somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অসম্পুর্ণ গল্প ... (২)

২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সন্ধে মিলিয়ে গেছে কিছুক্ষন আগে। প্রতিবেশীদের আনাগোনাও কমে গেছে ততক্ষনে। মফস্বল শহরে রাত নেমে আসে দ্রুতই। এমন সময় সবুজ একটি জীপ গাড়ী এসে থামে সিও সাহেবের বাসার সামনে। গাড়ী থেকে নেমে আসেন বাচ্চাটির বাবা। বাচ্চা হবার খবর পেয়েই কর্মস্থল থেকে রওনা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি, পৌছুলেন সন্ধ্যের পরে। ঘরে ঢুকে সৌজন্য বিনিময়ের পর তিনি সোজা চলে গেলেন বাচ্চাটার মা'র ঘরে। কিন্তু সাত আট ঘন্টা গাড়ী চালানোর পরে তার কোলে তখনই বাচ্চাটা দিতে নারাজ জাহানারা বেগম, তাই কাপড় পাল্টে গোসলে ঢুকলেন তিনি। গোসল শেষে নামাজ আদায় করে বাচ্চাকে দেখতে চাইলেন। জায়নামাজে বসা অবস্থাতেই তার কোলে তুলে দেয়া হলো তার প্রথম সন্তানটিকে। তুলোয় মোড়ানো ছোট্ট বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো এ যেন তারই প্রতিচ্ছবি, সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললেন বাবা, এই কান্নার কারনটা অনেকের কাছেই অজানা। কেবল একজন বাবাই বলতে পারবেন তার সেই সময়ের অনুভুতি।

রাত গভীর হতে থাকে আর সেই সাথে বাড়তে থাকে জাহানারা বেগমের আশঙ্কা। অন্ধকার আজ যেন ভয়াল দৈত্য দানবের রুপ নিয়ে এগিয়ে আসে তার কাছে। না - কোন ভাবেই হার মানবেননা তিনি, এক মুহুর্তের জন্য কোল থেকে নামাবেননা আত্মজার সন্তানটিকে।

খাটের ওপর হেলান দিয়ে বসে থাকায় সারা দিনের ক্লান্তিতে শেষ রাতের দিকে চোখের পাতা বুঁজে আসে তার। চমকে জেগে ওঠেন বাচ্চাটার সামান্য নড়াচড়ায়। তাকিয়ে দেখেন নীল হয়ে গেছে বাচ্চাটা, শ্বাস নিতে পারছেনা কিছুতেই। সেই মুহুর্তে জাহানারা অনুভব করলেন যেন তার চারপাশের পরিবেশ পালটে গেছে, নিজেকে আবিস্কার করলেন খোলা এক মাঠের ভেতর ... যতদুর চোখ যায় ধুধু প্রান্তর ... কোথাও কেউ নেই। ভয় আর আসঙ্কার শীতল এক স্রোত নেমে গেল তার মেরুদন্ড বেয়ে। সেই মুহুর্তে প্রথম যে চিন্তাটি মাথায় এলো তার, তা হলো যে কোন ভাবে বাচ্চার শ্বাস প্রশ্বাস চালু করতে হবে খুব দ্রুত। মুখ ভর্তি বাতাস টেনে নিয়ে খুব অল্প অল্প করে বাচ্চাটার মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্তিম শ্বাস প্রশ্বাস দেয়া শুরু করলেন তিনি। অল্পক্ষন পরেই বুঝতে পারলেন আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসছে শক্ত হয়ে যাওয়া বাচ্চাটা। ছোট্ট বুকটা স্বাভাবিক ছন্দে ওঠানামা করতে শুরু করেছে আবারও। শ্বাস নিতে পারছে বাচ্চাটা এখন। ক্রমে নীলচে ভাবটা মিলিয়ে গেল বাচ্চার গোলাপী শরীর থেকে। জাহানারা নিজেও ফিরে এলেন স্বাভাবিক পৃথিবীতে। বাকি রাতটুকুতে আর কোন সমস্যা হয়নি বাচ্চাটার।

পরের ছয়টা দিন কেটে গেল একই ভাবে। এই কয়েক দিনে নানীর বুকের মাঝে একটু একটু করে বেড়ে উঠেছে বাচ্চাটা, ক্ষিধে পেলে ঘুম থেকে জেগে উঠে চিৎকার করেছে, খেতে খেতেই ঘুমিয়ে গেছে আবার। জন্মের দ্বিতীয় দিন থেকেই দিনে দুই বার করে তাকে দেখে গেছে ডাক্তার। একমাত্র শিশু জন্ডিসের লক্ষন দেখা যাওয়া ছাড়া আর তেমন কোন সমস্যা হয়নি তার। ওটা জন্মের পর সব বাচ্চারই হয়, এতে চিন্তার তেমন কিছুই নেই।

উৎসবের সাজে সেজেছে আজ সেই বাড়ীটা। চারিদিক থেকে এসেছেন আত্নীয় স্বজনেরা, আজ বাচ্চাটার আকিকা। কিন্তু শহরের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের চাইতে সেদিনের অনুষ্ঠানে প্রাধান্য পেয়েছিলো অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটানো গরীব লোকগুলো। আকিকা অনুষ্ঠানের সময় বাচ্চার দাদার পছন্দ করা নামেই নামকরন করা হয় তার। কিন্তু সবার অলক্ষ্যে কিশোরী মা তার সন্তানের নাম দেন 'জয়'। যে নামটির কথা জানতো শুধু সেই মমতাময়ী আর তার সন্তান।

ক্রমশ ...
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:৫৬
৩৫টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×