
আগের পর্বঃ আমার ছোট্ট বাবুটা (৬)
এমনি করে আমার ছোট্ট বাবুটা আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলো। প্রতিদিন সে একটু করে শক্ত হয়, একটু বুদ্ধি বাড়ে তার। একদিন আমি খুব ক্লান্ত হয়ে দুপুর বেলাতে ওকে পাশে নিয়ে ঘুমিয়ে যাই। সে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার পাপা ঘুমাচ্ছে। সে হাত পা নেড়ে আমার ঘুম ভাঙ্গাতে চেষ্টা করে, কিন্তু আমি উঠিনা দেখে সে হামাগুড়ি দেয়ার মত করে আমার বুকের ওপর উঠে আসে। চোখ খুলেই দেখি বাবু ফোকলা দাঁতে হাসছে, আসলে তখন পর্যন্ত একটা দাঁতও ওঠেনি তার। কি যে মজা লাগে ওর হাসি দেখতে।
তখন থেকেই এটা আমার আর বাবুর প্রিয় খেলা হয়ে যায়, আমি চোখ বন্ধ করে থাকবো, সে আমার বুকের উপর এসে উঠবে, আমার নাকে কামড় দেবে, চোখের মধ্যে আঙ্গুল দিয়ে গুতাবে, চুল ধরে টানবে, মাড়ি দিয়ে কামড়ে আমার আঙ্গুল খেয়ে ফেলার চেষ্টা করবে। আমার শার্টের পকেটের প্রতি তার চরম আকর্ষন, আমি সেখানে চকলেট আর লজেন্স রাখি - সে বুঝে গিয়েছিল। একদিন পকেটে কিছু রাখিনি, সে অনেক্ষন হাতাহাতি করে কিছু না পেয়ে খুব করুন করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে, আমার বিকের মধ্যে কেমন করে ওঠে। সাথে সাথে ওকে নিয়ে বাইরে গিয়ে অনেক কিছু কিনে দেই।

আমাদের একটা ছড়া ছিল, সেটা বললেই বাবু হাসতে থাকতো, এখানে চলে আসার পরে ওই ছড়াটাই ফোনের স্পিকারে শুনে সে আমাকে চিনতে পেরেছিল।
পাপাটা, পাপুটা ছোট্টটা রে ...
দুষ্টুটা, পুষ্টুটা, উষ্টুটা রে ...
একদিন কেন যেন বাবু কান্না করছিল, আমি তখন এই ছড়াটা বলি, আর সে কান্না বাদ দিয়ে হাসতে শুরু করে, আমার ছড়া বলা বন্ধ হলেই সে আবার কান্না শুরু করে
হঠাৎ করেই যেন অক্টোবর মাসটাও শেষ হয়ে যায়। আমার ফ্লাইট নভেম্বরের ৭ তারিখে। তখন ছিলো রোজার সময়। বাবু আমার সাথে সেহেরী আর ইফতার করতো
এভাবেই এক সময় আমার চলে আসার দিনটা এসে পড়ে। ৭ তারিখে আমার ফ্লাইট ছিল রাতে, সারাদিন বাবু আমার কোল থেকে নামেনি, ঘুমায়ওনি সেদিন বেশী। এয়ারপোর্টে চেকইন করি আমি ওকে কোলে নিয়ে। যখন ভেতরে যাবার ঘোষনা দেয়া হয়, তখন একেবারে শেষ সময় আমি বাবুকে আব্বুর কোলে দিয়ে দেই। বাবু যেতে চায়না। আমার শার্টের পকেট খামচে ধরে রাখে।

আমার ছোট্ট বাবুটা - সিরিজের এটাই আপাতত শেষ পর্ব। আগামীকাল আমার বাবুটার জন্মদিন। সবাই দোয়া করবেন ওর জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



