১৯৭৩-৭৪ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক বছর পর দেশে যে অনাকাঙ্খিত দুর্ভিক্ষ হয় তাতে প্রায় ১০লক্ষ লোক মারা যায়। যে দুর্ভিক্ষের চিত্র অংকন করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন এবং ড: অমর্তসেন এর উপর গবেষণা করে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। তার মতে,বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের কারণ ক্ষাদ্য সংকট নয় বরং জনগনের ক্রয় মতা হ্রাসই এর প্রধান কারণ। আমরাও বাস্তবতার দিকে লক্ষ্য করলে দেখি,সে সময় বহির্বিশ্ব থেকে ১৯৭৩ সালে ৫৪ কোটি ডলার(৪৩২ কোটি টাকা) মুল্যের ২৩ লক্ষ টন এবং ১৯৭৪ সালে ৪০ কোটি ডলার(৫২০ কোটি টাকা)মুল্যের ২০ লাখ টন খাদ্য সামগ্রী আমদানি এবং ১৯৭১-৭৫ সময়কালে বিদেশ থেকে ৮০ লাখ টন খাদ্যশষ্য ও অন্যান্য সাহায্য সামগ্রী প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার উপর পাওয়া সত্বেও দেশের মানুষ খাদ্যাভাবে মারাগেছে এবং অনেকে আত্মহত্যা করেছে। এর কারণ কি ? নিম্নোক্ত বিষয় গুলো ল্য করুন-
(১) শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষায়,”চাটারের দল সব খেয়ে শেষ করেছে”
(২) অর্থমন্ত্রী তাজ উদ্দীনের ভাষায়,”তিন বছর মানুষ একাধারে দুর্ভোগ সহ্য করিতেছে কিন্তুু পাশাপাশি এত লোক কালো টাকার মালিক হইলো কিভাবে ?”
(৩) এ,এইচ,এম,কামরুজ্জামান বলেন,” দেশের সম্পদ যদি সম্পূর্ণ দেশেই থাকতো তবে এতটা সমস্যা দেখা দিতনা”- ইত্তেফাক উপ সম্পাদকীয়,মঞ্চে-নেপথ্যে,২৮ সেপ্টেম্বর,১৯৭৪। বাংলাদেশ ৭২-৭৫,পৃষ্ঠা-৫৬১
(৪) গরীব মানুষ খাদ্য পায়না,টাউটরা মজা লুটছে।চাউল আটা নিয়ে হরিলুটের কারবার”-দৈনিক গনকন্ঠ-১৯/০৯/১৯৭২
(৫ হেনরি কিসিঞ্জার এর মতে,”তলা বিহিন ভিক্ষার ঝুড়ি”
উপরের বিষয়গুলো একটু ল্য করলেই বুঝা যায় বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে খাদ্য সংকট ছিলনা যা ছিল তা হলো অবৈধ লুটপাট আর পাচার। যার কারনে দুর্ভিক্ষ এদেশের জনগনের উপর জেঁকে বসে।
০৮/১০/২০১১ ইং তারিখে ইনডেপেডেন্ট টেলিভিশনে সন্ধ্যার সংবাদের সাতখিরার প্রতিবেদনটা দেখলে প্রাণটা শিউরে ওঠে,আবার দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসছে নাতো! প্রতিবেদনে দেখানো হয় জনৈক মহিলা ক্ষুধার তাড়নায় প্রতিবেশির বাড়িতে ”ফ্যান” (ভাতের মাড়)ভিক্ষা পায় কিনা সে সন্ধানে যাইতেছে। ১৯৭৩-৭৪ এর অবস্থা এরূপই ছিল!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



