somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রমজানকে মমতাজ : চঞ্চল আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link
আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। কিন্তু বিশ্বাস করো আমি ওকে বিয়ে করিনি। তুমি অনেক দিন বাসায় না আসায় মানুষ নানা কথা বলেছে। তুমি বাসায় এলে সমস্যা থাকবে না। এ অনুনয় মমতাজের রমজান আলীর কাছে। তার গোপন বিয়ের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বড্ড বিপাকে আছেন তিনি। বাইরে যাওয়া প্রায় বন্ধ। স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়ে চঞ্চলকে বিয়ে করা তার সংসদ সদস্য পদও হুমকির মুখে। কারণ, তিনি এমপি হওয়ার সময় ফরমে স্বামীর নাম মো. রমজান আলীই লিখেছেন। এখন ক্যারিয়ার ধরে রাখার জন্য পাশে চাইছেন রমজান আলীকে। কাতর হয়ে কাছে ডাকছেন। রমজান আলী গতকাল মানবজমিনকে বলেন, মমতাজ আমাকে ফোন করে এসব কথা বলছে। নানা অনুনয় বিনয় করছে। মমতাজের মন ভোলানো কথায় আমি ভুলছি না। কারণ, সে আমাকে বলছে চঞ্চলকে সে বিয়ে করেনি। এটা কেমন করে বিশ্বাস করি। সে যদি বিয়ে না-ই করবে তাহলে কেন সে এখনও হাসপাতাল থেকে চঞ্চলকে বের করে দিচ্ছে না। চাকরি থেকে বাদ দিচ্ছে না। মমতাজের ক্যারিয়ারের জন্য আমি কিনা করেছি। কই সে তো এ জন্য কোন কৃতজ্ঞতা দেখায়নি। উল্টো আমি জেলে যাওয়ার পর কর্মচারীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। আমি বিভিন্ন সময়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা শুনেছি, কিন্তু বিশ্বাস করিনি। এখন তো মনে হয় ভুলই হয়েছে।
রমজান আলী বলেন, মমতাজকে রাস্তা থেকে তুলে এনেছিলাম। কিন্তু তার মানসিকতার উন্নতি হয়নি। তা হলে সে চঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক করতে পারতো না। এটা রুচিরও ব্যাপার। কারণ, আমি হাসপাতালের জন্য চঞ্চলকে নয় হাজার টাকা বেতনে চাকরি দিয়েছিলাম। পরে ও আমার পায়ে ধরে বেতন এক হাজার টাকা বাড়িয়ে নিয়েছিল। অধীনস্থ একজন কর্মচারীর সঙ্গে ও কেমন করে এমন করলো এটাই আমার প্রশ্ন। শুনেছি চঞ্চলকে মমতাজ বিয়ে করেছে। যদি তারা বিয়ে করে থাকে তাহলে তো আর কোন কথা নেই। মমতাজকে আমি আর কোনদিন ঘরে তুলে নেবো না। আর যদি সে প্রমাণ করতে পারে চঞ্চলকে সে বিয়ে করেনি, তার সঙ্গে তার অনৈতিক কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি, তাহলে আমি ওকে ঘরে আনবো। কারণ মমতাজকে আমি ভালবাসি। ভালবেসে ওর জন্য কিনা করেছি। কিন্তু ও কি প্রতিদান দিলো? এসব ঘটনার পর মমতাজের সঙ্গে আমার আর সংসার করার ইচ্ছা নেই। কিন্তু আমার প্রথম স্ত্রী ওকে ডিভোর্স দিতে দেয় না। বলে, তুমি ওকে ডিভোর্স দিলে ওর কোন ক্ষতি হবে না। এটাতে ওর মান সম্মান যাবে না। কিন্তু তুমি ওকে ছেড়ে দিলে আমার সন্তানদের ক্ষতি হবে। আমাদের পরিবারের মান সম্মান নষ্ট হবে। তোমাকে আঙুল তুলে খারাপ কথা বলবে। দু’টি মেয়ের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। কারণ, ওরা সমাজে নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন হবে। রমজান বলেন, আমি কখনও মমতজাকে ডিভোর্স দিতে চাইনি। এখনও চাই না। সে চঞ্চলকে বিয়ে করলেও আমি ডিভোর্স দেবো না। কারণ, আমি তাকে ডিভোর্স দিলে আমার মেয়েরা বড় হলে বলবে আমার বাবা আমার মাকে ডিভোর্স দিয়েছে। এটা ভাল হবে না। চঞ্চলের সঙ্গে মমতাজের বিয়ে হয়ে থাকলে এ বিয়ের কোন বৈধতা নেই। এ সম্পর্ক সম্পূর্ণ অনৈতিক। তারা জেনা করেছে। কারণ, ইসলামে ও আইনেও কোন ভাবেই একজন স্বামী বর্তমান থাকার পর তাকে রেখে অন্য কোন পুরুষকে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করতে পারে না। মমতাজ চঞ্চলকে বিয়ে করার আগে আমাকে যদি কোন লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতো? তাও হতো। সে তা-ও করেনি। আমিও দেইনি। তাহলে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক এখনও বহাল আছে।
মমতাজের সঙ্গে চঞ্চলের সম্পর্ক নিয়ে রমজান আলী বলেন, আমি ওয়ান-ইলেভেনে কারাগারে থাকার সময়ই তারা একে অপরের সঙ্গে মেশার সুযোগ পায়। তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যে নারী তার স্বামীর অবর্তমানে স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে পারে না, অন্য পুরুষের প্রতি দুর্বল হয়ে যায়, তার সম্পর্কে আমি আর কি বলতে পারি। রমজান বলেন, মমতাজের পক্ষে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। কারণ, আমাদের বিয়ের খবরটিও সে গোপন করেছিল। ২০০০ সালের দিকে আমাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। ওই বিয়ের আগে আমাদের মধ্যে গোপন বিয়ে হয়েছিল। একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে আমরা তখন বিয়ে করি। ওই বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখা হয় তার ইচ্ছা অনুযায়ী। তাকে বিয়ে করার কারণে আমার ভাইয়েরা সবাই ভিন্ন হয়ে যায়। আমাদের যৌথ পরিবার ভেঙে খান খান হয়ে যায়। তারা মমতাজকে বিয়ে না করার কথা বলেছিল। আজকে বুঝি তাকে বিয়ে করাটা ভুল হয়েছিল। আমি তাকে বিয়ে করেছিলাম কারণ তার মধ্যে একটা প্রতিভা ছিল। ওই প্রতিভাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিলাম। ও একজন বড় শিল্পী হবে। এ কারণে তার জন্য সব করেছি। তাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এমন কোন কাজ নেই যা করিনি। সে এর মূল্যায়ন করতে পারেনি।
রমজান জানান, তাদের বিয়েতে দেন মোহরানা হয়েছিল মাত্র পাঁচ লাখ টাকা। এটাও মমতাজের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে। এক সময় মমতাজের টাকা ছিল না। এখন সে কোটি কোটি টাকার মালিক। কিন্তু তার টাকার প্রতি আমার কোন লোভ নেই। মমতাজ ও রমজানের দু’টি মেয়ে রয়েছে। ওই দুই মেয়ে মমতাজের কাছেই থাকে। বড় মেয়ে কেজি টুতে পড়ে। আর ছোটটি এখনও পড়ে না। মমতাজকে বিয়ে করার পর রমজান আলী গুলশানে থাকতেন। পরে চলে যান ডিওএইচএস-এর বাসায়। সেখানেই থাকতেন। মাঝে মাঝে মানিকগঞ্জে থাকতেন।
