আজ সকালে লোকাল বাসের ভিড়ের মধ্যে আমার ফোনটা পকেটমার হয়ে গেল। আমি সাধারনত এয়ারপোর্ট থেকে সিটিংবাসে করে বনানীতে আসি। কিন্ত আজ একটু দেরী করে ফেলায় তাড়াহুড়ো করে তিন নাম্বার বাসে উঠে পড়েছি। অনেক ভীড় ছিলো। আর ফোনটা ছিলো অমার জিনসের পকেটে- সামনের পকেটেই; তবুও ফোনটা গায়েব হয়ে গেলো বুঝতেই পারিনি। অমনোয়োগী মানুষজন ভীড়ের মধ্যে ফোন হারাবে এটা খুবই সাধারন ব্যাপার। বরং ফোন না হারানোটাই অস্বাভাবিক। মনটা খারাপ অন্য কারনে। ফোনের মধ্যে আমার প্রায় ১২০০ কনটাক্ট নাম্বার ছিলো, যেটা উদ্ধার করা খুব মুসকিল হয়ে যাবে। আমি ফিল্ম মিউজিক আর কবিতার সাথে খুব গভীরভাবে জড়িত। আমার কন্টাক্ট নাম্বারগুলো মূলত এসব মানুষজনেরই আর ছিলো প্রচুর সংখ্যক বন্ধু ও পরিচিতজনদের নাম্বার। মনটা এজন্য খারাপ। মনে হচ্ছে আমি সব কিছূ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। মুহিত হাসান দিগন্তকে ফোন দিয়ে বলা হবে না, অনুর পাঠশালাটা সিনেমা বানিয়ে ফেলি! কি বলো? নীরবকে ফোন দিয়ে বলা হবে না, কি খবর বাবু? এক্সাম? প্রিন্সকে ফোন দিয়ে বলা হবে না, আজ সন্ধায় প্র্যাকটিসে বসবো... গীটার রেডি... চলে আসো। দেবজ্যোতিকে ফোন করে বলা হবে না, আজ এয়াপোর্টের রাস্তায় হাঁটবো এবং ল্যাম্পপোস্ট এর নিচে দাঁড়িয়ে কবিতা পড়বো। সোহেল হাসান গালিবকে বলা হবে না, আজকে উত্তরায় আসতেছি, কবিতা নিয়ে জম্পেশ আড্ডা হবে। সানীকে বলা হবে না, এডিটিং প্যানেল রেডি রাখো। সিনেমাটা নামায়ে ফেলি কি কও? তানিম সুফিয়ানীকে বলা হবে না, বস আপনার সাথে একটা গান গাব স্টেজে। একটাই হিট! এরকম দিস্তা দিস্তা কথার আদ্যোপান্ত। এমনটি গতকাল রাতে ত্রিনিত্রিকে যে লিরিকটি পাঠিয়েছি ওটারও আর কোন কপি নেই। প্রায় ছয়মাস ধরে তিনি একটা অনুকাব্যকে লিরিক বানানোর জন্য বলছিলেন। অর্নবের জন্য। গতকাল রাতেই তার প্রথম অংশটা কমপ্লিট করা হয়েছে।
আমার নাম্বারটা একটা ডিজুস নাম্বার। ২০০৫ সালের ১৪ই এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন বাংলাদেশের বাজারে উন্মুক্ত হয় ডিজুস। কিন্ত আমার বড়ভাই গ্রামীনফোনে কাজ করার সুবাদে আমি সিমটা হাতে পাই তার একদিন আগে, ১৩ এপ্রিল- চৈত্রসংক্রান্তির দিন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত কত ঘটনা দূর্ঘটনা ও অনুঘটনার সঙ্গী আমার এই নাম্বারটি। মেঘ তুমি জানো আমার কোন দ্বিচক্রযান নাই। মেঘ তুমি এও জেনে নাও আমার কোন ফোনও নাই।
হয়তো আমার কোন
ফোন নাই;
তাই বলে ভেবো না
মন নাই!
ছবি:
চিলড্রেন অব হেভেনের আলীর কথা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে বোনের জুতা হারিয়ে ফেলেছিলো। ভেবেছিলো দৌড় প্রতিয়োগীতায় তৃতীয় হলে সে একটি স্নিকার পাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে (!) সে প্রথম হয়ে যায়। সকাল থেকে আলীর কথাও খুব মনে পড়ছে। মন একটু খারাপ হলেই আমি আলীর এই ছবিটা প্রপিক হিসেবে দেই। ওর নাম আমীর ফারোখ হাসেমাইন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:১৯