিছু যায় আসে বলে মনে হয়না....
আরও গুরুত্বপুর্ন ইস্যু দেশে রয়ে গেছে......
আসুন সেদিকে মন দিই.........
মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সহজ। থাকা কঠিন.....
লেখক বলেছেন: রাজাকার সারাজীবনই রাজাকার
কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সরাজীবন মুক্তিযোদ্ধা না।
হেমায়েতপুরী বলেছেন:
hastei aci... রিপন জি আর বলেছেন: কেন ছি! উনি ইসলামপন্থি হয়েছেন বলে? জামায়াতে ইসলামী = ইসলামপন্থি !!!!!!! hastei aci....লেখক বলেছেন: আমিও হাসতাছি...
সত্যি কি আজব প্রশ্ন!!
অন্দরমহল বলেছেন:
আওয়ামী লিগ যদি বলে যে বাপ চারটা এর বিরধীতা যে করে সেও রাজাকার বলে !!!
লেখক বলেছেন: ঠিক বুঝলাম না!
বিডি ব্লগার বলেছেন:
ছি কবি ছিঃঃঃকোথায় আজ আপনার মুক্তিযুদ্বের চেতনা।আপনার লেখায় আমরা খুজে পেতাম দেশের সোদা মাটির ঘ্রান,মুক্তিযুদ্বের সেই সব সংগ্রামী প্রেরনা।
আপনি কি ভুলে গেছেন কেবল মুক্তিযুদ্ব করলে আর দেশের জন্য কবিতা লিখলে মুক্তিযোদ্বা হওয়া যায় না।আপনার লেখার উচ্ছল প্রেমের উম্মাদনায় ভেসে গেছি কতদিন।আজ আপনি মুক্তিযোদ্বা হয়ে কিনা ধর্মের কথা লিখেন।সাম্প্রদায়কতার বিষ আপনিও পান করলেন।
আপনি কি ভুলে গেছেন কেবল মুক্তিযুদ্ব করলেও যেমন মুক্তিযোদ্বা হওয়া যায়না তেমনি স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরেও রাজাকার জন্ম হয়।মুক্তিযোদ্বা হওয়ার জন্য স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির সাথে থাকতে হবে।তাদের সুরে সুর মিলিয়ে গালি দিতে হবে উগ্র মৌলবাদীদের।এমনকি যাদের জন্মও তখন হয়নি তাদের কে রাজাকার বলে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে।
কোথায় আজ আপনার সেই চেতনা।আপনি আজ আর মুক্তিযোদ্বা নন।আপনাকে আজ কেউ সম্মাননা জানায় না।টি.ভি তে বড় অনুষ্ঠানে আজ আর আপনার ঠাই নাই।কারন আপনি মুক্তিযোদ্বা হয়ে কিনা দাড়ি রেখে ধর্মের কথা বলেন???ধিক ধিক কবি শত ধিক......।মুক্তিযোদ্বার বেশ ই যদি না ধরতে পারলেন তো আপনি কিসের মুক্তিযোদ্বা??
লেখক বলেছেন: মুক্তিযোদ্ধার সাথে দাড়ি টুপির কি সম্পর্ক? ধর্মের কথা বলার কি সম্পর্ক?
সাব্বির হোসেন শুভ বলেছেন:
হেমায়েতপুরী বলেছেন: hastei aci... রিপন জি আর বলেছেন: কেন ছি! উনি ইসলামপন্থি হয়েছেন বলে? জামায়াতে ইসলামী = ইসলামপন্থি !!!!!!! hastei aci....লেখক বলেছেন: আমি আর কি বলব শুভ! কি সব অদ্ভুত অদ্ভুত কথা যে শুনছি!!!
এস বাসার বলেছেন:
ঐ ব্যাটা এরকই, আমার কেন জানি মনে হয়েছিলো জামাতিদের টার্গেট ছিলো ওকেই সম্মাননা দিবে, কারন ওনার নীতিবোধ খুবই কম....কবি??????????????? ছিছি.................।
লেখক বলেছেন: বিষয়টি জটিল তবে কবির এই আচরণ সত্যিই ধিক্কারযোগ্য
মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেছেন:
কাজী নজরুলের উদ্ধৃতী দিয়েছেন।তিনি যদি বেচে থাকতেন তাহলে এই আয়োজনে তিনি হাজির হতেন।কবি আল মাহমুদ সম্পর্কে আপনার এই মন্তব্য বেয়াদুবির শামিল।
শেহাব বলেছেন:
ছি
েতজপাতা বলেছেন:
রফিক ভাই@ আর আল-মাহমুদ যেটা করছেন সেটা কি??মুক্তিযোদ্ধা হইয়া রাজাকারের হাত থেকে সম্মাননা নেয়া!!!...আসলেই উনারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন?? সরি...আই ডোন্ট বিলিভ...
মৃত৬৬৬ বলেছেন:
খবরটা শুনে প্রথমে মনে হলো ভূল শুনেছি। কিন্তু..কষ্ট লাগল।
হোদল রাজা বলেছেন:
ছি: এই ধরনের লোক আগেও ছিল,ইতিহাসে! এরাই দেখবেন নিজের বাবা-ভাইয়ের খুনীর কাছ থেকে ট্রফি নেবে! ছি:
একেই কি বলে মানুষ কবি না জানোয়ার! ছি:
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
পোস্ট, পাল্টা পোস্ট, মন্তব্য, যুক্তি খণ্ডন, এগুলোর উদ্যেশ্য বিধেয় পরিস্কার হতে হতে গুলিয়ে যাচ্ছে আবার। প্রশ্ন অনেক -
১. আল মাহমুদ কি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না ছিলেন না ?
