আমার প্রিয় পোস্ট
- কার্টুন গ্যাঞ্জাম (সন্ধ্যাবাতি) - সন্ধ্যাবাতি
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোরাল/প্রবাল: পানির নীচে অন্য এক জগত - রাব্বি !
- ৭১ এর ঘটনা : এক ঝুড়ি কামরাঙা ,আল্লাহর কাছে আমার যত কৃতজ্ঞতা - মেহরাব শাহরিয়ার
- কারকোল চিকেন এবং সাগরের সাথে কিছুক্ষন - আস্তমেয়ে
- তারা বলে ইহা ভালোবাসার 'দিবস'! - এই আমি মীরা
- পণ্য নারী - সন্ধ্যাবাতি
- বেস্ট ফ্রেন্ড - মুনিয়া
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- আজ তোমার মেঘে মেঘে রংধনু- - কনফুসিয়াস
- :: সে রাতে পূর্ণিমার সাথে আমি তোমাকেও দেখেছি :: - নজমুল আলবাব
- শেকড়ের টানে,স্মৃতির না'য়ে - ফারহান দাউদ
- আলু ভর্তা এবং একটি অর্ধ আঁতেলীয় ভাবনা (প্রকাশ করতে গিয়ে) শংকিত আমি - মাহবুবা আখতার
- ব্যবসায়ী মন ব্যবসায়ী স্বপ্ন - ফারজানা মাহবুবা
- বই পড়তে চাই, নাম দিন প্লীজ! - সন্ধ্যাবাতি
- আমরা দিন দিন খুনী হয়ে যাচ্ছি... - সন্ধ্যাবাতি
- টু বি অর নট টু বি - এই আমি মীরা
পণ্য নারী
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৩:০৪
একদম ছোট বেলা থেকে জেনে এসেছি আমার সবচেয়ে বড় খুঁত, আমি 'কালো'। পাঁচ ছয় বছর বয়সেও বুঝতাম, ভীষণ অন্যায় কথা বলছে। তখন কেঁদে ফেলতাম, বা ভীষণ মন খারাপ করতাম। আশে পাশে যদি মা বা বাবা থাকত, তাহলে কারও 'কাল মেয়ে তো' মন্তব্য শোনার সাথে সাথেই আমাকে বুকে টেনে নিত... 'কাল তো কি হয়েছে? গায়ের রং দিয়ে কিছু এসে যায় না, মেয়ে আমার মানুষ হলেই হল।'
এখন ভাবি, কালোকে সুন্দর বলার মত মানসিকতা আমাদের সমাজে এখনও গড়ে ওঠে নি। কেউ কালো হলেই তাকে অন্য গুণ দিয়ে এই ঘাটতি পূরন করতে হয়!
সে যাক গে, যা বলছিলাম। একটু বড় হওয়ার পরে, কালো ডাকায় মন খারাপ দেখানো বন্ধ করেছি বটে, কিন্তু তার পিছনে অস্ট্রেলিয়ার সমাজের হাত আছে অনেক। 'ডার্ক' ডাকা তো রীতিমত কমপ্লি্লমেন্ট। অটো ট্যান, কি যে ব্লেসিং! গায়ের রং আমাদের বাঙালী শ্যামলা কালো হওয়া মানে রং, বর্ণহীন, ফ্যাকাশে সাদার চেয়ে অনেকগুণে প্রানবন্ত। আকর্ষণীয়।
কিন্তু এখানে যে অন্য সমস্যা!
