দিল্লির অনুধাবন করার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুততায় ঢাকা নৃত্য করতে প্রস্তুত-এই শিরোনামে ভারতীয় দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড গতকাল একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। জ্যোতি মালহোত্রা তার এই নিবন্ধে কিছুটা আক্ষেপের সুরে লিখেছেন, ঢাকা যখন ভারতকে ট্রানজিট দিচ্ছে এবং আরও অনেক কিছু দিতে আগ বাড়িয়ে আছে তখন কিনা নয়া দিল্লি পাকিস্তানের দিকেই তাকিয়ে আছে। তাকে নিয়েই ব্যস্ত আছে। জ্যোতি মালহোত্রা নয়া দিল্লিভিত্তিক একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত তিনি দৈনিক দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এরপর থেকে তিনি খালিজ টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দিল্লির দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় লিখছেন।
মালহোত্রার ভাষায়, ‘ঢাকা প্রকৃতপক্ষে পর্দার আড়ালে ইতিমধ্যেই অনেক কিছু করে ফেলেছে। ভারত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে ভারি মেশিনারিজ পাঠাচ্ছে ক্ষুদ্র বন্দর আশুগঞ্জে। এলাকাটি আখাউড়া নামের বাংলাদেশী শহরে, যেটি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে মাত্র ১০ কি.মি. দূরে। রেকর্ডে রাখছি, আমাদের চোখের আড়ালে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই ট্রানজিট নিতে শুরু করেছে। এবং এটা এমনই একটি ঘটনা যা একাত্তরে বাংলাদেশ একটি মুক্ত দেশে পরিণত হওয়ার পর এই প্রথম।’
তার কথায়, ভারত-কিংবা বলা চলে অন্তত বিদেশ মন্ত্রণালয় এবং সেই সঙ্গে দিল্লি ভিত্তিক পাকিস্তান নিয়ে মেতে থাকা মিডিয়া এখন পাকিস্তানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানী খারকে অভ্যর্থনা জানাতে মশগুল রয়েছে। হিনা ভারতে তার প্রথম সফরে আসছেন বুধবার। কিন্তু সত্য হলেও, ভারতের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ পাকা করতে বাংলাদেশ বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। অথচ এদিকে তেমন কারও কোন মনোযোগ নেই। এমনকি গণমাধ্যমে এর তেমন প্রচার প্রচারণাও নেই।
জ্যোতি মালহোত্রা লিখেছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তে হাট কিংবা বাজারের ধারণা নতুন কিছু নয়। এটা বহু বছর ধরে টেবিলে পড়েছিল। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যারাই দায়িত্ব পালন করেছেন তারা কখনও মেঘালয় ও ত্রিপুরা সন্নিহিত দরিদ্রতর প্রতিবেশীদের কাছে যেতে চাননি। তারা সবসময় আমেরিকা ও ইউরোপের মতো ধনী দেশগুলোকে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন। বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন যে, বাণিজ্যমন্ত্রী গত সপ্তাহে যে মেঘালয়ের কলাইচরে গেলেন সেটা প্রশংসনীয়। তারা একই সঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, ভারতের এখন উচিত বস্ত্রখাতের বুলেট কামড়ে ধরা। লবিস্টদের উপেক্ষা করা। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়ে বস্ত্রশিল্পে উন্নত। ভারতের উচিত হবে তাদের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য চালু করা।
মালহোত্রা এরপর লেখেন, ভারত যদিও বছরে আট থেকে দশ মিলিয়ন পিস তৈরী পোশাক বিনা শুল্কে আমদানি করে থাকে তবুও বাংলাদেশ সুখী নয়। কারণ তাদের আগ্রহ সত্ত্বেও বাংলাদেশের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি করতে চায় না দিল্লি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারেই চট্টগ্রাম বন্দর ভারতকে ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়েছেন। এটা এমন একটি ইস্যু যা দিতে বাংলাদেশ ১৯৭১ সাল থেকে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের জন্য হয়তো এখন এর উপযুক্ত শুভেচ্ছা ফিরিয়ে দেয়ার সময়।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





