somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নুয়াখাইল্যা হেরেম (নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে)

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখক ঘুমাতে গেলেন ভোর পাঁচটায়। সকাল নয়টায় চোখ খুলতেই চোখের সামনে একজন যুবককের দেখতে পেলেন। যুবকটি হাসি মুখে সালাম দিলেন। লেখক সালামের উত্তর দিলেন। যুবকের নাম কাশেম। যুবক এ বাসায় কাজ করে এবং জামান সাহেবের বেশ প্রিয়। লেখক জানতে চাইলেন তার এখানে আসার কারন। যুবক হেসে হেসে বললেন

> জামান ভাই কইছে আমনের লগে থাইকতো, আমনে বোলে হারাই যান।

লেখক বিরক্ত হলেন। জামান সাহেব কোথায় প্রশ্ন করতে যুবক বলেন

> ভাইয়া এক্কানা কামে গেছে, আমনেরে কইছে হাত মুক ধুই আঁর লগে হে মিয়ার হোর বাড়ীত যাইতেন।

লেখক হাত মুখ ধুয়ে নিলেন। তার পর কাশেমকে তাঁর গোসল করার ইচ্ছা জানালেন। কাশেম সাথে সাথে লেখককে পুকুরে গোসল করার নিমন্ত্রন দিলেন। লেখক সামান্য আশ্চর্য হয়ে বললেন বাথরুমে গোসল করা যায় না? যুবক বলে

> হুইরে গোসল কইললে ভালা লাইগবো। হানি হেরেশ

লেখক কাশেমের সাথে পুকুরে গেলেন। আসলেই পুকুরের পানি একদম স্বচ্ছ। লেখক সাতার পারে না। তাই মগ দিয়ে গোসল শুরু করলেন। ওদিকে কাশেম হাসতে থাকে।

> ভাইয়া আমনে বুজি হাঁতার হারেন না? আমগো ইয়ানে এদ্দুরি এদ্দুরি হোলাহাইন হাঁতার হারে।

লেখক সামান্য ইনসাল্ট হলো। হঠাৎ করে পাশের ঘাট থেকে মেয়েদের হাসির শব্দ পাওয়া গেলো। লেখক খালি শরীর আর লুঙ্গি পরিহিত থাকায় তাড়াতাড়ি পুকুরের নেমে গেল। কাদার মধ্য দাড়িয়ে এমন একটা ভাব করলো যে তিনি সাঁতারে পটু। ভাল করে চেয়ে দেখে লেখকের পছন্দের সেই যুবতী ও গোসল করতে এসেছে। লেখক অনেক লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি পুকুর থেকে উঠে গাছের আড়ালে গিয়ে কোনো রকম গা মুছে সোজা বাড়ীর দিকে চলে এলেন। কাশেম ও সাথে সাথে আসলো। সকালের নাস্তা করা হয়নি। কাপড় পড়ে রেডি হতেই কাশেম বলে

> ভাইয়া রিক্সা লই আইছি

লেখক আর কাশেম রিক্সায় যাচ্ছে। লেখক সিগারেট ধরালেন। কাশেম হেসে বলে

> খালি হেঠে সিগারেট খাইলে সমইস্যা অয়।

লেখক প্রশ্ন করে কাশেম তুমি কত দিন ধরে এখানে কাজ করো?

> ছোঠ বেলাত তুন আছি।

রিক্সা থামলো। একটা বাসার সামনে। ঢুকলাম। জামান সাহেব বসে আছে। দেখতেই কাছে আসলেন। সরি বললেন যে লেখককে একাই ফেলে রেখে এসেছেন। লেখক হাসি দিয়ে এটা তেমন কোনো ব্যাপার না জানালেন। সকালের নাস্তা দেয়া হলো। প্রথমে নানা রকম পিঠা নাম মনে নেই তবে আমার প্রিয় ডিম পিঠা ছিলো। পিঠা পর্ব শেষে নেহেরি আর রুটি দেয়া হলো। বেশ মজার। নাস্তা পর্ব শেষে পরিচয় পর্ব শুরু হলো। জামান সাহেবের শশুর শাশুড়ীর সাথে পরিচয় হলো। উনারা বেশ ভালো 'বাবা' বলে সম্বধন করলেন। জামান সাহেব বাজারে যাবেন তাই আমাকেও সাথে নিলেন। আমরা রিক্সায় সাথে কাশেম ও আছে। কাশেম আর জামান সাহেবের মধ্য কথা হচ্ছে

> হুরে জামান ভাই জানেন নি এই ভাইয়ে হাঁতার জানে না। খিক খিক খিক

জামান সাহেব:

