somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'রঙিন' মানুষ

২৩ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা প্রানের জন্ম হওয়া দেখলাম যে আজ... সেই ছোট্ট একটা কোষ থেকে... কি করে হয়!
আমার অস্তিত্বের শুরুর আটদিনের মাথায় ছিলাম কয়েক মিলিমিটারের বেলানো রুটির মত, পাতলা, চ্যাপ্টা কতগুলো পর্দার যোগফল। হঠাৎই কি হয়, সেই পাতলা রুটির মত পর্দাগুলো ভিতর দিকে ভাঁজ হয়ে আসে। আস্তে আস্তে দুই পাশ মিলে মিশে এক হয়ে যায়। এক এক ভাজের ফাঁকে এক এক যাদু। কোনটা গোল হয়ে তৈরি করে মুখ থেকে শরীরের অন্য প্রান্ত পর্যন্ত লম্বা পাইপ। কোনটা ছোট্ট মেশিনটা চালু করিয়ে দেয়। যেটা ধুকুপুকু শব্দ করে আলোড়ন তুলে যায়।
কোনটা তৈরি করে মস্তিষ্ক কিংবা মরুরজ্জু। ছোট্ট একটা ভুল, আর জন্ম হয় খুলি খোলা অবস্থায়... ওই যে, কালো মার্বেলের মত কি যেন উঁকি দেয়া শুরু করে। যেন আটার গোলার মধ্যে কালো জাম পুঁতে দিয়েছে কেউ। সেগুলোই চোখ হয়ে যায় এক সময়। এই ছোট্ট দুটি অঙ্গ, কয়েক মিলিমিটার বড় ছোট হওয়া নিয়ে কত্ত কিছু... সেই অঙ্গের গঠন প্রক্রিয়া এত বাড়াবাড়ি রকমের সরল... 'রিস্কি' এবং ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। সামান্য একটা এনজাইমে সামান্য একটু যদি উলোট পালোট হতো, তাহলে চোখগুলো কখনও খোলাও যেত না। নাকের মাঝখানটা আর ঠোঁটগুলো মিলে মিশে একাকার হয়ে যেত। ঠোঁট এত সুন্দর হয় কি করে, এতো কেবলে রুটি বেলতে গিয়ে হঠাৎ ভাঁজ হয়ে গেলে যেমনটা হয়, তেমনই প্রক্রিয়ায় হওয়া।
দুই মাসের মাথায় হাতের তালুতে নেওয়া যাবে, ঠিক সেই মাপের পরিপূর্ণ মানুষ।
একটা প্রানের ভিতর আরেকটা প্রান। নয় মাস ধরে বড় হওয়া, একটু একটু করে। একই মায়ের শরীরে ওই সন্তানের দশ মিলিমিটার রক্ত ঢুকিয়ে দেয়া হোক না, সমস্ত রক্ত আক্রমন করে মেরে ফেলবে অনুপ্রবেশকারীকে। কি আশ্চর্য, এই প্রানটাই এতদিন ছিল একেবারে মায়ের শরীরের ভিতর। সেখানকার তরলে কয়েক ঢোক সারাদিনে ভুলে গিলে ফেলে, দেয়ালে শক্তি পরীক্ষা করে, মায়ের শরীর থেকে পুষ্টি নিয়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে কমন মিরাকেল। প্রত্যেকটা মানুষ এক একটা মিরাকেলের জীবন্ত সাক্ষী। অথচ, দু:খজনক, সবচেয়ে বেশি কম জানা, ভুলে থাকা, অবহেলায় দূরে ঠেলা মিরাকেল।
৩০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের সবচেয়ে যোগ্য ইসলামী নেতা কে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০০



সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখ

লিখেছেন সামিয়া, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫৪



আমরা আসলে সবাই অদ্ভুত মানুষ। কারও না কারও চোখে আমরা সুখী একদম গ্রামের বাড়ির উঠোনের ধারে থাকা সেই ছোট শান্ত নীড়ের মতো। কেউ খেয়াল করলে বুঝত আসলে সুখী কিনা, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুষার ঝড়ের ওপর পাল্টা শুল্ক বসানো যাবে না?

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:০২

তুষার ঝড়ের ওপর পাল্টা শুল্ক বসানো যাবে না?



তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন। বহু অঞ্চলের রাস্তাঘাট কার্যত অচল। ঘরের ভেতরেও মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন মানুষ, যে তোমাকে চেয়েছিলো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২৩

তোমাকে চাই,
চাওয়াটার ভেতরে অন্য কিচ্ছু নেই,
না কোন দাবি বা শর্ত।
শুধু এক কাপ চায়ের ধোয়ার আড়ালে
তোমার চোখে চোখ রাখা।

যদি পারো,
শেষ বিকেলের আলোয় আমার নামটা লিখ।
মুছে গেলে দোষ দিও না,
আমি জানি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু তৃপ্তি দেরীতেও আসে না=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০২

জানুয়ারী শেষের পথে। নতুন বাড়ীতে একমাস হয়ে গেল। এখনো গুছানো হয়নি। প্রতিদিনের নিয়ম কানুন অনেকটা পাল্টে গেছে। সকালে অফিসে আসার সময় এত তাড়াহুড়া বাপরে বাপ। রেডি হয়েও কাজ করি। ঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×