যে দিকে রাত্রি ঘনায়;কুয়াশা ফোটা শব্দের মত
মানচিত্রে ক্যানাস্তারা বাজে শ' শ মাইল, যে দিকে
বেমালুম উঠে আসে রোদ ছলকে উঠা সূর্যস্নান বৃত্তান্ত;
সে দিকে শিয়র পাতা শয্যায় উঠে বসি এই অঘোর মাঝরাতে।
হাতের তালুতে হৃদপিন্ড রক্তজবার মত থরথরে কাপেঁ; আমি
ভোরের জন্মপূর্ব কাৎরানী শুনতে শুনতে ভাবি, কোন দিকে
গেলে ভাঙা পাঠশালার দরজায় সহপাঠির দুষ্টুমুখ
ঝলসে উঠে রাংতার মত। যে অর্থহীন ছড়া-উচ্ছ্বাসে
সংগোপন সরোদ বাজে নামতা শব্দে,তার দরজায়
উন্মুখ কৌতুহল। শ' শ মাইল মানচিত্র নিঝুম নিঝুম।
হাঁটুচরের বোরো-ফলা মাঠে হারিয়ে যাওয়া নাকফুল,
তার কাছে এক বিকেলের আয়নায় সম্মোহনের ঋন।
যেদিকে তর্জনী উঁচিয়ে ডাকে বালুস্বর, বেলাপড়ে আসা
আকাশ-আদর মাখতে মাখতে যে টিয়া জামরুল ডালে
ফিরে, নির্দয় উঁচুতে কেটে যাওয়া ঘুড়ির জন্য কেঁদে
ফেরা এক সন্ধ্যা এই মাঝরাত্তিরে আড়মোড়া ভাঙে শতাব্দী
বঞ্চিত প্রেতের মত।
জড়ানো আঁধার গায়ে মেখে ঠায় প্রত্নতত্ত্বের কাঠখড় হয়ে
বসে থাকি। খিন্ন হতে হতে আমার হাতে নখরে চুলের ভাঁজে
প্রাচীন বট ঝুরি ফেলে, হাঁটুতে মাঠের কোলাহল উপচে পড়ে দুদ্দাপ,
নিঃসাড় বিছানায় থৈ থৈ করে উঠে কাঠঠোকরার গেরস্থালির পালা।
সার বেঁধে জনপথ ঝুলে থাকে লন্ঠনের তারে। ঝরে পড়া প্রজাপতির
বিমর্ষ ডানায় জরির ঘ্রান, চলকে উঠে আশ্বিনের একটুকরো রোদ, সে আলোয় টের পাই, নষ্ট খড় আবর্জনার ফাঁকে দুষ্ট ইঁদুর ভুলে গেছে
দাঁতে কাটতে শৈশবের নৌকো।
সে নৌকো হাতের তালুতে নিয়ে বসে থাকি। পালে আঁকা
রঙপেন্সিলের গায়ে আঙুল বুলাতে বুলাতে ভাবি,
কাগজ নৌকো, তোমারও কি সাধ জাগে সমুদ্রে যেতে?
২১ ডিসেম্বর ২০১০
ছবি: সালভাদর ডালি, autumn cannibalism

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

