গত কিছুদিন ধরেই পত্রিকা খুললেই একটা না একটা মোবাইল প্রেমের বলির ঘটনা আসছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা ভিকটিম। মেয়েগুলো হয় আত্যহত্যা করছে নয়তো সমাজ থেকেই বিচ্ছিন্ন্ন হয়ে যাচ্ছে এসব ঘটনার পর. পুরো পরিবারটা হয়ে পড়ছে বিপর্যস্থ। ছেলেরাও মাঝে মাঝে ভিকটিম হচ্ছে তবে তা মেয়েদের তুলনায় খুবই কম। যেমন কিছুদিন আগেই পড়েছি একটি সংঘবদ্ব দল সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে বড়লোকের ছেলেদের অপহরন করাচ্ছে প্রেমের অভিনয় করিয়ে।
সবগুলো ঘটনার ধরন অনেকটা একই রকম. প্রথমে মোবাইলে পরিচয় হবে, তারপর কিছুদিন মিষ্টি মিষ্টি কথা বার্তা তারপর প্রতারকের আসল রূপে সব হারানোর কাহিনী। আমাদের দেশে প্রতারণার হাজারটা কৌসল জানা প্রতারকদের। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে এভাবে মিডিয়াতে আসার পরেও কেন ঘটনাগুলো বার বার ঘটছে?
এর থেকে উত্তরণের উপায় কি? কিভাবে রক্ষা করব আমাদের এই অধপাতিতো তরুণ সমাজকে? এর থেকে উত্তরণের কি কোনো উপায় নেই? সমাজবিজ্ঞানীরা কি করছেন? কেন এসব বিষয়ের প্রতিকার নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা সমাজের ভুমিকা রাখছেন না? নাকি আমাদের দেশে কোনো সমাজবিজ্ঞানী নেই? এত এত বুদ্ধিজীবী দেশে, এত এত সুশীল সমাজ দেশে, কেন তারা এর থেকে উত্তরণের সঠিক কোনো কৌশল বাতলে দিতে পারছেন না বা দিচ্ছেন না?
জানিনা আমার এ প্রশ্নগুলো করা ঠিক হয়েছে কিনা তবে আজকাল পত্রিকার পথ খুলতেই ভয় লাগে, কোনো পজিটিভে খবর নাই, হত্যা, সন্ত্রাস, নির্যাতনএর খবরের ভিড়ে ভালো খবর বের করাই মুস্কিল. আমি কোনো সমাজবিজ্ঞানী না, তবে আমার বাক্তিগত ভাবনা থেকে কিছু বিষয় বলতে চাই, যা এসব মোবাইল প্রেমঘটিত ব্যাপার থেকে উত্তরণে সহাযক হবে বলে আমার বিশাস।
১. প্রথম পদক্ষেপটা নিতে হবে বাবা মাকেই. প্রথমেই ভাবতে হবে এসব কোমলমতি ছেলেমেয়েদের মোবাইল দেয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা? আমি মোবাইল দেয়ার বিপক্ষে নই তবে যখন দরকার বা প্রয়োজনীতাটা ভালভাবে বিশ্লেষন করেই মোবাইল ব্যাবহার করতে দিয়া উচিত। শুধুমাত্র স্টাটাস রক্ষার জন্য বা ফ্যাশন করার জন্য এ যন্ত্রটা তাদের হাতে না দিয়াটাই ভালো।
২. বাবা মায়ের উচিৎ ছেলেমেয়েদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা, কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করার আগে কি কি বিষয় জানা উচিত বা কি কি বিষয় খেয়াল করা উচিত। মোবাইলে যে প্রতারণা করা যায় তাও ভালো মত বুঝিয়ে বলা উচিত। মোবাইল প্রতারণার ভয়াবহতা কি হতে পারে সে ব্যাপারে সচেতন করা। সচেতনতা জগতে হবে পজিটিভ ভাবে, কোনো রাগারাগি করে না বা নেগেটিভ ভাবে না। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে ছেলেমেয়েদের কললিস্ট দেখা, কাদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব, কাদের সঙ্গে তার উঠাবসা বা কথা হয় বেশি? সম্ভব হলে খোলামেলা ভাবে বন্ধুর মত তাদের ব্যাপারে আলোচনা করা। তাদের বুঝাতে হবে এই সচেতনতাটুকু তাদের ভালোর জন্যই দরকার।
৩. প্রতিটা স্কুলে নিয়মিত প্রতিটা শ্রেনীতে মোবাইলের সঠিক ব্যাবহার এবং এর নেতিবাচক ব্যাবহার সম্পর্কে সচেতন করে তুলা। এটার জন্য আমি মনে করি অতিরিক্ত কোনো কিছুই করার দরকার নেই, শুধু ছেলেমেয়েদের সচেতনতা তা জাগিয়ে তুলতে হবে, আর এর ভয়াবহতাটা তুলে ধরতে হবে, যা যে কোনো একজন নীতিবান/আদর্শবান শিক্ষকের পক্ষেই সম্ভব. অনেক সময় ছেলেমেয়েরা বাবা মায়ের সঙ্গে ফ্রী থাকে না সেক্ষেত্রে শিক্ষকরাই হতে পারেন আদর্শ বিকল্প. তাদের বুঝতে হবে এই সচেতনতাটুকু তাদের ভালোর জন্যই দরকার। ভাল হয় এ ব্যাপারটা স্কুলের সবচাইতে নীতিবান/আদর্শবান কোন শিক্ষক দিয়ে করলে।
৪. সবশেষে বলব প্রতিটি পরিবারে নৈতিকতা শিক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ পরিবার প্রধানদের। নৈতিক ভাবে শিক্ষিত কোনো ছেলেমেয়ে এমন প্রতারণা করতে পারে না বলেই আমার বিশ্বাস।
সবশেষে আপনাদের কাছে সুচিন্তিত মতামত আশা করছি এর থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


