somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছোট্ট বাবুটা (১)

১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার বাবুটার জন্মদিন ১৭ই জুন। দেখতে দেখতে তার ৫ বছর বয়স হয়ে গেল তার। বিড়ালের বাচ্চার মত ছোট্ট আর তুলতুলা বাবুটা এখন স্কুলে পড়ে :-* ভাবতেই কেমন লাগে। আমার বাবু, একটা ব্যাগ ঘাড়ে ঝুলিয়ে, টিফিন বক্স আর পানির পট নিয়ে স্কুলে যায় :P খিক খিক খিক ...

যতই কাজের চাপ থাকুক, আজ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত আমি প্রতিদিন আমার বাবুটাকে নিয়ে কিছু না কিছু লিখবো।

১৬ই জুন খুব সকালে আমি আর বাবুর মা হাঁটতে বেড়িয়েছিলাম। বিশাল একটা পেট নিয়ে বেচারী কিভাবে হাটাহাটি করতো সেটা আজও আমার কাছে একটা বিস্ময়। যা হোক ... যেদিন আমরা গল্প করতে করতে অনেক বেশী পথ চলে গিয়েছিলাম। সে হাপিয়ে ওঠার পর যখন টের পেলাম, তখন কিছুই করার নেই। শহরতলীতে গ্রামের মত সেই রাস্তায় রিক্সা তো চলে কিন্তু তাকে রিক্সায় ওঠানো উচিৎ হবেনা কিছুতেই। তাই পথের পাশে মাঠের উপর বেশ কিছুক্ষন বসে থেকে আমরা নিরাপদেই ফিরে আসি বাসায়।

রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে ওর পেইন ওঠে। সাথে সাথে সব কয়টা হাসপাতাল আর ক্লিনিকে ফোন করা হয় এম্বুলেন্সের জন্য, কিন্তু একঘন্টার কাছাকাছি হয়ে গেলেও কোন এম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। বাবু হবার আনুমানিক ডেট ছিল আরও ১ সপ্তাহ পরে, সে কারনে আমার গাড়ী গ্যারেজে দেয়া ছিল, যেন প্রয়োজনের সময় ঝামেলা না করে। কিন্তু ঝামেলাটা সে রাতেই হয়ে গেলো :| পরে পাশের বাসার মাইক্রোবাসে করে তাকে ক্লিনিকে নেয়া হয়েছিল।



সেই রাতে সারা রাত কেউ এক ফোটা ঘুমায়নি। ডাক্তার আগেই বলে দিয়েছিলেন সিজার করা ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু রাত ১১টা বেজে যাওয়ায় ডাক্তারকে কেউ খবর দেয়নি। ওদিকে বাবুর মা প্রচন্ড ব্যাথায় ... (সে যন্ত্রনাকে প্রকাশ করার মত শব্দ পৃথিবীতে নেই)। সেই সময় বাচ্চার অবস্থান দেখার জন্য দু'বার আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়, কিন্তু অর্ধ ঘুমন্ত আলট্রাসনোলজিস্ট কোন সমস্যা দেখতে পাননি। সকাল ৬টায় ডাক্তার সাহেবা আসেন, আরেকটি আলট্রাসনো করেই উনি ওটি (OT) রেডী করতে বলেন। তখন বাবুর মা'র অক্সিজেন চলছে, জ্ঞ্যন নেই প্রায়। খুব দ্রুত তাকে ওটিতে নেয়া হয় ... ১৫/২০ মিনিট (আমার কাছে কয়েক যুগ) পরে মা (বাবুর নানী) বলেন বাচ্চার কান্না শোনা যাচ্ছে, আমার মা, বাবা, বোন তখনও রাস্তায়। আমি খুব অবাক হয়ে যাই প্রথমে, টেনশনের কারনে ভুলেই গিয়েছিলাম যে একটা পুতুল সাইজের ছোট্ট বাবু আসবে, সেইটা আবার কান্না করবে :((

মিনিট পাঁচেক পর নার্স বাবুকে নিয়ে বের হয়ে এলেন, মা তাকে জড়িয়ে নিলেন আমার বাবার লুঙ্গি দিয়ে (জানিনা এটা কেমন নিয়ম :-*) ... তারপর দিলেন আমার কোলে। খুব সামান্য বৃষ্টি ছিল সেই সময়ে, মেঘ ছিল প্রচুর আকাশে, সকালের মৃদু আলোয় সেই মুহুর্তটা কেমন যেন স্বপ্নের মত লাগছিল আমার। ছোট্ট একটা বাবু, লাল টুকটুকে, তার ছোট্ট হাতের মুঠি দিয়ে আমার শার্টের পকেট খামচে ধরে। আমি তাকে বুকের সাথে জাপটে ধরে রাখি, কানে কানে আজান দেই, সুরা বলি, আল্লাহর কাছে লাখ কোটি শুকরিয়া জানাই। তারপর ওকে দিয়ে দেই মা'র কোলে। বাবুর মা তখনও ওটি'তে। ডাক্তার বের হয়ে আসেন ওটি থেকে। কনগ্রেচুলেট করে বলেন - আপনার কপাল ভাল, আর ২০/২৫ মিনিট দেরী হলে কাউকেই বাঁচান যেত না।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩৭
৫৮টি মন্তব্য ৫৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×