
সমুদ্র আমার সব সময়েই ভীষন ভাল লাগে। দেশে থাকতে কোনদিন সমুদ্র দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার। সিডনীতে এসে সেই আশা মিটেছে। এখন আমি যে কোন সময় সাগরের ধারে গিয়ে বসে থাকতে পারি। কখনও সাগর আমাকে ডাকে, কখনও আমি নিজে থেকেই যাই। আজও নিজে থেকেই গিয়েছিলাম।
সন্ধার পরে সাগরের রুপ পালটে যায় হঠাৎ করেই। সূর্যের শেষ রক্তিম আলোটুকু মিলিয়ে যাবার পরে সাগর যেন অনেক বেশি আপন হয়ে ওঠে। তখন অনেক কথা বলা যায় সাগরের সাথে। সাগর যেন জবাব দেয় তার নিজস্য ভাষায়। বড় বড় ঢেউ ছুড়ে দিয়ে যেন ভাসিয়ে নিতে চায় সব কস্ট। আলিঙ্গনে বাঁধতে চায় যেন আমাকে। জীবনের হাজারটা শেকলে বাঁধা না থাকলে আমিও হয়তো ফিরিয়ে দিতাম না সাগরের সেই আলিঙ্গন।
ছোটবেলা থেকে একা একা মানুষ আমি। জীবনের যে কয়টা বছর আমি আমার পরিবারের সাথে কাটিয়েছি, তার চাইতে বেশী সময় কাটিয়েছি হোস্টেলের অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। সময় আমাকে শিখিয়েছে নিজে নিজে বেঁচে থাকার কৌশল গুলো। ক্রমে ক্রমে আমি হয়ে উঠেছি পাথরের মতে শক্ত। নির্ভর করতে শিখেছি নিজের ওপরে, আর নির্ভরতা হারিয়েছি অন্য সবার উপর থেকে। আশ্রয় দিতে শিখেছি, আশ্রয় নিতে শিখিনি। অশ্রু মুছিয়ে দিতে শিখেছি, নিজের অশ্রু ছুঁতে দেইনি কাউকেই। এই কারনে অনেকেই বন্ধু হয়েছে আমার, কিন্তু আমি কারও বন্ধু হতে পারিনি।
জীবনের অনেক গুলো দিন পারি দিয়ে এসে একটা সময় আমি বন্ধুহীনতা আর একাকিত্বটা অনূভব করতে পেরেছি। বুঝতে পেরেছি পৃথিবীটাকে আমার নিজের মত করে সাজিয়ে নেয়া সম্ভব না। আমি চাইলেই অনেক কিছু করতে পারি, আবার অনেক কিছুই করতে পারিনা।
অনেক ভূল করেছি এই জীবনে। অনেক বার, অনেক বার। মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি কেউ ফিরিয়ে দিতো আমার জীবনের শেষ পাঁচটা বছর, তা হলে আবার নতুন করে শুরু করতাম আমার জীবন।
তবুও বেঁচে আছি। সুন্দর একটা জীবনের সপ্নটা মরে যায়নি এখন। শেষ হয়ে যায়নি আশা।
আশা নিয়েই তো মানুষ বেচে থাকে, তাই না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