সেদিন ইশির সাথে শপিঙে গিয়েছিলাম। ওই যে, পুতুলগুলো সাজানো থাকে কাপড় চোপড়ে, ওগুলোর একটা দেখে ইশি বলছে, "উফ, আমি হঠাৎ ভেবেছিলাম, ওটা বুঝি সত্যি মেয়ে"। আমি বললাম, "হু, কারণটা হচ্ছে, এখনকার মেয়েরা সব দিন দিন পুতুল হয়ে যাচ্ছে।"
সত্যি কিন্তু। চোখ বন্ধ করে ভাবুন বার্বি ডল দেখতে কেমন। সিলকি চুল, উঁচু ভ্রু, পাতলা নাক, সুন্দর ঠোঁট... হাই স্কুল থাকতেই দেখতাম প্রতিটা মেয়ের চুল সিল্কি। প্যান্টিন আর হেয়ার স্ট্রেইটনারের আর্শিবাদ। প্লাক করা একই মাপের ভ্রু। লিপ গ্লস দিয়ে ঠোঁটের রঙ আর আকারও একই রকম করা। এগুলো তো সস্তা উপায়। কিন্তু কিছু কিছু প্রত্যাশা বড় দামী। শরীরের আকার... আওয়ার গ্লাস ফীগার হল প্রত্যাশিত আকার। কয়টা মেয়ে এই প্রত্যাশিত ফিগার নিয়ে জন্মে? সিলিকন দিয়ে শরীরের মাপ বাড়ানো মেয়ের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে (যা করলে শরীরে অনুভূতি কমে যায়। ফলাফল: নিজেকে 100% সার্ভিস মেশিন বানানো!) ডায়েট করে, নিজেকে কষ্ট দিয়ে হলেও ওই স্বপ্নের হালকা শরীরটুকু চাই। কারণ সমাজ চায়।
হাতের নখ, পায়ের নখ, মুখের ত্বকের, ত্বকের ছিদ্র, লোম, গোটা.... সব খুঁটি নাটি ব্যাপারে প্রত্যাশার পর প্রত্যাশা। এখন যে ঐশ্বরিয়ার পুতুল সৌন্দর্য্যের যুগ, আগা গোড়া পুতুল, নিখুঁত পুতুল। ওরকম নাক নিয়ে জন্মাও নি, তো কি হয়েছে, প্লাস্টিক সার্জারি করে নাক বদলে ফেল ওই নাক ফুল পরার জন্য! (মজা লাগে, মানুষগুলোর চোখ বদলানোর কথা কেউ যে বলে নি!)
হ্যা, এখন আর বিয়ের আগে চুল টেনে, ঘরের এমাথা থেকে ও মাথা হাঁটিয়ে, পায়ের গোড়ালী দেখিয়ে মেয়ে 'পরখ' করা হচ্ছে না, কিন্তু, যুগের পরিবর্তনের সাথে পরখ করার ধরণ ধারন বদলে গিয়েছে। হাজার গুণ কুৎসিত রূপে পুনরোত্থিত হয়েছে।
নারীকে এখন আর অনিচ্ছায়, মাথা নিঁচু করে কপালের দোষ দিয়ে শুধু মেনে নিতে বলা হচ্ছে না বস্তু হিসেবে 'পরিক্ষীত' হওয়ার ব্যাপারটা....
উপরন্তু,
নারীকে সামাজিক উৎসাহ দেয়া হচ্ছে এই 'পরিক্ষীত' হওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতে। এখন যে,
মডেল: প্রতিটা নারী
বিউটি প্যারেডের স্থান: কর্মক্ষেত্র, রাস্তাঘাট, শপিংসেন্টার এবং যেখানেই একজন দর্শক আছে
বিচারক: সমগ্র সমাজ!
কি ভীষণ নোংরা এই মানসিকতার বর্তমান বিবর্তিত রূপ!
আমার খুব বিচ্ছিরি লেগেছে যখন কয়েক মাস আগে একজন সনামধন্য, ভীষণ ট্যালেন্টেড 'পুরুষ' ব্লগারের পুরো একটা গবেষণাধর্মী পোস্ট ছাড়লেন মেয়েদের শরীরের মাপ নিয়ে। এবং তাতে সব পুরুষের উৎসাহী অংশগ্রহন।
নারী এখন 'পণ্য'। খোলস সর্বস্র। মাপামাপির যোগ্য 'বস্তু'।
ডা ভিঞ্চি কোডসহ ড্যান ব্রাউনের বইগুলো পড়ে খুব মজা পাচ্ছিলাম। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, নারীকে তার বুদ্ধির ব্যবহার এবং জ্ঞানের জন্য সঠিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে... কিন্তু আরেকবার ভাবুন! সেই নারী সহযোগীদের কারো যে খুঁতালো ফিগার নেই সেটা কিন্তু একদম পরিষ্কার করে বলা সাথে সাথেই!
