somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডোলী সাজাকে রাখ্‌না ... ;);)

০৩ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেখতে দেখতে অগাস্টের তৃতীয় দিনটা চলেই এল। অনেকদিন আগে এই দিনে আমার ব্যাচেলার লাইফের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল :(( নিজের বোহেমিয়ান জীবনটাকে বিসর্জন দিয়ে আমি প্রবেশ করেছিলাম নতুন এক জীবনে, দায়িত্ব নিয়েছিলাম আরও একটি জীবনের। পরম নির্ভরতায় যে মেয়েটি একদিন আমার বাড়িয়ে দেয়া হাতটি ধরেছিলো, তার প্রত্যাশা আর স্বপ্ন পূরণের দিন ছিল আজকে।

শুধু আক্‌দ পড়ানো হবে বলে সেদিন বিয়ের আয়োজন তেমন জমকালো কিছু ছিলনা। খুব কাছের কিছু আত্মিয়স্বজন আর প্রতিবেশী বরযাত্রী হয়েছিলেন। আমরা ওর খালার বাসায় দুপুর দুটার দিকে গিয়ে পৌছাই। গেটে ছোটদের দাবী ছিল সামান্যই, একটুকরো বোকা বোকা হাসিতেই কাজ হয়েছিলো :D ওরা তারপর আমাকে নিয়ে গিয়ে বসায় স্টেজে, আর ভাল করে বুঝিয়ে দেয় যে এটা জাস্ট মহড়া, আসল বিপদের দিন সামনে :P

এরপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে খেতে বসি সবাই মিলে। খাবারের বিশাল আয়োজন দেখে মনে হয় "কিসের কি, পাঞ্জাবীর হাতা গুটাইয়া পায়জামা ঢিলা কইরা খাইতে বইসা যাই :P" কিন্তু সবাই তাকিয়ে আছে বেচারা জামাইয়ের দিকে, অতি ভদ্র ভাব ধরে একটু একটু করে খেতে থাকি। আমার মোনের দুঃক্ষ বুঝতে পারে তৃষ্ণা, তিথীর ছোট বোন। কানে কানে বলে - "ভাইয়া, চিন্তার কিছু নাই, আপনার জন্য আমি টিফিন ক্যারিয়ারে দিয়ে দেব ;)" হাফ ছেড়ে বাঁচি :P

খাওয়া দাওয়ার কিছুক্ষন পর কার যেন মনে হয় আমাদের দুজনকে কিছুক্ষন সময় দেয়া উচিৎ। আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় বৌএর ঘরে, তারপর ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দেবার আগে এক নানী কানে কানে বলেন "জাস্ট পাঁচ মিনিট, খালি কথা বলবা, নাথিং এলস ;)"। নিজের কান গরম হয়ে যাওয়ার অনুভিতে টের পাই রিতিমত লাল হয়ে গেছি আমি :P

ঘরে ঢুকে নিজের বউ দেখি। একটা লাল কাপড়ের পুটলী বসে আছে ধবধবে সাদা বিছানায়। এদিক ওদিক তাকিয়ে জিজ্ঞ্যেস করি "আপনে কে? আমার মনে হয় বৌ বদল হইছে :|" বাইরে থেকে সমবেত কন্ঠে হাসির আওয়াজে বুঝতে পারি পোলাপাইন সব দরজায় কান লাগাইয়া বইসা আছে X( এর পরে আর কথা বলা সম্ভব? :P

বিকেল বেলা সালাম পর্ব শেষ করে বাসায় চলে আসি। রাতে মোবাইলে টুকটাক কথা হয় বৌএর সাথে। সেখানেও উৎসুক স্বজনের ভীড়, প্রাইভেসী বলতে কিছু নাই :(( বিয়ের সময় সবচাইতে অসহায় প্রানী থাকে বর নিজে, তার ইচ্ছেতে কিছুই হয়না, সবার ইচ্ছে মতই চলতে হয়, যে যা করতে বলে তাই করতে হয় :((

আজকের দিনটাকে সামনে রেখেই মনে কি পড়ে প্রিয়? সিরিজটা লিখেছিলাম।

ভাল থাকবেন সবাই :):)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:১৪
৬৩টি মন্তব্য ৬৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×