অ্যারাবিয়ান নাইটসে প্রথম ধড়হীন মাথা দেখেছিলাম। ছোট্টবেলার প্রবল মুগ্ধতা নিয়ে দেখতাম, 'কেহেরমান' তলোয়ারের এক কোপে ধড় আলাদা করে দেয় জ্বিনের, যার আলগা মাথাটাই হেসে খেলে নেচে বেড়ায়। সেদিন, যখন ধড়হীন মাথাগুলো দেখলাম, তখন কেহেরমানের কীর্তির কথা মনে পড়ছিল। স্টেইনলেস স্টীলের টেবিলে, পাশাপাশি সাজানো ছিল সাতটা ধড়হীন মাথা। থুতনীর পরেই নিঁখুত ভাবে কেটে ফেলা। বড় ছোট মাঝারি--নানা আকারের মাথা। চুল চাছা মাথার তেমন দেখা যায় না, কারন সবগুলোর খুলি গোল করে কাটা। ভিতর থেকে মগজ উধাও। চাছা চুলের সোনালী বা সাদা গোড়া উঁকি দেয়। মুখের রং মোটামোটি সবই এক--কালচে গোলাপী। প্রথম দেখাতেই অতোটুকু দেখে ফেললাম। দূর থেকে। হাতের নাগালে আসতে আস্তে করে ধরে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে রাখলাম। আমি চেহারা দেখতে চাই না। আমি একে 'চেহারা' ভাবতে চাই না। স্রেফ অ্যারাবিয়ান নাইটসের কোন এপিসোডের ধড়হীন মাথাগুলো ভুল করে উড়ে উড়ে এনাটমি ল্যাবে চলে এসেছে, ভাবতে চাই। রূপকথা ভেবে পেলাম স্বস্তি, ডুরা ম্যাটার খুঁচিয়ে দেখলাম, অপটিক নার্ভ নেড়ে চেড়ে দেখলাম। ধূসর পদার্থের উঁচু নিচু উপত্যকায় আঙ্গুল বুলালাম। অনিচ্ছাতেও কপালের কাছটায় চোখ যেতেই থমকে গেলাম। কুঁচকানো কপাল। বয়সজনিত না। যেন প্রবল বিরক্তি। বিরক্তি? মাথায় করাত চালানোতে প্রবল বিরক্তি? মাথার ভিতর হাত ঢুকিয়ে খুঁচাখুঁচি করায় প্রবল বিরক্তি? আমি চোখ বন্ধ করে আবার খুললাম। নাহ, এ তো মৃত মানুষের ভাবলেশহীন চেহারা না! দুই জনের মৃত চেহারা দেখেছিলাম--নানাভাই আর তার ভাইয়ের। খাটিয়া কিংবা বিছানায় শোয়ানো চেহারাটায় কপাল কুঁচকানো ছিল না। ভাবলেশহীন বলা যায়, ভালোবাসা মাখা চোখে দেখলে শান্তিটুকু দেখা যায়। কিন্তু 'আনন্দ' নয়, 'বিরক্তি' নয়, 'অনুভূতি' ট্যাগ বসানো যায়, আবেগ বলা যায় তেমন কিছুর আলো ছায়া তো দেখিনি মুখগুলোতে, চোখগুলোতে...
কিন্তু এই যে সাত সাতটা ধড়হীন মাথায় চেপে বন্ধ করে রাখা চোখ, কুঁচকানো ভ্রু, আর পাতলা, বন্ধ ঠোঁটে স্পষ্ট বিরক্তি... আর যন্ত্রনা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