২. যদি মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে থাকেন তো তিনি কি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছেন না কেবল জান বাঁচানো ফরজ মনে করে নিরীহ কবি হয়েই থেকেছেন?
তিনি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকলে সন্মান করি। তা না হয়ে যদি সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেও নীরিহ কবি হিসেবেই থাকেন তো তাতে অন্তত্য আপত্তি করার অধিকার নেই আমার। তবে যদি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করে থাকেন তো কেবলই নিন্দা তার জন্য। অবশ্য মনে হচ্ছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কি না এই নিয়ে মতভেদ থাকলেও তার নামে স্বাধীনতা বিরোধী কার্যকলাপের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি এখনও ।
এবার ভাবনার দ্বিতীয় ধাপ -এর প্রেক্ষাপট বহুদিন ধরে তার মৌলবাদী, জামাত ঘেঁষা চলাফেরা এবং এখন পর্যন্ত সমালোচিত শেষ কীর্তি স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছ থেকেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি সন্মাননা!!
বর্তমানের লেখার জন্য না হলেও পূর্বের অনেক গল্প, উপন্যাস, কবিতার জন্য আল মাহমুদ কবি/লেখক হিসেবে যথেষ্ট পরিচিত, অনেকের প্রিয় কবির তালিকাতেও আছেন হয়ত। তিনি মুক্তিযোদ্ধা না হলেও সমস্যা নেই। তবে কেবল কবি হিসেবেও তার কাছ থেকে জাতীয় কিছু বিষয়ে একটা সুষ্পষ্ট নীতিগত অবস্থান আশা করবে জাতি এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু উনি সেই প্রত্যাশাকে অনেকদিন ধরেই অবহেলা করে আসছিলেন তো বটেই এবং শেষকালে তো সেই প্রত্যাশাকেই বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে একই মঞ্চে উঠে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিলেন, সংবর্ধনা গ্রহণ করলেন। তিনি সেই আমলে ছিলেন বলেই আপনার-আমার-আমাদের অনেকের চেয়েও আল মাহমুদ ইতিহাস জানবেন অনেক বেশী। এই ঘটনা যে ইতিহাস বিকৃতিতে জামাতকে বিশাল সাহায্য করবে এটাতো তার বোঝার কথা।
মাহবুব লীলেন ভাইয়ের মন্তব্য যথেষ্ট রুচিশীল, নিয়ন্ত্রিত এবং পরিমিত; এক কথায় হিপনোটাইজিং । তাৎক্ষনিক উচ্চমাত্রার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে এই মন্তব্য যথেষ্ট কার্যকরি কিন্তু তাহলে কি কবির বর্তমান কীর্তিতে আমরা চুপ থেকে যাবো? কবিকে রাজনীতির সাথে জড়িয়ে বিচার করাটা হয়তো অন্যায় হবে, কিন্তু কবি নিজেই যদি বার বার এভাবে বিতর্কিত রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে যান ? তখন কবিকে ধিক্কার স্বরূপ ছিঃ কবি বলে ওঠাটা অস্বাভাবিক হবে না! কবিরা তো আর প্রশ্নের উর্ধ্বে নয়, তাই না?
আল মাহমুদ যদি মুক্তিযোদ্ধা হয়েই থাকেন তাহলে আবার ঘৃণার পরিমাণটাও বেড়ে যাবে।
ধূসর মানচিত্র বলেছেন:
কবি হয়েছে বলেই কি চামচামি করা নিষেধ নাকি। একটু তাকিয়ে দেখুন আমাদের মাথা মোটা পিএইচডি ডিগ্রীধারীরা কিন্তু এইটপাশ খালেদা এবং ডিগ্রী খরিদ্দার হাসিনার পা চাটে। এদের কথা বলতেও আমার বমি আছে। কবি-সাহিত্যিকরা একটা শ্রেণীর প্রতিনিধি করে সেটা হল সুবিধাবাদি মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণীর। গ্রামের কৃষক-মজুর,কুলি ইহাদের লেখার মশলা কিন্তু সাধারণ শ্রেণীর জন্য কিছু করার তাগিদ কেউ বোধ করে না। কারণ পা চাটিয়া যদি দুই খান ফ্লাট অথবা কিছু সন্মানী, পত্রিকার ছবি অথবা বিভিন্ন পুরস্কার জুটে মন্দ কি।কবি হয়েছে বলে একজন সাধারণ নাগরিক থেকে তাদের বিশেষত্ব কিছু নেই,সে যত অসাধারণ কবি হোক না কেন।
হানিফ রাশেদীন বলেছেন:
আল মাহমুদ তো বটেই, আমরও কী লজ্জ্বিত নই? কেমন জাতি আমরা! নোবেল প্রাইজসহ কতো বড় বড় প্রাইজ ফিলোসোফিকাল কারণে কতো জনে নেয় নি, আমরা জানি; আর আল মাহমুদ! জাতি হিসেবে এই আমরা?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















link