somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীলার এক রাত

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুহূর্তের আবেদন গুলি আমাদের কত অসহায় করে তোলে , এর মধ্যে নাই কোন লজ্জা , আমরা নিশ্চিন্তে একজনের সামনে নিজের হৃদয় টা খুলে রাখি , যখন আকাঙ্খার দহনে , না ছুতে পাওয়ার হা হা কারে বুকটা দুমড়ে মুচড়ে কচলাতে থাকে তখন বোল তো দেখি , নিজের আত্ম সমালোচনা করতে হলে আমরা কজন পারবো এই কষ্টটা বুকে ধরে বলতে যে , না , তোমার জন্য আমার কসট হয়না ।

নীলা জানালার বাইরে এক দৃষ্টে তাকিয়ে কি যেন দেখছিল আর ভাবছিল কথা গুলো । আসিফ ঘুমাচ্ছে । ক্লান্ত, সারাদিনের অফিস সেরে বাশায় ফিরেই একটা গোসল দিল। রাতে খাবার শেষে বিছানায় শরীর ছরিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে গেল । তেমন একটা কথা হলনা নীলা আর আসিফের । নিলা বার বার আসিফের দিকে তাকাচ্ছিল ,একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার সে জানালার বাইরে উপড়ে আকাশটায় চোখ রাখে । হটাত হটাত কেমন যেন কষ্ট হতে লাগলো । যখনি কষ্টটা গ্রাস করছিলুর পুরো মস্তিস্ক ঠিক তখনি আসিফ ওর কাঁধে হাত রেখে ডাকে ,এই নিলা , ঘুমাচ্ছ নাকি ? নীলা সাথে সাথে আসিফের দিকে তাকায় আর কি যে ওঁর হল ভেউ ভেউ করে কেদে ফেলল। আসিফ বার বার জিজ্ঞেস করছিলো কি হয়েছে কেন কাঁদছ ? আসিফ বুজতেই পারলনা নিলা কেন অমন করছে ! নিলা সুধু আসিফের দিকে চেয়ে বলল কেন আমায় ধরে রাখার মতকিছু করনা?কেন আমায় বোঝাও না আমি তোমার কিছু হই ? কেন আমি তোমাকে পাইনা ? কেন আমাকে হারাবার ভয় নাই তোমার ? আমাকে ফেরাও তুমি আমাকে বাঁচাও , আমি কষ্টে আছি ।

আসিফ অবাক হয়ে নীলার দিকে চেয়ে রইল , নিলা কেঁদে চলেছে । আসিফের সাহস হলনা নীলাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করার । সে চুপ করে নিলার কেদে যাওয়া দেখতে লাগলো অসহায়ের মতো । অন্ধকার সেই ঘরটিতে জলজেন্ত দুজন মানুশ কিন্তু একটা নিঃশ্বাসের শব্দও আর হল না !

নীলা উঠে বারান্দায় গেল । রোলিং চেয়ার টায় নিজেকে ছেরে দিলো । চুপ চাপ কি যে ভাবছিল , না না কথা মনে আসছিলো ,কোন ভাবেই নিজেকে শান্ত করতে পারছিল না। বার বার একটা নাম তার বুক কাপাচ্ছিল , বার বার মনে হচ্ছিল ও কি ঘুমাচ্ছে না কি আমারি মত করে রাতের আকাশে কাউকে খুজছে ? অস্থিরতা কোন ভাবেই কটছিলনা ।যদি কাল কথা না হয় , যদি সত্যি মোবাইল টা বন্ধ থাকে । ভয়ে ভয়ে কেমন যে করছিলো । রাত টা নীলার কাছে বিশাল মনে হতে লাগলো । অপেক্ষা করছিলো কখন সকাল হবে , এই অস্থিরতার একটাই কারন আজ অর্ণবের সাথে তার কথা হয়নি । অর্ণব খুব সকালে একটা মেসেজ দিলো মোবাইলে , নীলা ক্ষমা করো আমায় , আমি যাচ্ছি তোমার কাছে আর ফিরবনা , আমায় ভুল বুঝনা আমাকে পালাতেই হবে নইলে যে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে । ভাল থেক তুমি , সংসারে নিজেকে বিলিয়ে দাও , ওখানেই সুখ খুজে নাও , আমায় নিয়ে ভেবনা , আমায় খুজনা আমি হারাই নি আমি পালিয়ে গেলাম তোমার সুখের জন্য ।

তখন থেকে নীলা আর নীলার মাঝে নাই , সকাল থেকে অর্ণবের সাথে কোন কথা হয়নি, কিছুতেই নীলা স্থির থাকতে পারছিলনা । রাতটা নীলার কাছে অসহনীয় লাগতে লাগলো,
এই মুহুরতে সামাজিকতা , লোকলজ্জা ,মান অপমান , সব কিছু কেমন তুচ্ছ মনে হল , মনে হলো ওগুলোর কনো মূল্য নেই যদিনা অর্ণব না থাকে , কেমন যেন হয়ে গেছে নিলা , কি নাই তার , টাকা , সম্মান, ফুট ফুটে দুটি বাচ্চা , আসিফের মতো একজন স্বামী যার খুব ভাল একটা পরিচিতি আছে সমাজে , দেখতে মেয়েদের স্বপ্ন পুরুষ বলা যয় । তাহলে কিসের অভাব নীলার ?

কিসের টানে সে মাইল মাইল দূরে থাকা অর্ণবের জন্য পাগল হয়ে উঠে ! এসব কথা নীলাকে ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে পিষে যাচ্ছিল । নীলা অনুভব করল না অর্ণবের জন্য তার এই মন পোড়া সুধু বন্দুত্ত নয় তার চাইতে অনেক অনেক বেশি আপন । নীলা বুজল সে অর্ণবকে ভালোবেসে ফেলেছে , এ কি সর্বনাশ হোল তার ! তাহলে কি অর্ণবও ? এই জন্যই কি অর্ণব নীলার কাছ থেকে পালিয়ে যেতে চাইলো ?
নিলার খুব জানতে ইচ্ছে হল অর্ণবের সেই না বলা কথাটি , কখনো কি অর্ণব বলবে নীলা তুমি আমার প্রেম , তা হোকনা এক মুহূর্তের , ভাবতে ভাবতে নীলার চোখের অশ্রু গুলো ওর গাল হয়ে এসে ঠোঁট ছুলো ,তখনি অশ্রুর মরন হোল নীলার একটি কথায় , অর্ণব ফেরো আমার কাছে আমার হয়ে , তোমায় ছাড়া আমার চলবে না , আমি তোমায় ভালোবাসি , ঠিক তোমার মতো করে, যেমন তুমি চাও ...।
১০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×