somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বানর এবং তৈলাক্ত বাঁশের গল্প (রিপোষ্ট)

২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এক দেশে ছিল এক অন্ধ বানর। উহার চক্ষ জন্ম হইতেই যথাস্থানে না থকিবার কারনে বানরটির দুর্গতির অন্ত ছিলনা। বানরের এহেন দুর্দশা দেখিয়া কিছু শৃগালের মনে দয়ার উদ্রেক হইলো। উহারা দল বাঁধিয়া বানরটিকে সাহায্য সহযোগিতা করিবার মহান ব্রতে ব্রতী হইলো। বানরও উহাদের চক্ষে পৃথিবী দেখিতে পাইয়া আমোদিত হইতে লাগিলো।

কিছুকাল পরে শৃগালেরা বুঝিতে পারিলো যে ইহা কোন সাধারন বানর নহে। প্রকৃতি উহার চক্ষুদ্বয় কাড়িয়া লইয়া উহাকে বিশেষ আদ্ধাত্বিক ক্ষমতা ও ধারালো নখর প্রদান করিয়াছে। এই সত্য অনুধাবন করিতে পারিয়াই শৃগালবৃন্দ বানরটিকে উহাদের নানাবিধ কর্মে সম্পাদনে অনুঘটকের ন্যায় ব্যাবহার করিতে লাগিলো। যদি শৃগালবৃন্দের সাহিত কাহারও দ্বন্দ্ব লাগিয়া যাইতো, তবে উহারা গভীর রাত্রিতে বানরটিকে ব্যাবহার করিয়া উক্ত ব্যক্তিকে খামচাইয়া দিতো। বানর তো ছিল অন্ধ, উহার জন্য দিবারাত্রী সমান কথা।

এইভাবে সুখে শান্তি ও আমোদ আহ্লাদে উহাদের জীবন কাটিয়া যাইতেছিল। কিছুকাল পরে উক্ত এলাকার পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের বাঁশঝাড়ে বেশ কিছু বাঁশ বয়োপ্রাপ্ত হইলো। এমতাবস্তায় শৃগালদের মনে নতুন খেলা দেখিবার তরে উদ্দিপনার সৃষ্টি হইলো। উহারা পার্শ্ববর্তী তৈলকল হইতে তৈল সংগ্রহ করিয়া একটি পরিপুষ্ট বাঁশের আগাগোড়ায় ভাল করিয়া মাখাইয়া দিলো। এর পরে মজা দেখিবার নিমিত্বে উহারা বানরটিকে উক্ত তৈলাক্ত বাঁশটি বাহিয়া উপরে উঠিয়া বসিবার জন্য অনুনয় করিল। বানর ভাবলো - ইহা নিশ্চই জনকল্যাণমূলক কর্ম, কাজেই সে বিপুল বিক্রমে তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া উপরে উঠিতে লাগিলো। কিন্তু সে যেমনটি ভাবিয়াছিল, কাজটি তেমন সহজ ভাবে সম্পাদিত হইতেছিলনা। তৈলাক্ততার কারনে বানর ২ ফুট উঠিয়া আবার ১ ফুট ১০ ইঞ্চি নামিয়া আসিতেছিল। বানরের এহেন কর্মকাণ্ডতে শৃগালগণ যথেষ্ট আমোদিত হইয়া আপন আপন পশ্চাতদেশ থাবরাইয়া আনন্দ প্রকাশ করিয়া বানরটিকে উৎসাহ প্রদান করিতেছিল।

এমতাবস্তায় কিছুকাল পুর্বে জন্ম লওয়া এক রাখাল বালক দয়া পরবশ হইয়া বানরটিকে ডাকিয়া কহিল - "হে বানর, তুমি অযথা পরিশ্রম করিয়া, শৃগালদের কথায় নাচিয়া তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া উপরে উঠিতেছ, কিছুকাল পরে যখন তুমি বাঁশের সুউচ্চ শিখরে উপনিত হইয়া উপবেশন করিবে, তখন সুতীক্ষ্ণ বাঁশের ফলা তোমার আপন 'পোঁদ' বিদীর্ন করিবে। তখন সামলাইবে কিরুপে?"

=========================================

[ ইহা নিতান্তই একটি গল্প, গল্পের কাহিনী বা চরিত্রের সাথে কারও মিল খুইজা পাওয়া গেলে উহা একটি কাকতাল বলিয়া গন্য হইবে ]
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৪
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×