তখন সবে ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে বেড়িয়েছি । বিভিন্ন দিকে মুড়ি মুড়কির মত সিভি বিলিয়ে বেড়াচিছ । মন মেজাজের চরম তিরিক্ষে অবস্থা । ৪/৫ মাস পার হয়ে গেল অথচ চাকরির নাম গণ্ধ নেই। তখন কাউকে হাসতে দেখলেও মনে হতো যেন সে আমাকে দেখেই দাত কেঁলিয়ে হাসছে । তো এরকমই এক অবস্থায় একদিন বিডিজবস্ এ একটা মনের মতো চাকরির বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ল ।
ইন্ডিয়ার বিখ্যাত রিলায়েন্স গ্রুপ (Reliance Power) শিগগিরই বাংলাদেশে তাদের বিশাল বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে অল্টারনেটিভ এনার্জি
জেনারেশন প্রজেক্ট এ । তারা বাংলাদেশের কোষ্টাল জেলাগুলাতে উইন্ড পাওয়ার প্রোডিউস করে কমার্শিয়ালি সেল করবে । এই জন্য তারা ২৫/৩০ জন বাংলাদেশি ইন্জিনিয়ার নিবে । অভিজ্ঞতা না থাকলেও চলবে। অল্টারনেটিভ এনার্জির উপর কাজ করার একটা প্রচন্ড আগ্রহ ছিল । তাই একমূর্হুত দেরি না করে এপ্লাই করলাম। অবশ্য তখন যে অবস্থা তাতে সবজায়গাতেই এপ্লাই করতাম । শুধু অনলাইনে এপ্লাই করার অপশনই ছিল । করলাম এবং এপ্লাই করার ডেডলাইন শেষ না হওয়ার আগেই ডাক পেয়ে ই মেইল পেলাম । বারিধারার একটি হোটেল এ ভাইভা হবে ।
ভাইভা দিতে গেলাম। রুমে ডাকা হলো নির্ধারিত সময়ে । এক ইন্ডিয়ান লোক এসছেন, তিনি একাই ভাইভা নিলেন । যা হোক ভাইভা ভালো হলো ।তিনি বললেন রিলায়েন্স একটা অনেক বড় গ্রুপ সুতরাং যাদেরকে নেয়া হবে তাদেরকে প্রথম ৪ মাস ইন্ডিয়া,জার্মানি,ও নরওয়েতে ট্রেনিং দেয়া হবে । বারবার বললেন যে বাংলাদেশী ছেলেদের নিয়ে তার একটাই ভয় যে তারা জার্মানি,ও নরওয়েতে গেলে আর হয়তো নাও ফিরতে পারে । আমি বারবার তাকে বলতেছিলাম যে আপনারা যাদেরকে চাকরি
দিবেন তাদের পালানোর কোনো সম্ভাবনা নাই কিন্তু তিনি মানলেন না ।
বিস্ময়কর ভাবে ভাইভা দিয়ে আসার পরের দিনই মেইল পেলাম যে আমি সফল্যের সাথে ভাইভাতে সিলেকটেড হয়েছি । এবং রিলায়েন্স গ্রুপ খুবই প্রাঊড ফিল করবে যদি আমি জয়েন করি। কোন মেডিকেল বা এইচ আর ভাইভা কিছুরই কোনো উল্লেখ নাই। terms & condition এ আমাকে কয়েক বছরের contract sign করতে হবে আর ৩ লাখ টাকা তখনিই জামানত দিতে হবে যেটা training শেষে ফেরত পাওয়া যাবে । বেতন ৭০০০০ টাকা ।
শুরু থেকে শেষ পযন্ত ঐ একটা লোক ই মেইল করেছিল, interview নিয়েছিল এমনকি সিলেক্টেড হয়েছি সেই ফোনও দিয়েছিল।
ইন্টারভিউ শেষে সে তার ভিজিটিং কার্ড দেয় । কার্ডটা দেখেই আমার সন্দেহ হয় । বিখ্যাত রিলায়েন্স গ্রুপ এর বাংলাদেশের
Country Director অথচ তার ভিজিটিং কার্ড দেখে মনে হয় গুলিস্থান থেকে বানানো । যে মেইল এড্রেস থেকে যোগাযোগ করছিল
সেটা আবার dhaka.net এর । তখন পরিষ্কার হতে থাকে তার ভন্ডামি । পরে রিলায়েন্স গ্রুপ এর Head Quater এ ফোন করে জানা যায় তারা এই ধরনের কিছুই জানে না । যা হোক বদ লোকটা আমাকে বারবার ফোন দিয়ে বলতে থাকে আমি যেন টাকা নিয়ে Radission এ তার সাথে দেখা করি । লোকটা কয়েকবার আমাকে ফোন করেছিল । একবার ভেবেছিলাম পুলিশে খবর দেই । পরে মনে হলো কি দরকার পুলিশ হয়তো পরে আমাকেই অযথা হয়রানি করবে । আরো অনেককে ভাইভাতে ডেকেছিল । তাদের কেউ এই প্রতারনার ফাঁদে পা দিয়েছিল কিনা কে জানে।
পৃথিবীতে এভাবেই নিত্যনতুন কৌশলে কিছু লোক ঠকবাজি করে নিরীহ মানুষকে সবর্শান্ত করে যাচ্ছে । প্রতিনিয়তই বদলাচ্ছে এর কৌশল ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