উহু, হিপোক্রিট হবো না। সৌন্দর্যের দরকার নেই, তা বলব না কখনও। কিন্তু এতটুকু জানি, কেউ শারিরীক ভাবে একটু বেশি সুন্দর। কেউ একটু কম। কারো নাক সুন্দর তো কারো চোখ সুন্দর। সব সুন্দরই নিজের মধ্যে আনতে চাইলে মানুষ হওয়ার যেই ভীষণ আনন্দময় অভিজ্ঞতার একটা হলো বৈচিত্র্য দেখা, বৈচিত্রময় হওয়া, অন্যের চেয়ে আলাদা হওয়া, তা কোথা থেকে পাবো? মনোবিজ্ঞানীরা জানেন, বিড়াল, কুকুর আয়নার নিজের চেহারা দেখে চিনে না। সেই দিন চাই না, যখন মানুষ বউ গুলিয়ে ফেলবে। সবগুলো ঐশ্বরিয়া রায়ের ভিড়ে। এই সচেতনতাটা কেবল নারীর ইচ্ছায় হবে না, পুরুষের সবটুকু ইচ্ছা, সহযোগিতা থাকা লাগবে!
আমাদের প্রত্যেকের অনেক ঐশ্বর্য আছে। শারিরীক সৌন্দর্যকে যেমন স্বাস্থ্যকর জীবন পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিক রাখা যায়, তেমনি ব্যক্তিত্ব শারিরীক সৌন্দর্য্য ছাপিয়ে উঠে প্রায়শই...
আমাদের ভালবাসা বাড়াতে হবে 'সুস্থতার' প্রতি, অসুস্থ, কৃত্রিম, অসম্ভব সৌন্দয্যর্ের প্রতি নয়।
কৃতজ্ঞতা: এসব ভাবনা ভাবতাম অনেক আগে থেকেই। কিন্তু যেই ভিডিওটা দেখে সত্যিই মন খারাপ হলো, তা হলো কিলিং আস সফটলি মিডিয়া কি করে নারীর মানুষ রূপ প্রতিদিন একটু এবং আরেকটু করে ধ্বংস করছে। নারীকে নেহায়েত বস্তু বানিয়ে ছাড়ছে। খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা ভিডিও। একটু সময় বের করে প্লীজ দেখে ফেলুন লিংকে ক্লীক করে...
ভিডিওটা পেয়ে গেলাম একটা আপুর ব্লগে অনেক দিন পরে গিয়ে। থ্যাঙ্ক য়ু আপু, ইফ য়ু আর রিডিং দিস।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মাহবুব সুমন বলেছেন:
তবে লেখা অসাধারন হয়েছে, এরকম লেখা লিখতে পারলে আমি বিশ্ব জয় করতাম , হায় আল্লাহ, আমায় এ ক্ষমতা দাও।
অতিথি বলেছেন:
মিয়া ভাই, 'ইংলিশ' ইংরেজি শব্দ।কমেন্টও।

লেখাটা অগোছালো হয়েছে, মাথায় আসা ভাবনাদের লিখে ফেলেছি ঝটপট। ইংরেজি শব্দ যা মাথায় প্রথম এসেছে, ওগুলোই লিখেছি। অসুবিধার জন্য দু:খিত!
মাহবুব সুমন বলেছেন:
আংরাজী মন্তব্য করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর আপনাকেও ধন্যবাদ।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
লেখা বিবর্জিত মন্তব্য করবার জন্য দূঃখিত।
অতিথি বলেছেন:
আহারে, সুন্দরী, ফর্সা আর সেক্সি মাইয়ারা এই সব শুইন্যা কষ্ট পাইবো। সবগুলি কুত্তা, বিলাই হইয়া একই রকম হইয়া গ্যাছে।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
"মিয়া ভাই " এটা কি জাতীয় সম্ভাষন ?
অতিথি বলেছেন:
এখন সব GM
। আমার এগুলো দেখলে হাসি পায়। সবশেষে কিন্তু Natural দামী। যতই দেখতে নিখুত হোক GM কিন্তু চলে কম।
অতিথি বলেছেন:
তুমি একটু ছোট করে লিখতে পারো না।ছুটির দিন তারপর ও এতো বড় লেখা পড়তে মন চায় না। কষ্ট করে পড়লাম
।কঠিন মেইলের জন্য দু:খিত। it was my official id
আজকাল বলেছেন:
5 দিলাম।
অতিথি বলেছেন:
সন্ধ্যাবাতি, ছেলেরাও তো ইদানিং পুতুল হবার চেষ্টা করছে। ঢাকায় কিছু ছেলে মডেল দেখা যায় যেগুলোর চেহারা দেখলে মেয়ে আর ফিগার দেখলে ছেলে মনে হয়। যাই হোক, আপনার পোষ্টটা সুন্দর হয়েছে। ছেলেদের বিষয়েও এরকম একটা পোষ্ট দেখলে আরো ভালো লাগবে।
অতিথি বলেছেন:
কেমন আছো মেয়ে? অনেকদিন পর তোমার সাথে।লেখাটার বিষয়বস্তু দারুণ, কিন্তু সব মিলে একটু যেন গুলিয়ে গেছে। তুমি তো আরো অনেক গোছালো লিখতে পারো, ইমোশন দূরে রেখে লিখলে এটা আরো অনেক শক্তিশালী একটা লেখা হতে পারতো, তোমার ক্ষমতা অনুযায়ী। তবুও 5, :-)
অতিথি বলেছেন:
"নারীরা পণ্য" এটা কি সত্য? নাকি নারীদেরকে পণ্য হিসেবে দেখা হচ্ছেযদি পণ্য হয়ে থাকে তবে, পণ্যের উদ্ভাবক কে?