রমজান বলেন, মমতাজ আমার সংসারে ফিরে না আসতে চাইলেও ক্ষতি নেই। আমি আমার দুই মেয়েকে ফেরত চাইবো। স্বাভাবিক ভাবে সে দুই মেয়ে আমাকে ফেরত দিলে দেবে? না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো। আমি তার মতো নারীর কাছে আমার সন্তানদের রাখতে চাই না। তিনি বলেন, মমতাজ আমাকে সোমবার দিন ফোন করে বললো, সে বিয়ে করেনি। সে মিথ্যা বলে নাই? এটা কেমন করে বিশ্বাস করি? কারণ, সে মিথ্যা কথা বলে অনেক। তার মিথ্যা বলাটা আমি সহ্য করতে পারি না। আমি যে কখনও মিথ্যা বলি না তা নয়। তবে এর সীমা আছে।
মমতাজের সঙ্গে তার বিরোধের কথা বলতে গিয়ে রমজান আলী বলেন, আমি যখন কারাগারে ছিলাম তখন চঞ্চলের সঙ্গে সখ্য হয় এটা শুনেছিলাম। তারপরও ভেবেছিলাম ও জনপ্রিয় মানুষ। অপবাদ হতে পারে। গুজবও হতে পারে। এ কারণে ওই সময় কারাগার থেকে বের হয়ে মমতাজের ডিওএইচএস-এর বাসায় তিন দিন ছিলাম। ওটাই তার সঙ্গে আমার শেষ থাকা। এরপর আমি যাইনি, থাকিওনি। কারণ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আমার মা মারা যান। মা মারা গেলে মমতাজ আমার মায়ের লাশটি পর্যন্ত দেখতে যায়নি। তখন থেকে ওর প্রতি আমার রাগ বাড়তে থাকে। এরপর আমার একমাত্র ছেলে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়- এক বছর দুই মাস আগে। ওই সময়ও সে আমার ছেলের লাশ দেখতে আসেনি। একবার শুধু স্কয়ার হাসপাতালে দেখতে এসেছিল। এই দু’টি মৃত্যুর ঘটনা আমার কাছ থেকে ওকে দূরে সরিয়ে দেয়। আমার মা ও ছেলের লাশ দেখতে সে আসবে না এটা মানতে পারিনি। এ ঘটনায় আমি ভীষণ কষ্ট পাই। যা আজও মন থেকে মুছে ফেলতে পারছি না। বারবার ভেবেছি ওর কাছে যাবো। কিন্তু যেতে পারিনি। রাগ হয়েছে ভীষণ। অভিমানও করেছি। এর পর থেকে আমি আর ওর ওখানে যাই না। ও আর কখনও মানিকগঞ্জে আমার বাড়িতে আসেনি। এরপর সে মানিকগঞ্জে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসেছে, কিন্তু বাড়িতে যায়নি। তবে তার সঙ্গে আমার থাকা না হলেও, তার বাসায় আমি না গেলেও, তার সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। টেলিফোনে কথা হয়। ও ফোন করে। আমিও করি। মানবজমিন-এ রিপোর্ট প্রকাশের পর ও নিজে থেকেই আমাকে ফোন করে। অনেক কথা বলে। এখন আমি দোদুল্যমানতায় আছি। আর ভাবছি কি করে ও চঞ্চলের মতো একটা ছেলেকে...। আমাকে ওর যদি অপছন্দই ছিল, ভালই না লাগতো তাহলে ও আমাকে বলতে পারতো। সমস্যার সুন্দর সমাধান হতে পারতো। তা করেনি। আমার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। এখন আবার সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হয়ে আমাকে ডাকছে তাকে শেল্টার দেয়ার জন্য। আমি ফিরে গেলে তার সকল বদনাম ঘুচে যাবে এই মনে করে সে আমাকে তার বাসায় ডাকছে। আমি কি এটা বুঝি না? যখন তার বিয়ের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তার প্রতি আমার এক ধরনের ঘৃণা জন্মেছে। তার প্রতি ভালবাসায়ও চিড় ধরেছে। এতদিন রাগ করে থাকলেও ওকে ভালবাসতাম। অভিমানে কাছে যাইনি। তাই বলে ঘৃণা করতাম না। এখন করি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×