somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘবালিকা'র চিঠি

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমাকে বুঝতে পারি খুব। এখন সব কাজ ফেলে বসলাম তোমার জন্য কিছু লিখতে। কি লিখবো? এটা ফাউ প্রশ্ন। আসলে চিঠির সাইজ বাড়ানোর ফন্দি। তোমাকে বুঝতে পারিনা একটুও। এটাও একটা ফাউ কথা... চিঠির সাইজ বাড়ানোর একটা চালিয়াতি। তোমাকে মনে পড়ে কদাচিৎ। যখন ক্লাশ শেষে এককোনে বসে গুটগুট অসময়ে পড়ে থাকি, তখন। যখন কানে বাজে অসময়ের গান, রিক্সার চাকায় ভর করে মধ্যদুপুরে গন্তব্যের নিশানায় চিন্তিত মনে ছুটে চলি, তখন। যখন সারাদিনের কষ্ট পাবার লিষ্টে হাত বুলিয়ে কোথাও কোন লিষ্টি খুঁজে পাইনা, ঠিক তখন।
আলু ভর্তা, মুরগীর মাংস, ডাল... খাওয়া হচ্ছে এ ক'দিন। সবচে' কঠিন মুরগীটা। এখনো খাচ্ছি। কাল দুপুরে শেষ হবে। পরশু যখন বাজার করতে গেলাম রাজিবকে জোর করে ধরে, তখন কি যে মুসিবত...। আমি দাম জানিনা একটা জিনিসেরও। মুরগী কিনতে গেলাম। দেশি মুরগীযে পার পিস বিক্রি হয় তা জানতাম না। মাঝারী একটা পছন্দ করে দাম জিজ্ঞেস করলে দোকানি বললো-
--- ১৮০ টাকা!
--- মুরগীর দাম নাকি, আপনাকে সহ?
তিনি না শুনার ভান করে মুরগী নাড়াচাড়া করছেন।
আমি বললাম- ভাই, মুরগীর দিকে না, আমার দিকে তাকিয়ে দাম বলেন। দোকানি বললেন-
--- কিযে বলেন ভাই। লাভ খুব কম।
--- দেখছেন ছাত্র মানুষ, আর আপনি চাইলেন- ১৮০? তিনি হাসলেন- বললেন-
--- যান আপনার জন্য ১৫০ টাকা।
আমি কখনো বাজার করিনি। কোথাও না। দরকষাকষি করতে খুব ইচ্ছা করলো, করলাম। শেষমেষ ১৪০ টাকায় নিলাম। দরকষাকষির সময় ভালোই লাগছিল। কপালে ফোটাফোটা ঘাম জমেছে, ভ্রু কুচকে গেছে, পাকা কাস্টমার সেজে বসেছিযে... আমি নিজেকেই মাঝে মাঝে চিনতে পারিনে। টমেটো কনতে গেলাম ৬০ টাকা কেজি ভেবে। গিয়ে দেখি হয়েছে ১৬ টাকা! দর কষাকষি করে কিনলাম ১৩ টাকায়...। আলু কিনেছি ১১টাকায়। বেশি মনে হয় ঠকিনি, প্রথম প্রথমতো :) ফেরার সময়... রাজিব আমার দিকে বার বার তাকাচ্ছে। আমার খুব লজ্জা লাগছিল। নিজেকে নতুন বর, নতুন বর লাগছিল। আমি বিয়ে করলে কখনো বাজার টাজার করবো না। তবে, দর কষাকষিতে খুব আরাম আরাম ভাব আছে। এখানেও হার/জিতের খেলা!
কলেজে কয়েকজন রেসিপি দিল। কয়েকজন হাতে কলমে শেখানোর চেষ্টা করেছে, আমি গম্ভির ভাবে সেসব মুখস্ত করার ভান করছিলাম। বেশিক্ষন পারিনি, একসময় হেসেই দিলাম, সবাই খাতা দিয়ে মাথায় বাড়ি দিয়ে আমাকে বের করে দেয় আরকি...।

নোট: পোষ্ট বাড়ানোর ফন্দি, জীবিত কারো সহিত মিলিয়া গেলে স্রেফ কাকতালীয় হিসাবে ধরে নিতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:২১
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×