অতিথি বলেছেন:
বিষয়বস্তুটা যেমন....শিরোনামটাও তেমন...লেখাটাও দারুন...
তবে "ঐশ্বরিয়া যুগ" এ কথাটা মানতে পারলাম না ..অনেকে হয়তো তাকে পছন্দ করে কিন্তু আমি না...
আজকাল শুধু নারীরাই মডেল হচ্ছে না পরুষরাও মডেল হয়ে যাচ্ছে...
রাগ ইমন বলেছেন:
বিষয়বস্তু অতীব নিঁখুত । একটু দেখে নিতে হবে সিলিকন আছে কিনা
খেপিস না ।
ভালো লেখা । তবে আরো অনেক ব্যাপার আছে । ওকে , আমি পোস্ট দেই , মন্তব্য বড় হয়ে যাচ্ছে ।
অংকন বলেছেন:
পুরুষের যেমন ইচ্ছা থাকতে হবে নারীরও তেমনি থাকা লাগবে । মুক্তমনারা টেনে আনবেই । কিন্তু নারীরা আসবে কেনো ? তবে হ্যা , না আসলে পরে এসিড মারবো , হ্যান মারবো , ত্যান মারবো বা এই করবো সেই করবো এমনভাবে বাধ্য করা হয় । আর এটার জন্যই সত্যিকারের একটা আইন দরকার ।
ডাহা গাধা বলেছেন:
আমার মনে হয় আপনি একটা আস্ত মেয়ে (মানুষ) ই । এ জন্য আপনাকে দেয়া যাবে 1 পয়েন্ট ।আপনার রং যদি কুচকুচে কালো হয় তাহলে আপনাকে আরো 1 পয়েন্ট দেব ।
রঙ যাই হোক, যদি মসৃণ (ত্বক নয় কিন্তু রঙ) বা রঙ চর্চা বা ট্যান করে থাকেন তাহলে দয়া করে নিন আরো 1 পয়েন্ট ।
আর আপনি যদি বেশ ভূষায় পরিপাটি সংবেদনশীল হন তবে পেতে পারেন আরো 1 টি মূল্যবান পয়েন্ট ।
এহ হে !
ভুলে গিয়েছিলাম, আপনার এই পোষ্ট টার জন্য আপনাকে অবশ্যই নিতে হবে আরো 1 টি পয়েন্ট ।
অতিথি বলেছেন:
আগে ভিডিও টা দেখে নিই তারপর মন্তব্য করব।
আলী বলেছেন:
কেশ কালো নয়ন কালো ত্বক কেন নয়?
অতিথি বলেছেন:
প্রথমে প্রজাপতি আপুর মন্তব্যের জবাব দিয়ে নেই...একদম ঠিক বলেছ আপু, লেখা খুবই অগোছালো হয়েছে। আসলে মাথায় যা এসেছে তাই পটাপট লিখে ফেলেছি। তাতে যা হয়েছে, এই প্রসঙ্গে আমার মাথায় যত ভাবনা আছে, সব একটু করে ছুঁয়ে গিয়েছি। লেখা পড়ে পাঠক কনফিউজড হয়ে ভাববে, কি পড়লাম?
যেমন,
1. শুরু করেছি কালো ফর্সা ইস্যু নিয়ে। এক দম শিশু বয়স থেকে মেয়ে শিশুদের 'পরখ' করা হয় গায়ের রঙের উপর নির্ভর করে।
2. একটু ছুঁয়েছি এখন সৌন্দর্যের একটা নির্দিষ্ট ধারণা থাকায় সবার আপ্রান চেষ্টা ওই ধারণা অনুযায়ী নিজেকে সাজানো। কৃত্রিম হোক, অস্বাভাবিক হোক, অস্বাস্থ্যকর হোক! তাতে নারীদের স্বকীয়তা শূণ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে! বাজারে সাজানো একই পণ্যের অনেক কপির মত!
