somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[ংন]সমর দাস : একজন সংগীত যোদ্ধা[/ংন]

১৮ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক.

পুরোনো ঢাকার নবদ্বীপ বসাক লেন; ১৯২৯ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি জন্মেছিলেন একটি বাঙ্গালী খ্রিস্ট্রান পরিবারে। পারিবারিকভাবে সংগীত চর্চার একটা ঐতিহ্যতো ছিলই আর নিজের ছিল সংগীতের প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ, ভালোলাগা। প্রথমে তিনি বাঁশি বাজানো শুরু করেন। একসময় পশ্চিমা সংগীত শোনা শুরু করেন। সেই ভালোলাগা থেকেই একসময় গীটার এবং পিয়ানো বাজাতে শুরু করেন। অল ইন্ডিয়া রেডিও তে বাজানোর সুযোগ পান। তিনি সমর দাস। বাংলা সংগীতে যাঁর অসীম অবদান।
১৯৭১ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বছর। এসময় সমর দাস দেশের কিছু একটা করার তাড়না বোধ করেন। প্রথমে মুজিবনগর ও পরে কোলকাতা থেকে প্রচারিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তিনি সংগীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এসময় তিনি প্রচুরসংখ্যক গানে সুর করেন। মুক্তিযোদ্ধারা রনাঙ্গনে বসে তাদের রক্তের ভেতওে এক ধরনের তাড়না ও জিদ অনুভব করতেন, দেশের পক্ষে লড়বার। এই তাড়না প্রধানত দুটি উৎস থেকে আসত। এক. ঊঙ্গবন্ধুর ভাষন।দুই. উদ্দীপনামূলক গান। এই দুটি উৎসের উৎস আবার একÑ স্বাধীন বাংলা বেতার। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত যে গানটি শুনলে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার ভিতরে দেশকে মুক্ত করার শক্তি সাহস স্পৃহা জাগ্রত হতো যে গানটি শুনলে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিদিন নতুন প্রান ফিরে পেতেন; "পূর্ব দিগন্তে সুর্য উঠেছে" এই গানটির সুরকার তিনি। একইভাবে "নোঙ্গর তোল তোল" গানটিরও অসীম অবদান রয়েছে। সমর দাসের গানে অন্যরকম একটা তেজ পাওয়া যেতÑ এখনো সেটি বোঝা যায়। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন মুক্তিকামী জনতা, দেশ স্বাধীন হয়। কিন্ত এই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে শক্তি সাহস স্পৃহা জাগ্রত করার পেছনে যাঁর অবদান কিছুতেই ছোট করে দেখা যায় নাÑ তিনিতো আরেক মহানায়ক। তিনি কিংবদন্তি সংগীতকার সমর দাস। যার গান এখনো প্রাণের ভেতরে দামামা বাজিয়ে যায়।

১৯৫৩ সালে তিনি পিয়ানোবাদক হিসেবে তৎকালীন এইচ এম ভি তে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৬৬ সালে তিনি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্থানের করাচী সংগীত একাডেমীতে প্রধান সংগীত পরিচালক হন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা রেডিও তে চলে আসেন সংগীত পরিচালক হিসেবে। ৫০ এর দশক থেকেই তিনি বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্থান থেকে মুক্তি প্রাপ্ত অসংখ্য ছবির সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। কলকাতার লটারী ছবিতে কাজ করে তিনি পরিচিত হতে শুরু করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম বাংলা ছবি "মুখ ও মুখোশ" এ কাজ করার পর জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করেন। তার সংগীত পরিচালনায় অনান্য উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে "আয়শা" "নবারুন" "ধীরে বহে মেঘনা" উল্লেখযোগ্য। তিনি দুই হাজারেরও বেশী গানের সুরকার। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে সুরবিন্যাস করে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' মূল গানটি বিবিসি লন্ডন থেকে সামরিক ব্রাশব্র্যান্ডে রেকর্ড করার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, সমর দাস চলে গেছেন। তাঁর স্মৃতি আজও সমুজ্জ্বল। কালের ডামাডোলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের রক্তের দাগ মুছে গেছে, কিন্তু আজও তাঁর স্বাধীনতার গান আমাদের স্মৃতিতে সমুজ্জ্বল ও জাজ্বল্যমান। এখনো রক্তে নাড়া দেয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান প্রাণপুরুষ।

দুই.


সমর দাসের সুর করা কয়েকটি গান:
নোঙর তোল তোল
কথাঃ নইম গহর
সুরঃ সমর দাস

নোঙর তোল তোল সময় যে হোল হোল
হাওয়ার বুকে নৌকা এবার
জোয়ারে ভাসিয়ে দাও
শক্ত মুঠির বাঁধনে বজরা বাঁধিয়া নাও
সম্মুখে এবার দৃষ্টি তোমার পেছনের কথা ভোল
দূর দিগন্তে সূর্য রথে
দৃষ্টি রেখেছে স্থির
সবুজ আশার স্বপ্নেরা আজ
নয়নে করেছে ভিড়
হৃদয়ে তোমার মুক্তি আলো
আলোর দুয়ার খোলো।

মুক্তির মন্দির সোপানতলে
কথা: কৃষ্ণ চন্দ্র দে
সুর: সমর দাস


মুক্তির মন্দির সোপানতলে
কত প্রাণ হল বলিদান,
লেখা আছে অশ্রুজলে ।।

কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা,
বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙ্গা
তাঁরা কি ফিরিবে আজ সু-প্রভাতে,
যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।।

যাঁরা স্বর্গগত তাঁরা এখনও জানেন
স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভুমি
এসো স্বদেশ ব্রতের মহা দীক্ষা লভি
সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি।

যাঁরা জীর্ণ জাতির বুকে জাগালো আশা,
মৌন মলিন মুখে জোগালো ভাষা
আজি রক্ত কমলে গাঁথা মাল্যখানি
বিজয় লক্ষ্মী দেবে তাঁদেরই গলে।

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
কথা: গোবিন্দ হালদার
সুর: সমর দাস


পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল
জোয়ার এসেছে জন-সমুদ্রে
রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল।।
বাঁধন ছেঁড়ার হয়েছে কাল,
হয়েছে কাল, হয়েছে কাল।।

শোষণের দিন শেষ হয়ে আসে
অত্যাচারীরা কাঁপে আজ ত্রাসে
রক্তে আগুন প্রতিরোধ গড়ে
নয়া বাংলার নয়া শ্মশান, নয়া শ্মশান।

আর দেরি নয় উড়াও নিশান
রক্তে বাজুক প্রলয় বিষাণ
বিদ্যুৎ গতি হউক অভিযান
ছিঁড়ে ফেলো সব শত্রু জাল, শত্রু জাল।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:৫৭
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×