somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যরাতের স্বপ্ন যখন ভোর রাতে ভাঙ্গে,তখন চুল ছিড়তে ইচ্ছা করে

২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুম পাইতাছে। ভাবলাম একটা সিগারেট টাইনা ঘুমাই। কিন্তু মামা টয়লেটে বইয়া নিজেই সিগারেট টানতাছে আর বাহির হইতে প্রায় আধাঘন্টা। বাধ্য হইয়া নিজের রুমে গিয়া ঘুমাইতে গেলাম। পাশের বাসার বাচ্ছাটা আজকা বেশি কানতাছে। কিছুক্ষণ পা ডুলাইলাম, কখন সে ঘুমাই গেছি কইতে পারি না। স্বপ্ন আইলো। ২টা পুরুষ আর একটা মহিলা বইসা আছে। তাগো সামনে আমি খারাইয়া আছি। আমার হাতে একটা মাইক। কিছুই বুঝতে পারতাছিনা। আমার পিছনে ফিরা দেখি লিকা আছে 'ক্লোজআপ ওয়ান ২০০ৎ'। বুঝলাম এবার একটা গান গাইতেই হইবো। শুরু করলাম একটা গান 'আমার বুকের মধ্যখানে,মন যেখানে,হৃদয় যেখানে....' সবাই বেশ হাততালি দিলো। প্রথম পুরুষটা কইলো 'আমি মনে করি তুমি হবে এবারের ক্লোজআপ ওয়ান' দ্বিতীয় পুরুষটা কইলো 'এক কথায় চমৎকার' মহিলাঠা কইলো (কানতে কানতে) 'তুমিই সেরা' এর পর তারা আমারে একটা কাগজ ধরাইয়া দিলো, কাগজটা হাতে লইয়া দেখি একটা ইয়েস লেখা। কাগজটা পাইয়া একটা দোর মারলাম ক্যামরার দিকে। ক্যামরাওয়ালা আমারে জিগাইলো অনুভুতি কি? কইলাম 'ডিচ্ছাক ডিচ্ছাক, ইয়াহু.....'

এর পর দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হইলো এইখানে আরেকটা গান হুনাইতে হইবো তাইলে পিয়ানো রাউন্ডে যামু। আমি বেশ নার্ভাস। আমার নাম্বার আছিলো সবার পয়লা। ডরে ডরে গেলাম 'কারে দেকাবো মনের দু:খগো....ওওওও আমি বুক চিরিয়া...' গান শেষ। এক মিনিটের নীরবতা, আমি ডরে শেষ। হঠাৎ দেখলাম বিচারকরা দাড়াই গেলেন, আমি ভাবলাম আমারে জুতাইবো মনে হয়, কিন্তু তারা একলগে হাত তালি দিয়া আমারে বুকে জরাইয়া লইলেন। আর একটা ইয়েস কার্ড ধরাই দিলেন। আমি তো মহাখুশি। আবার দোর মারলাম ক্যামেরার দিকে, এবার ক্যামেরা ম্যান আমারে দেইক্যা কুনু প্রশ্ন করলো না!

পিয়ানো রাউন্ড হইবো। অতিরিক্ত সিগারেট টানার কারনে আমার গলার অবস্থা বেশ খারাপ। কথাই বাহির হয়না।ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার আমারে কইলো গান গাওয়া বন। আমি বেশ চিন্তায় পইরা গেলাম। কিন্তু নিজের মনে বল রাইখ্যা আমি গান গাইতে গেলাম। 'ভালুবাসবো ভালুবাসবো তুমায় যতনে...' গান গাইবার পর সবাই আমারে বেশ বাহবা দিলো যে গলা খারাপ থাকার পরও আমি ভালো গাইছি। পিয়ানো রাউন্ডে টিকলেই আমি চইলা যামু মুল পর্বে। বেশ টেনশনে আছি। রেজাল্ট আইলো। একে একে সবাই পার পাইয়া যাইতেছে আমার কুনু খবর নাই। শেষে আমাগো তিনজনরে ডাকলো। তিনজন বিমর্ষভাবে চেয়ে আছি উপস্থাপিকা একটা এনভেলাব খুললো সেখানে লেখা আছে সেই ব্যাক্তির নাম যে কিনা যাবে পরের রাউন্ডে।

উপস্থাপিকা মন বেজার করে এক জনকে বিদায় দিলেন, বাকী আমরা দুইজন।

>সৌপ্তিক কেমন লাগছে
< কিছু জানি না।
>আজ চলে গেলে কেমন লাগবে?
ও.কে সৌপ্তিক আজ তুমি আমাদের সাথে পরের রাউন্ডে................... যাচ্ছো!!!!

ইয়াহু ডিচ্ছাক ডিচ্ছাক।

আজ আমার স্বপ্ন পুরন হতে যাচ্ছে আমি হবো সেরাদের সেরা। পরের রাউন্ডে আছি ১২জন। এখান থেকে 'গালা রাউন্ড ' শুরু প্রত্যক পর্বে এক এক বাদ যাবে। আমাকে ডাকা হইলো প্রথম গালা পর্বে প্রথম গান গাইতে। মাইক হাতে আমার স্টপলাইটটা আমার উপরে। মাইকে আমি গান শুরু করেছি 'আমি কেমন করে পত্র লিখি গোওওওওওওওওওওওওওওওও আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ উয়াআ অঅ অঅ উয়াআ অঅ অঅ উয়াআ অঅ অঅ উয়াআ অঅ অঅ উয়াআ অঅ অঅ'

কেনো এমন হচ্ছে কিছুই বুঝতেছিনা। মাইকে কোনো সমস্যা নাকি? আমি গাইছি এক বের হচ্ছে আরেক। হঠাৎ কিছু মানুষের কথা শুনতে পেলাম।

>এ্যাই ও এমন করছে কেনো?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৮
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×