3. সমাজের চাপ... নারীকে কেবল বাহ্যিক, দৈহিক সৌন্দর্য দিয়ে বিচার করার চাপ। পুরাপুরি পণ্য করে...
এরকম আরও অনেক টুকরো ভাবনা! আসলে এই ইস্যুটা এত বিচ্ছিরি এবং আমাদের বিশ্ব সমাজের এতটা গভীরে প্রত্থিত, যে বলতে গেলে অনেক বলতে হয়... ধন্যবাদ আপু গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য।
অতিথি বলেছেন:
দ্্বিতীয়নাম, সব সুন্দরী, ফর্সা, সেক্সি মেয়েরা কি নিজেদের চেহারা মুছে ফেলে নতুন চেহারা নেয়?
ফ্রুলিংক্স,
উহু, জিএম সহজলভ্য। যা চাওয়া হয় সব পাওয়া যায়। কনজিউমাররা জিএম দেখে খুশিই হয়
ইমেইল আগে চেক করিনি। জবাব দিলাম
পড়ার জন্য ধন্যবাদ আজকাল।
অতিথি বলেছেন:
আরাফাতুল, আপনিই লিখে ফেলুন না!
সংক্ষিপ্ত চন্দ্রবিন্দু,
আপনার কি মনে হয়?
পোস্টটা গোছানো হয় নি। আসলে নারীকে একজন মন, চিন্তা, ভাবনা সব সহ একজন পূর্ণ 'মানুষ' ভাবা বন্ধ করা হচ্ছে একটু একটু করে। সে জন্যই নারী পণ্য। ব্যাপারটা সমাজ করছে। অনেকটা না বুঝেই হয়তো!
অতিথি বলেছেন:
আবু সালেহ, কিছু দিন আগে ব্লগে দেখছিলাম উইন্ডোজ ভিস্টা উদ্্বোধনী অনুষ্ঠানে নারী মডেলদের। একটু খেয়াল করে দেখবেন শুধু নারী মডেলদের শরীরের কোন অংশগুলোর উপর মনযোগ আকর্ষণ করে পোশাক পড়তে হয় আর পুরুষদের ক্ষেত্রে কোন অংশ!
এখনও হয়তো পুরাপুরি আসে নি! কিন্তু আসছে যে!
অতিথি বলেছেন:
হা হা হা @ রাগ ইমন আপু। আচ্ছা দাও পোস্ট। ভিডিওটা দেখেছ? ছোট্ট (পাবলিক কয় বড়!) পোস্টের পরিসরে অনেকগুলো ব্যাপার নিয়ে লিখে অগোছালো করে ফেলেছি। আরও ব্যাপার ঢুকাতে হলে কি অবস্থা হতো! কর পোস্ট, অপেক্ষায় আছি!
অতিথি বলেছেন:
অংকন, আমি প্রথম যেই লেখাটা বোলড করেছি ওটা পড়ুন। আসলে 'না আসার' উপায় নেই, সমাজের মানুষ হলে, নিজের অজান্তেই এই ব্যাপারগুলো চলে আসে নিজের মধ্যে। একটু একটু করে হয়... আজকে একটা শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন দেখে মনে হল, ওটা ব্যবহার করলে চুল আমার আরেকটু সুন্দর হবে... কালকে চুল ই্তস্ত্রি করে সমান করতে ইচ্ছা করবে! এরকম করে প্রতি ক্ষেত্রে!
আইনে কতদূর হবে! মানুষগুলোর সচেতনতা খুব দরকার যে!