> না জাইনলে কি হইছে। আঁই ও জানি না।

বাজারে চলে এসেছি। বেশ ভীড়। জামান সাহেব চোখের সামনে যা দেখছে তাই কিনতেছে। কিন্তু উনার দামাদামি করা দেখে বেশ অবাক হলাম, ২২০০ টাকার রুই মাছ উনি ৯৫০ টাকায় কিনেছেন। কাশেম সাথে সাথেই আছে। বাজার প্রায় শেষ। কাশেমের কাছে সব বাজার দিয়ে আমরা জামান সাহেবের এক পরিচিতের বাসায় দেখা করতে গেলাম। দুপুর ২টার দিকে বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরে দেখি রান্না ঘরে বেশ ভীড়। ওদিকে জামান সাহেব শরবত নিয়ে আসলেন। শরবত খাওয়া শেষে জামান সাহেব তাঁর শালীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন বলে আশ্বস্ত করলেন। শালীর আগমন। জামান সাহেব বললেন এ হলো আমার একমাত্র শালী লাবণ্য। নামটা বেশ সুন্দর। লাবণ্য সালাম দিলো।

> আপনি নাকি সাঁতার জানেন না?

শুনে অবাক আমি আরে এ মেয়েতো দেখি শুদ্ধ বাংলাও পারে। লাবণ্যর সাথে নানা কথা হলো। পড়ালেখায় ইন্টার পর্যন্ত করেছে। পরে আর পড়েনি। জামান সাহেব বললেন বেশি সুন্দরী দেখে সবার নজরে পড়ে গেছে তাই আর বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়া হয়নি। আসলেই মেয়েটা সুন্দর। দুপুরের খাওয়া দাওয়া হলো। বিশ্রামের জন্য একটা রুমে গেলাম। ঘুমিয়ে গেলাম। উঠে দেখি ৬টা বাজে। চোখ খুলতেই কাশেম। নাস্তা নিয়ে হাজির আর হাতে একটা গামছা।

> ভাইয়া কইছে আন্নেরে হাত মুক ধুই নাস্তা করি রেডি হইতেন, হে মিয়া আঁই আম্নেরে লই যাইবো।

মুখ ধুয়ে নাস্তা করলাম। কাশেমকে বললাম 'কাশেম এখানে সিগারেট খাইলে কোনো সমস্যা আছে?'

> আরে ধুর কি হইবো! আম্নে খান, ইয়ানে কেউ আইয়েনা

জামান সাহেবের আগমন। উনার সাথে রিক্সায় চেপে গেলাম এক বাড়ীতে। সেখানে হলুদ সন্ধ্যা চলছে। আমি একটু ইতস্ত বোধ করলাম। জামান সাহেব বললেন আমার কাজিন সমস্যা নেই। ভিতরে যেতেই অন্য পরিবেশ। শুধু মেয়ের দল আর মুরব্বীরাও আছে। একটা মেয়ে স্টেজে বসে আছে, তাকে ঠিক মত দেখলাম না, তার পুরো মুখটাতেই হলুদ দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে। কিছুক্ষন পর খাওয়া দিলো। জামান সাহেবের মুখের দিকে চাইতেই তিনি বললেন 'আরে খান, একটু খেলে কিছু হবে না!'। খাবার পর্ব শেষ। পরে উনার কাজিনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। কাজিনের বাবা ও ছিলেন, উনি আমাকে বলেই বসলেন 'বাবাজী কি বিয়ে করেছেন?' আমি উত্তর দেবার আগেই জামান সাহেব বলেন 'আরে না, বেচারার বয়স ই হয়নি!'

এতো অতিথি পরায়নতা দেখে আমি আমার মিশনের কথা ভুলেই গেলাম। জামানের সাহেবের সুন্দরী শালী! কিন্তু জামান সাহেবের এমন সুন্দর আচরন দেখে আর উনাদের পরিবারের এমন আদর পেয়ে সাহস পেলাম না আমার মিশন চালাতে। তাই ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। জামান সাহেবকে বললাম

> জামান সাহেব আমি বরং এবার যাই। কালকের সকালের বাসে ঢাকা যেতে হবে।

> আরে না এত তাড়া কিসের! এক সপ্তাহ থেকে যাবেন!

> না না আমার বাসায় সবাই অপেক্ষা করবে!

জামান সাহেবের মুখটা শুকিয়ে গেল। বিয়েতে এটেন্ড করে যাবার অনুরোধ করলেন। না করতে পারলাম না। জামান সাহেবকে বলে একটু বাইরে যাবার ইচ্ছা পোষন করলেন। এবার তিনি ঠিক আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে নিলেন। বাইরে এসে একটা সিগারেট ধরালাম। পাশে তাকিয়ে দেখি কাশেম।

> তুমি এখানে কি করো?

> আন্নের লগে আঁই আছি, আমনে যে মুই যাইবেন, আঁই হেই মুই যামু

কোনো কথা না বাড়িয়ে হাটতে থাকলাম....
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৬
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×