আন্তঃনগর আর বৈদ্যুতিক খুঁটির; তার আশ্বাসে আমাদের মনোহর
ঘুমে স্রষ্টাবার্তার চে' লালদোপাট্টা পরশ বোলায় অধিক স্বস্তিতে। রাত
পোহালেই ইচ্ছেপুর। কতদূর। কতদূর।
ওদিকে মেঘমুখে পেঁচা ওড়ার ট্রেইলে মনোযোগী জোৎস্না ফিরেনি
প্রান্তররেখায়। চাপ অন্ধকার নিয়ে যে মাটিকোঠাবাড়ি সাঁই সাঁই উড়ে
যাচ্ছিল চোখপাতা আবছা ছুঁয়ে; তার আঙিনাতে পুঁই পালং ঝিঙের
ঘ্রাণে কাতর প্রজাপতি আমাদের স্বপ্নে নিবিড় হয়ে আসতে থাকে।
প্রজাপতি ডানার সাতনহরে ডুবানো রঙধনু-জ্যামিতি বক্র হতে না
হতে আন্তঃনগরের পা বেঁধে যায় ভিনদেশী রাস্তায়; অমনোযোগী
গর্তে। ঘুম এবং স্বপ্ন পাখি কিচির মিচির করে উঠে ইচ্ছেপুর হতে
কতদূরে, কেজানে।
কিন্তু কাকচিহ্ন জানে মানচিত্র নিপুন; তাই শ্রান্ত ইঞ্জিন যত গোঙাক;
গ্রাম অন্তরে মিটমিটে আলো ছড়িয়ে আমাদের এই রাতযাত্রা রাস্তা
হাতড়ায় কবন্ধের মত। বন্দরে পাটখড়ির লেনাদেনা পেরিয়ে গেলে;
হতচ্ছাড়া অশ্বত্থ তলায় লন্ঠন জ্বেলে লালনবাদ্য কাল; সেও ঘুমালো
কখন। শ্মশ্মানে খিন্ন প্রেতের নাঁকী কলরব শুনে নদী শুধোয়, মনে
পড়ে নাকি পূর্বজন্ম, ও প্রাণ, কে ছিলো দাহকালে শিয়রে তোমার?
বেড়ে গেলে শালবন-অন্ধকার; মৃত আত্নার কাছে কবি বসেন বিনম্র
শৃংখলায়। খেরোখাতা খুলে দেখেন; খড়িমাটি আঁচড়ে ইচ্ছেছবি,
শিথানে জোনাকি পাহারা। প্রাণপাখি ঘুমায় ইচ্ছেপুরে। কতদূরে।
কতদূরে।
(ছবিটি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত
Ascension. 1958
by Salvador Dali)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


