ক্ষয়ে আসা চাঁদের রুপালী চাদরে অদ্ভুত সুন্দর দেখায় চারিদিক। রাতজাগা পাখী ডাকে দূরে কোথাও। মৃদু বাতাসে দুলতে থাকে গাছের পাতা। মায়াময় আলোআঁধারির বুক চীরে দপ করে জ্বলে ওঠে এক টুকরো আলো, শোনা যায় পাথরে পাথর ঘষার মৃদু শব্দ। প্রকৃতি আবারও ডুবে যায় গাঢ় অন্ধকারে, শুধু ছেলেটির হাতে জ্বলতে থাকে গনগনে লাল আগুন। শত বছরের তৃষ্ণার্ত ঠোঁট ছুঁয়ে যায় সে আগুনে। প্রাচীন গল্পের দৈত্যের ভয়ঙ্কর চোখের মত ঝিকিয়ে ওঠে আগুন, যেন পুড়িয়ে দিতে চায় সমস্ত পৃথিবী। শুকনো কন্ঠনালী বেয়ে নেমে আসে মৃত্যুদূত, ফুসফুসের গোলাপী কোমলতাকে তার বড় অপছন্দ। হাজার বছর আগে যেমন করে পৃথিবীতে নেমে এসেছিল ছোট্ট এক উল্কাপিন্ড, প্রথিত করেছিল নিজেকে পৃথিবীর শ্যামলিমায়, সেদিন আকাশ ঢেকেছিল গাঢ় মেঘে, অনুত্তাপে বিলীন হয়েছিল বহু জীবনের অস্তিত্ব, ঠিক তেমন করেই গোলাপী বুকের ভেতরটাকে জ্বালিয়ে দেবে নিকোটিনের বিষ। পার্থক্য শুধু একটাই, উল্কাপতন ইচ্ছাকৃত ছিলনা।
যখন বুকের ভেতরটা সবুজ ছিল, সেখানে কেউ একজন ক্লান্তিহীন খুঁজতো প্রজাপতি, ছেলেটা নিষ্পলক চেয়ে দেখতো। আঁজলা ভরে জল তুলে দিতো ভালবাসার ঠোঁটে, নাম না জানা বুনো ফুলের মালায় জড়াত তার খোঁপা, দু’হাত ভর্তি করে পড়িয়ে দিত কাঁচের চুড়ি, চুমুর টিপ এঁকে দিত কপালে, লজ্জামাখা অস্ফুট উচ্চারনে বলতো – ভালবাসি - ভালবাসি - ভালবাসি।
নিকষ কালো অন্ধকারের মাঝে ডুবে গেছে পৃথিবী আবার, না না, ছেলেটির চোখের জল কেউ দেখেনি আজ, যেমনটি দেখেনি তার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। শুধু মৃত্যুদূত রেখে গেছে তার নিঁখুত হাতের ছাপ, ছেলেটির জ্বলতে থাকা বুকের পাঁজরে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


