somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাফর আহমদ রাশেদের কবিতা

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উৎসর্গের গল্প


যুবতীরা যখন স্নানে মগ্ন, শানবাঁধানো ঘাটের চাতালে কয়েকজন বালক, আর শিশু- যাহারা ইদানীং মাতৃস্তন্য হইতে বঞ্চিত- খেলিতেছিল। এক যুবতী স্নান সম্পন্ন করিয়া চাতালে উঠিলেন। তিনি বসন ত্যাগ করিয়াছেন, অধুনা পরিচ্ছদ একখানা সায়ামাত্র, যাহা জলসিক্ত সুস্নিগ্ধ স্তনদ্বয়ের বোঁটার উপরে বাঁধা। ঘাটের এক কোনায় তাহার শাড়ি। তিনি শাড়ির নিম্নে হস্ত প্রসারিত করিয়া ব্রা বাহির করিলেন এবং প্রথমে মালার মত গলায় পরিলেন। সেই ববন্ধনী বরে উপর নামাইতে গিয়া- আহা কী বিভ্রম- তাহার সায়ার গিঁট খুলিয়া গেল। মুহূতে কী যে ঘটিয়া গেল, স্ত্রীলোকের কোনো সতর্কতাই কাজে আসিল না, একটা অনিন্দ্য স্তন বাহির হইয়া পড়িল এবং আকস্মিক ত্রস্ততায় তাহাতে যে কম্পন জাগিল, রিখটার স্কেলে তাহার মাত্রা সাতের কম নয়।
ঘটনার আরো বাকি ছিল। পূর্বোক্ত শিশুদিগের একজন- মাতৃস্তন্য হইতে বিতাড়িত হইয়াছে বেশিদিন হয় নাই- এক উৎফুল বাক্য পরিবেশন করিল- ‘দুধ দুধ’।
‘যাঃ’- যুবতী শিশুটিকে ভর্ৎসনা করিয়া ঘুরিয়া দাঁড়াইলেন। কিন্তু পশ্চাৎ তাহাকে আকর্ষণ করিল। সেই চোখ এক বালকের। যুবতী বালকের চোখে চোখ রাখিলেন। তাহাতে রঙের পোশাক, লজ্জা।
বালক বলিতে চাহিল- ‘আমি দেখি নাই।’ বালকের মুখে কোনো বাক্য আসিল না। আসিলে তাহা মিথ্যা হইত। বালক তখনো মিথ্যা বলিতে শিখে নাই।


শীতের স্তন


বিদেশী আপেলের সহজতা নিয়ে অনেক দূরের পথ মাড়িয়ে মৃত্যু এসেছিল। আমি তাকে সঙ্গে নিয়ে একটি আলোকবর্ষের মতো দীর্ঘ মায়ামাঠ হেঁটে গেছি; অবিশ্রাম উদ্যমে আশ্বিনের আদিগন্ত ধানক্ষেত পেরিয়েছি মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়েই। পথে পথে ধানের সহোদরা জোনাকিদের বলেছি---‘তোমাদের সব আলো নিভে যাবার আগেই আমি এই পথে ফিরে আসব। অপেক্ষা করো, তোমাদের সঙ্গে যাব।’

সত্যি ফিরেছি আমি, একাকী ফিরেছি। তখন মাঠে মাঠে নাড়ার আগুন। একটিও জুনিপোকা নেই। সুদর্শন নেই।

অথবা আছে, হেমন্তশেষে শীতের স্তনের মতো যে আগুন জ্বলে উঠেছে, তার আভায় একটি জোনাকিও দেখা যাচ্ছে না।


দোনামোনা

দাইমা আমাকে বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে আমার জন্ম জলভাগে। সেখানে বড় বড় সরীসৃপ মাছ-খেকো দেবাংশী সোনালি বুক অক্টোপাস আর অসংখ্য পাহাড় ও প্রবালের মধ্যে আমরা খেলেছিলাম বেঁচেছিলাম।

আশ্চর্য কেচ্ছাকার দাইমা আমার---আমি সব দেখেছি, মনে করতে পেরেছি। যে ফুলকো বিপুল জলে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছিল সে আর নেই, ফুসফুসের ওপরে তার চিহ্ন রয়ে গেছে।

দাইমা আমার মা অথবা মা-ই দাইমা আমাদের। মাছেদের এরকম হয়। অশেষ ভাই-বোন আমাদের মাছেদের।

শুধু মনে নেই কে আমাদের এমন রুক্ষ ডাঙায় ঠেলে দিয়েছে। এই তীব্র আতপে কখন এলাম! কোনো ভূমিকার কথা মনে পড়ে না যেখানে জলচরেরা একবার অন্তত বলবে---দেখা হবে!

সমুদ্রের টান এলে গুছিয়ে নিতে কেন এত দোনামোনা লাগে?


ভয়ঘণ্টা

বিশাল ব্রিজের নিচে দিনের প্রথম অন্ধকার নেমে এল। সারি সারি রেললাইনের দীর্ঘ পিঠের ঝিলিক আসছে শুধু। কতগুলো রুপালি ভূতের লম্বা শিরদাঁড়া জেগে উঠতে উঠতে অজগরের পেট, তারপরে আর কিছু নেই।

ভয়ে আমরা সেখানে পালিয়ে গেছি। রেলের সিঁড়ি বেয়ে দৌড়েছি রাতভর।

খুব ভয় পেয়েছি তবু সহসা ফিরিনি। বিরামহীন ভীতির ঘণ্টা বাজছিল যেখানে সেখানে আমার হাত রেখেছিলে তুমি। সেখানে তোমার দিনরাত্রির সব গন্ধ জমা হয়েছিল। আমার হাতের নিচে ভয় যেন বোবা ও ভোতা হয়ে এসেছিল।

কম্পন ও স্পর্শ আমাদের একাগ্র করে রেখেছে। আমরা দৌড়ে চলেছি একবার স্টেশনের দিকে মুখ করে আরবার দূরের লাল সিগন্যাল পেরিয়ে, নিরুদ্দেশে...


জাফর আহমদ রাশেদ
জন্ম : ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭০, খাস্তগীর পাড়া, সূচক্রদণ্ডী, পটিয়া, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, ১৯৯২ সালে। মূলত কবি, পাশাপাশি গদ্যচর্চাও অব্যাহত রেখেছেন। তার বই তিনটি। কাচের চুড়ি বালির পাহাড়, পদ্য, ১৯৯৭ যজ্ঞযাত্রাকালে, পদ্য, ২০০১ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্প: জীবনোপলব্ধির স্বরূপ ও শিল্প, গদ্য ২০০১ সম্পাদনা আড্ডারু, ১৯৯২-১৯৯৪
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:৩২
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×