অতিথি বলেছেন:
পড়ার জন্য ধন্যবাদ ডাহা গাধা, সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ, আলী।
অতিথি বলেছেন:
উহু, আমাদের এখানে তো জি,এম একদম চলে না। জি.এম সেকশন কাষ্টমারের অভাবে একদম ফাকা।মেইল বুঝলেই হলো।ঐটা অফিসের। মনে হয় না তোমার মেইল ইনবক্সে আসবে। খুব ফিলটার হয়।
রাগ ইমন বলেছেন:
মহাভারত লিখ ফেললাম
অনেক খাটাইলি তুই , মাইয়া
ভালো থাকিস .........তোর চেহারা নিয়ে কেউ কিসু বললে তার চোখ খারাপ ।
একটা ছবি দেইখাই কাইত আমি
অতিথি বলেছেন:
হি হি হি থ্যাঙ্ক য়ু আপি 
আমার চেহারা নিয়ে একজন বলে, বলে আমি নাকি 'ভোতা'
। কি করি বল তো? পাঠায় দিব নাকি তোমার কাছে? চেহারা নিয়ে মন খারাপের সবগুলো যৌক্তিক কারণ বিদায় হয়ে গ্যাছে
। আলহামদুলিল্লাহ আই অ্যাম হ্যাপি ফর বিয়িং হু আই অ্যাম।
রবিনহুড বলেছেন:
কি বলব বুঝতে ছি না... একটাই বুঝলাম এইটার উপর উনি পি.এইচ. ডি করছেন...
রাগ ইমন বলেছেন:
সন্ধ্যা রে এ এ এ এ ! হি হি হি!
সুপার কিউট !
আর পোজ যা হইসে ..........মারডালা!
ভোতা? বেটি তোর ভোতা নাকটাই আমার সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে । পাঠিয়ে দিতে পারি ......একটু ধার করে দেব সেই "..........." কে।
রাগ ইমন বলেছেন:
পাঠিয়ে দে = হবে
বিজলীর খড়ি বলেছেন:
এই ইউটিউব নিয়া যে আর কত দু:খ পাওয়াবে। আমার পিসিতে ইউটিউব চলে না, লেখে কি জাভাস্ক্রিপ্ট আর ফ্লাস প্লেয়ার নাই---ভিডিও দেখি নাই।আস্ত, আপনি একদিন বলেছিলেন আপনি রাজনীতি ভাল বুঝেন না। এই 'বর্ণহিংসা'এর মধ্যে কিন্তু একটা রাজনৈতিক ব্যাপারও আছে--ব্রিটিশদের রং যদি কালো হত আর আমরা সাদা হতাম তাহলে সাদাকে ঠিক একই রকম ভাবে ঘৃনা করা হত। ব্রিটিশরা অর্ধ জাহানকে উপনিবেশ বানিয়ে এই তাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি এরকম একটা জ্ঞান দেবার জন্যই এই কনসেপ্ট নিয়ে এল: সাদাই সুন্দর। ইংরেজি উপন্যাসে আর পত্রিকায় সুন্দর মনোহর মান ুষদের বর্ণনা এরকমwhite, tall, blonde, slender। black, short, curley and obese মানুষ যে সুন্দর হতে পারে তাই ওরা বলে না। এই ধারনা সাম্রাজ্যবাদের প্রেতের মত আমাদের মনে চেপে আছে যুগ যুগ ধরে। অথচ দুনিয়াতে কত ভাগ মানুষ সাদা? ইউরোপ বাদ দিলে আর কেউ নয়! চীনারা তো ভিন্ন রঙের।
অতিথি বলেছেন:
সন্ধ্যাবাতি, আপনার লেখা খুব সুন্দর, সাবলীল... প্রাণের স্ফুরণ আছে লেখায়। ইংরেজী শব্দগুলো আরেকটু এড়াতে পারলে মনে হয়, আরও গতি থাকতো লেখায়।
দৃষ্টির আরও গভীরতা চেয়েছিলাম।
'...সে জন্যই নারী পণ্য। ব্যাপারটা সমাজ করেছে। অনেকটাই না বুঝেই হয়তো' -- আপনার এই মন্তব্য কতটুকু সঠিক? মনে করে দেখুন , পন্ডস নারী দিবস, ভার্জিন কোলা বা ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ( হোয়াইট ইজ বিউটি ফুল)-- ইত্যাদি বিজ্ঞাপন-দর্শন। এইসব কী একেবারেই না বুঝে অজ্ঞাতসারে হয়?
সব কিছুরপরেও আমি আপনাকে পাঁচ দিচ্ছি। আরও লেখা চাই।...
