কৃষক শ্রমিক লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ৭১-এ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে বীর উত্তম উপাধি পেয়েছি। যারা আমাকে রাজাকার বলে দেশ ছাড়তে বলে, তারা আওয়ামী লীগের দালাল। এদেরকে চিনে রাখুন। বিচারের কাঠগড়ায় এদেরকে দাঁড় করান। রাজাকারেরও চরিত্র আছে কিন্তু আওয়ামী লীগের চরিত্র নেই। আওয়ামী লীগ রাজাকারের চেয়ে ভালো নয়। রাজাকারের একটা চরিত্র আছে; তারা পাকিস্তানকে সমর্থন করত। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগের কোনো চরিত্র নেই। আমি বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে সম্মানজনক গামছা উপহার দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমার গামছা উপহার দেব কিনা ভেবে দেখব। আমি গরিবের সম্মান বাড়াতে চাই। সরকার কৃষকের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নষ্ট করে দিয়েছে মহিলা কৃষিমন্ত্রী বানিয়ে। সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকলেও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা নেই। এটা মুসলমানদের জন্য লজ্জাজনক। এদেশের মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে এর প্রতিবাদ করা উচিত। ইমান নিয়ে একদিন বাঁচব কিন্তু বেইমান হয়ে শতবছর বাঁচতে চাই না। তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পালিমা পোষণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ৯ জুলাই আমি এই স্থানে জনগণের কথা বলতে প্রতিবাদ সভা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগের গুণ্ডাবাহিনী ও পুলিশ আমাকে সভা করতে দেয়নি। উল্টো তারা আমাকে বলে—কাদের সিদ্দিকী রাজাকার, এ মুহূর্তে বাংলা ছাড়। তিনি বিএনপির ডাকা হরতালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে নির্মমভাবে পেটানোর তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, পুলিশ ফারুককে মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন হাসপাতালে পুলিশকে দেখতে গিয়ে উল্টো মিডিয়াকে দোষারোপ করে বলেন, মিডিয়া শুধু ফারুককেই প্রচার করেছে। আমার পুলিশের কথা কেউ বলেনি।
তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, অযথা জনগণকে হয়রানি করবেন না। পুলিশের কাজ জনগণের সেবা করা, গুণ্ডামি নয়। যুদ্ধকালে যারা আমার জুতা টেনেছে, তাদের অনেকেই আজ সরকারের উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। আমি আমার গামছাকে যেমন সন্তানের মতো সম্মান করি, তেমনি বঙ্গবন্ধু ও আমার বড় ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে সম্মান করি। যদি আমার ভাইয়ের মন্ত্রিত্ব চলে যায়, তাহলে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্ব থাকবে না।
সভায় নারান্দিয়া ইউনিয়ন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হুমায়ুন কবির, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি শামীম আল মামুন আজাদ সিদ্দিকী, কালিহাতী উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি হাসমত আলী প্রমুখ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

