somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যায় যায় দিন ...

২৬ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৪:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছোট্ট মাথা, ছোট চিন্তা, ছোট্ট ছোট্ট ভুল :(

১.
ছোটবেলায় জীবন অনেক সহজ ছিল। চিন্তা ভাবনা ছিলনা তেমন। সকালে উঠে স্কুলে যাওয়াটা একটা যন্ত্রণার ব্যাপার ছিল। ছোট্ট মাথা, ছোট বুদ্ধি। একদিন মা ডেকে তোলার আগেই ঘুম ভেঙ্গে গেল, ভাবলাম লুকিয়ে থাকি, স্কুলে যাওয়া লাগবে না। সাথে সাথে লুকিয়ে পড়লাম খাটের নীচে। একটু পর মা এসে আর খুঁজে পান না আমাকে। আমি তো মহা খুশী। কিন্তু আমার এই খুশী বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না, এক সময় মা কান ধরে খাটের নীচ থেকে টেনে বের করলেন। তারপর আমি কাঁদতে কাঁদতে উঠে বসলাম স্কুল ভ্যানে :(

২.
একটু বড় হয়েছি তখন। বাসে করে স্কুলে যাই। একদিন এলাকার আরও কয়েকজন মিলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে গেলাম শ্যামলী হলে ছবি দেখতে। একটু ভয় ভয় করছিল। কেউ যদি দেখে ফেলে। ছবিটা ছিল জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চন আর দিতির একটা ছবি। সুন্দর একটা গান ছিল "ভেঙ্গেছে পিঞ্জর, মেলেছে ডানা, উড়েছে পাখী, পথ অচেনা ..."। ভালই লাগল ছবিটা। ছবি দেখে ভালয় ভালয় বের হলাম হল থেকে, এবার বাসে করে চলে যাব কল্যাণপুরে। মা কে বলবো যে স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেছে। কঠিন বুলেট প্রুফ প্ল্যান। মনের আনন্দে বাসে উঠলাম। বাসের গেট দিয়ে ঢুকেই বাম পাশে যে অগ্নিদৃষ্টিটা দেখলাম, সেটা আমার বাবার। আমার অসুস্থ বাবা পথে গাড়ী নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ওই বাসে করেই বাসায় ফিরছিলেন। ফলাফল ... আর না বলি :(

৩.
বেশ কিছুদিন পর ছোট্ট মাথায় আবার স্কুল পালানোর ভুত চাপলো। আগের বারে শিক্ষা হয়েছে অনেক। তাই এবার ঠিক করলাম বাবার আসা যাওয়ার পথে আর না। সম্পূর্ণ উল্টোদিকে কোথাও যেতে হবে। যাবার একটাই ভাল জায়গা, মিরপুর চিড়িয়াখানা। যেই ভাবে সেই কাজ। স্কুল ব্যাগে ভরে নিলাম এক্সট্রা একটা শার্ট আর জুটিয়েও ফেললাম কয়েকজন সমমনা বন্ধু। সারাদিন হৈহুল্লোর করে বিকেলে বাসায় ফিরবো। চিড়িয়াখানার গেটে দেখা হয়ে গেল এলাকার এক মামার সাথে। উনি উনার বান্ধবীর সাথে ঘুরতে এসেছেন। অন্য শার্ট পড়া দেখে ঠিক বুঝতে পারলেন না যে স্কুল পালিয়েছি। ছোট্ট মাথায় খেললো যেহেতু মামা প্রেম করতে এসেছেন, কাউকে বলবেন না আমাদের এই মোলাকাতের কথা। সুযোগ বুঝে আমিও মামার কাছ থেকে বিশ টাকা নিয়ে নিলাম। তারপর সোজা বাসায়। এর দুই তিন দিন পর আমি আর মা দাঁড়িয়ে আছি আমাদের বারান্দায়। কোত্থেকে হাজির হলেন সেই মামা। আমার তো হার্ট এটাক হবার জোগাড়। এসে আম্মার সাথে কথায় কথায় বলে দিলেন সেদিন চিড়িয়াখানায় দেখা হবার কথা, শুধু চেপে গেলেন তার সঙ্গে থাকা মেয়েটার কথা ... :(

৪.
স্কুলে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার রিপোর্ট কার্ড দেয়া হচ্ছে। সামনের বেঞ্চে বসা এক ছেলে রিপোর্ট কার্ড নিয়ে স্যারের কাছে গিয়ে বলল যে ওর একটা সাবজেক্টে নম্বর ভুল আছে। স্যার রেজাল্ট শিট মিলিয়ে রিপোর্ট কার্ডের নাম্বার কেটে দিয়ে ঠিক করে পাশে ইনিশিয়াল দিয়ে দিলেন। আমরা সবাই পরে দেখলাম কি করা হয়েছে ওর কার্ডে। এদিকে আমি আরবিতে পেয়েছি ০৭। ক্লিন ফেল। এটা দেখলে কপালে নিশ্চিত ধুপ ধাপ পড়বে কয়েকটা। ক্লাস শেষে সংসদ ভবনের এক চিপায় বসে সুন্দর করে ০৭ কেটে ৭০ করে দিয়ে ইনিশিয়াল দিয়ে দিলাম। কাজটা বেশ নিখুঁত হলো। কনফিডেন্স বেড়ে গেল আমার। অংকে পেয়েছি ৩৩ না ৩৪, কেটে নম্বর বাড়িয়ে নিলাম। বাংলা ইংরেজিতেও নম্বর পছন্দ হলো না। কেটে সুন্দর করে নাম্বার বাড়িয়ে দিলাম। কাটাকুটি শেষ হলে দেখি মোটামুটি সব গুলো নাম্বারই কাটাছেড়া করা হয়ে গেছে। কিন্তু তখন তো আর কিছু করার নাই। ঢিল ছুড়ে দেয়া হয়েছে, আটকানোর উপায় নাই। যা হোক, সেই রিপোর্ট কার্ডই তুলে দিলাম মা'র হাতে। সেই রাতে আমার কপালে জুটল বৃষ্টির মত মাইর আর বোনাস হিসেবে পরদিন থেকে আরবির হুজুর আর অংকের মাস্টার :(

আজকে এই পর্যন্ত থাক, আরেকদিন বাকি গল্প বলবো :(
২৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×