নারী নিয়ে আমারও একটা লেখা ছিল (পল্লবের পরীরা)। আরো নির্দিষ্ট করে বললে, এই লেখাটা আদিবাসী নারী নিয়ে।
শুভকামনা--
অতিথি বলেছেন:
আপনের আর যাযাবররর এর মধ্যে পার্থক্য খুব কম।
অতিথি বলেছেন:
খুব ভাল বলেছেন। আমি ছেলে বলে জানি বিয়ের সময় ছেলেদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একজন সুন্দরী হুর পরী বিয়ে করা। প্রথম শর্ত এটি তার পরে অন্য গুনাগুন। আমার এক সিনিয়র ভাই খুব করে আমাকে জ্ঞান দিল তুমি তো কালো একজন ফর্সা মেয়ে বিয়ে করবে তাহলে তোমার বংশধর ফর্সা হবে। কি পরিমান বর্ণবাদ এই শিক্ষিত সমাজে। খালি মুখে আওড়াই "কালো মেয়ের কালো হরিণ চোখ"।
শুধুকি ছেলেরাই এমন? মেয়েরাও বণৃবাদে কম কিসে? অনেক মেয়ে ফর্সা নয় বলে কি আক্ষেপ। হয়ত অনেক ত্যাগের বিনিময়ে সে ফর্সা হতে চাইবে। এরাই ছেলেদের বর্ণবাদী মনোভাবকে এক্সপ্লয়েট করার জন্যে নিজেকে পন্য করে তুলে সাজাবে।
আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আমার জীবন সঙীকে পেয়েছি যে ফর্সা না হলেও তার ট্যালেন্ট ও ভালবাসায় পৃথিবীর সব হুর পরী থেকে থেকে উন্নত।
কিন্তু এই বর্ণবাদ আমাদের সমাজ থেকে উঠবে কবে?
তথাগত বলেছেন:
মানুষজনের মন্তব্য পইড়া যে মজা পাইলাম... সবাই মহান... কী চমৎকার একটা জায়গায় আসি ... সংকীর্ণতামুক্ত.. শুকরিয়া... রেজওয়ান সাহেবের মন্তব্য ভালো লাগলো বিশষতঃ - "আমি ছেলে বলে জানি বিয়ের সময় ছেলেদের মূল লক্ষ্য একজন সুন্দরী হুরপরী বিয়ে করা'... হা হা দারুন... উনি ছেলে, মূল লক্ষ্যটাও ছেলেদের .. কিন্তু কিছুতেই উনার না... আর এইটা মনে হয় মেয়েরাও জানে বটে মেয়ে হওয়ার পরও... আর লেখাটা নিয়া আরো ভাবতে হবে... চমৎকার লেখা সন্ধ্যা আপা...
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
কালো তাসে যতই কালো হোক , দেখেছি তার হরিণ কালো চোখ.........ওয়াউ নওমি যা স্যাক্সি না..
আর বিপাশাও কালো
লাগে তবু ভালো
পাশের বাড়ীর ভুটকি টা বেজায় ফর্সা ছিল
চোখ দুখানা তার দিকে কভু ফিরেও না তাকালো...
সুধাসদন বলেছেন:
জাতের মেয়ে কালোও ভাল।
অতিথি বলেছেন:
i think its going to b a tradition to be a NAARIBADI. naarik somman dite hoy mon theke, atta theke. mukhe fena tola- naari mayer zati r ghore fire bouke petano...haire sovvota...!!
অনাহুত আগন্তুক বলেছেন:
(কমেন্টগুলো আমি পড়িনি)আমার একটা বন্ধ আমাকে একটা গান শোনালো, একটা লোক অসম্ভব সুন্দর গলায় গাইলো..
they say oh poor girl
you are so beautiful you know,
its a shame that you cover up your beauty so..
মেয়েটা বলে, this beauty that i have is just a simple part of me..
আমি সবচেয়ে চমকেছিলাম আমার বেস্টফ্রেন্ড (রুমি) এর প্রেমিকা কে দেখে.. আনা একদম কালো সাদামাটা একটা মেয়ে, ওকে দেখে যে অনুভূতি হল, তা অনেকটা এরকম, ওর দেখার মত আশ্চর্য উজ্জ্বল আর গাঢ় এবং গভীর একটা চোখ আছে.. আমার কেমন যেন লাগলো এক মুহুর্তের জন্য, রুমির মত এত হ্যান্ডসাম, এত নাইস একটা ছেলের প্রেমিকা দেখতে এমন?
কিন্তু এখন.. আনা আমার খুব ভালো বন্ধু, আমি ওকে খুব ভালোবাসি.. চেহারা দেখেই যদি আমরা বন্ধু বানাতাম, তাহলে তো কি যে হত! স্রষ্টাই জানে..
লেখাটা খুব সুন্দর আপু! "ভালো লেগেছে" হাহাহাহাহাহ!
অনাহুত আগন্তুক বলেছেন:
ওহো ভুল লিখেছি.. বন্ধ না বন্ধু হবে.. আর গভীর 'একটা' চোখ না, 'দুটো' চোখ হবে! হেহেহেহে! আমার মাথা গেছে!
আস্তমেয়ে বলেছেন:
গানটা অনেক সুন্দর তো! ছেলেরা ওভাবে ভাবতে পারে না, তাই না?
বন্ধুত্বের বেলায় তো বললি, প্রেমিকার বেলায় মনে থাকবে তো?
দিগন্ত বলেছেন:
আমিও ৫ দিলাম
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
হুমম…
বাঙাল যুবক বলেছেন:
পড়লাম। ভাল লেখা।
বৃত্ত বলেছেন:
+++++++
রাতমজুর বলেছেন:
৫
গুহামানব বলেছেন:
এই দুনিয়ায় standardization বর্তমানে খুবই narrowed down হয়ে গেছে। আশেপাশের সবাইরে দেখতে একই রকম লাগে। কারো individuality বলে কিছু খুঁজে পাই না।
প্রতীক্ষা বলেছেন:
আপনার প্রিয় লিখা থেকে লিখাটা পড়লাম..কি যে অসাধারণ ভাল লাগল। অনেক দিন পর অনেক ভাল একটা লিখা পড়লাম।
অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন।
''হাতের নখ, পায়ের নখ, মুখের ত্বকের, ত্বকের ছিদ্র, লোম, গোটা.... সব খুঁটি নাটি ব্যাপারে প্রত্যাশার পর প্রত্যাশা। এখন যে ঐশ্বরিয়ার পুতুল সৌন্দর্য্যের যুগ, আগা গোড়া পুতুল, নিখুঁত পুতুল। ওরকম নাক নিয়ে জন্মাও নি, তো কি হয়েছে, প্লাস্টিক সার্জারি করে নাক বদলে ফেল ওই নাক ফুল পরার জন্য!
এখন যে,
মডেল: প্রতিটা নারী
বিউটি প্যারেডের স্থান: কর্মক্ষেত্র, রাস্তাঘাট, শপিংসেন্টার এবং যেখানেই একজন দর্শক আছে
বিচারক: সমগ্র সমাজ!
সব সুন্দরই নিজের মধ্যে আনতে চাইলে মানুষ হওয়ার যেই ভীষণ আনন্দময় অভিজ্ঞতার একটা হলো বৈচিত্র্য দেখা, বৈচিত্রময় হওয়া, অন্যের চেয়ে আলাদা হওয়া, তা কোথা থেকে পাবো?
আমাদের প্রত্যেকের অনেক ঐশ্বর্য আছে। শারিরীক সৌন্দর্যকে যেমন স্বাস্থ্যকর জীবন পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিক রাখা যায়, তেমনি ব্যক্তিত্ব শারিরীক সৌন্দর্য্য ছাপিয়ে উঠে প্রায়শই...
আমাদের ভালবাসা বাড়াতে হবে 'সুস্থতার' প্রতি, অসুস্থ, কৃত্রিম, অসম্ভব সৌন্দর্যের প্রতি নয়।''
কথাগুলো যে কতটা সত্য----মানুষ এখন আর কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করে না। সবচেয়ে ভাল, সবচেয়ে সুন্দরটা চাই--শুধু চাই চাই স্বভাব---কেউ আর কিছু কারওটা বোঝার চেষ্টা করে না..শুধু নিজেরটা পেলেই হল----মাঝে মাঝে হাপায় উঠি--নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চায়।
নষ্ট কবি বলেছেন:
নষ্ট হয়ে গেছে পৃথিবী- নগ্ন হয়ে চলেছে সমাজ
অশ্লীল কামনা যেখানে স্ট্যটাস
সেখানে লুটোপুটি খায় ভদ্র লেবাস
তার মাঝে দ্রোহ আমার
ধ্বংস হোক লেবাস ভদ্রতার
মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেছেন:
পন্য হবার জন্য আমি মনে করি মেয়েরাও দায়ী,বিউটি পার্লার সংস্কৃতি আমাদের গ্রাস করে ফেলছে।আর আজকাল বিধাতার দেওয়া সৌন্দর্য নিয়ে অনেকেই সন্তষ্ট থাকতে চায় না।ইদুর দৌড়ে দৌপাচ্ছে সবাই।কোথাও গিয়ে যে শেষ হবে আল্লাহই জানে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















তবে ভালো লেগেছে। আবারো পড়ছি।